স্মরণীয় ৬ জয়

আহসান হাবীব সুমন

প্রকাশ: ১০ অক্টোবর ২০২৩, ০৫:২৩ পিএম

বাংলাদেশের সেই ঐতিহাসিক জয়। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের সেই ঐতিহাসিক জয়। ছবি: সংগৃহীত

ক্রিকেট মানেই গৌরবময় অনিশ্চয়তার খেলা। সীমিত ওভারের ক্রিকেটে অনিশ্চয়তা আর উত্তেজনা মাঝে মধ্যে যেন সব সীমা ছাড়ায়। নির্দিষ্ট ওভারের ম্যাচে কখন কোন দল জিতবে, ঠাহর করা মুশকিল। তাই ক্রিকেটে ‘অঘটন’ খুব স্বাভাবিক বিষয়।

আবার কম নেই ‘ক্লোজ’ ম্যাচের সংখ্যাও। অঘটন বলা হোক কিংবা ক্লোজ ম্যাচ, এক দিনের বিশ্বকাপ ক্রিকেটে স্মরণীয় ম্যাচের অভাব নেই। যাদের মধ্য থেকে সেরা পাঁচটি ম্যাচ বাছাই করা ‘খড়ের গাঁদায় সুচ’ খোঁজার মতো। তবু আমরা পাঠকদের জন্য বিশ্বকাপের স্মরণীয় কিছু ম্যাচের প্রসঙ্গ তুলে ধরা হলো।

প্রথম বিশ্বকাপ ফাইনাল 

১৯৭৫ সালে ‘প্রুডেন্সিয়াল কাপ’ নামে অনুষ্ঠিত হয় প্রথম বিশ্বকাপ। তখন ওয়ানডে খেলা হতো ৬০ ওভারে। ক্লাইভ লয়েডের নেতৃত্বে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ছিল ক্রিকেট জগতের ত্রাস। ইংল্যান্ডের মাটিতে ৮ দলের বিশ্বকাপে শিরোপা প্রত্যাশিতভাবেই জিতে নেয় ক্যারিবিয়ানরা। ফাইনালে দুর্দান্ত লড়াই করা অস্ট্রেলিয়া মাত্র ১৭ রানে হার মানে।

লর্ডসের ফাইনালে অধিনায়ক লয়েডের ১০২ রানের ইনিংসে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ২৯২ রানের টার্গেট ছুড়ে দেয় অস্ট্রেলিয়াকে। বাঁহাতি অজি মিডিয়াম পেসার গ্যারি গিলমোর একাই নেন পাঁচ উইকেট। জবাবে অস্ট্রেলিয়া অলআউট হয় ২৭৪ রানে। অধিনায়ক ইয়ান চ্যাপেল ৬২, ওপেনার অ্যালান টার্নার ৪০ আর ডগ ওয়াল্টার করেন ৩৫ রান। ১০ নাম্বারে নামা জেফ থমসন ২১ বলে ২১ ও ডেনিস লিলির ব্যাট থেকে আসে অপরাজিত ১৯ রান। শেষ উইকেটে দুজন যোগ করেন ৪১ রান, যা কাঁপন ধরিয়ে দিয়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ শিবিরে। থমসন শেষ ব্যাটার হিসেবে রান আউট হলে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে ক্যারিবিয়ানরা।

ফাইনালে পাঁচটি রান আউটের শিকার হয় অস্ট্রেলিয়া। বিশ্বকাপ ফাইনালে একই দলের পাঁচ ব্যাটসম্যানের রান আউটের ঘটনা আর ঘটেনি। স্নায়ুর চাপে অজি ক্রিকেটাররা ম্যাচ হাতছাড়া করে রান আউটের মিছিলে যোগ দিয়ে। তবে ম্যাচটি বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম জমজমাট ম্যাচ হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে।

জিম্বাবুয়ে বনাম ভারত : ১৯৮৩

১৯৮৩ সালে ভারতের বিশ্বকাপ জয় ছিল ‘অঘটন’। টানা দুই বিশ্বকাপজয়ী ওয়েস্ট ইন্ডিজ ফাইনালে ভারতের কাছে হারবে, এমনটা কেউ কল্পনাও করেনি; কিন্তু ফাইনালের চেয়েও ভারতীয়রা স্মরণীয় ম্যাচ উপহার দেয় জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে। ম্যাচটি স্মরণীয় হয়ে আছে ভারত অধিনায়ক কপিল দেবের অতিমানবীয় ১৭৫ রানের ইনিংসের কারণে। গ্রুপ পর্বের ফিরতি দেখার ম্যাচটি ভারত ছিল দারুণ চাপে। চার দলের গ্রুপে খেলা অনুষ্ঠিত হয় ‘ডাবল লীগ’ পদ্ধতিতে। নিজেদের প্রথম দুই ম্যাচেই ভারত হারায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ আর জিম্বাবুয়েকে; কিন্তু পরের দুই ম্যাচেই হারে অস্ট্রেলিয়া ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে। তাতে সেমিফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে টিকে থাকতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ফিরতি লেগ ম্যাচে জয় ছাড়া কোনো পথ ছিল না ভারতীয়দের সামনে।

টানব্রিজে ওয়েলসের নেভিল গ্রাউন্ডে শুরুতে ব্যাট করতে নামা ভারত ১৭ রানেই হারায় ৫ উইকেট। মনে হচ্ছিল ভারত বুঝি ৫০ রানের গণ্ডিও পেরোতে পারবে না! কিন্তু অধিনায়ক কপিল দেব ছিলেন ভিন্ন চিন্তায়। ওই অবস্থায় ভারতীয় দলকে টেনে তোলার দায়িত্ব একার কাঁধে তুলে নিয়ে তিনি ১৩৮ বলে খেলেন ১৭৫ রানের অবিস্মরণীয় ইনিংস! যা কোন ভারতীয় ক্রিকেটারের প্রথম একদিনের সেঞ্চুরি। বহুদিন কপিলের ইনিংসটি ওয়ানডে ক্রিকেটে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত সংগ্রহের রেকর্ড হয়ে ছিল। কপিল তার ইনিংসে হাঁকিয়েছিলেন ১৬টি চার আর ৬টি ছক্কা।

কপিলের ইনিংস এখনো পরিস্থিতি বিবেচনায় ওয়ানডে ইতিহাসের অন্যতম সেরা মনে করা হয়। কেউ কেউ ‘সেরা’ হিসেবেও বিবেচনায় রাখেন। কপিলের অতি-মানবিক ইনিংসে ভর করে ভারত তোলে ৬০ ওভারে ৮ উইকেটে ২৬৬ রান। পরে মদনলাল ও রজার বিনির অসাধারণ বোলিংয়ে জিম্বাবুয়ে ২৩৫ রানেই গুটিয়ে যায়। ৩১ ম্যাচে ম্যাচ জিতে ভারত পৌঁছে যায় সেমিফাইনালে। মদনলাল ৩ উইকেট ও রজার বিনি নেন ২ উইকেট। কপিল নিজেও নিয়েছিলেন একটি উইকেট। মূলত জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ইনিংসটি কপিলকে বসিয়ে দেয় ভারতীয় ক্রিকেটে অমরত্বের আসনে।

অস্ট্রেলিয়া দক্ষিণ আফ্রিকা : ১৯৯৯ 

১৯৯৯ বিশ্বকাপকে বলা হয় ল্যান্স ক্লুজনারের বিশ্বকাপ। যে টুর্নামেন্টে তিনি আবির্ভূত হয়েছিলেন সত্যিকারের ‘ইম্প্যাক্ট প্লেয়ার’ হিসেবে। দলের প্রায় প্রতিটি জয়েই রেখেছিলেন উল্লেখযোগ্য অবদান, চারটিতে জিতেছিলেন ম্যাচ সেরার পুরস্কার। বিশ্বকাপের ‘প্লেয়ার অব দ্য টুর্নামেন্ট’-এর ট্রফিটাও উঠেছিল তার হাতে; কিন্তু সেমিফাইনালে ক্লুজনার বনে যান ‘ট্র্যাজেডি-কিং’!

বার্মিংহ্যামে অস্ট্রেলিয়ার ছুড়ে দেওয়া ২১৪ রানের টার্গেটে ব্যাটিংয়ে নামে দক্ষিণ আফ্রিকা। জয়ের জন্য শেষ ওভারে প্রোটিয়াদের দরকার ছিল ৯ রান, হাতে উইকেট মাত্র ১টি। ড্যামিয়েন ফ্লেমিংয়ের করা ওভারের প্রথম দুই বলেই বাউন্ডারি হাঁকিয়ে খেলাটা হাতের মুঠোয় নিয়ে আসেন ক্লুজনার।

শেষ ৪ বলে দরকার ১ রান! অতি সহজ করে ফেলা এই সমীকরণ মেলাতে গিয়েই তালগোল পাকিয়ে ফেলেন তারা। দায়টা নন-স্ট্রাইকে থাকা অ্যালান ডোনাল্ডের বেশি। তবে ক্লুজনারও দায় এড়াতে পারেন না। ওভারের তৃতীয় বলে অল্পের জন্য রানআউটের হাত থেকে বেঁচে যান নন-স্ট্রাইক এন্ডে থাকা অ্যালান ডোনাল্ড। পরের বলটা ক্লুজনার ঠিকমতো ব্যাটে-বলে করতে পারেননি। বল চলে যায় শর্ট লং-অফের ফিল্ডারের দিকে। চাইলে ক্লুজনার রান নেওয়ার ঝুঁকিটা না নিতেই পারতেন। কারণ, আরও দুটি বল বাকি ছিল; কিন্তু ক্লুজনার কী মনে করে যেন পড়িমরি করে রানের জন্য ছুটলেন। ওপ্রান্তে পৌঁছেও গিয়েছিলেন তিনি; কিন্তু একি! তার সঙ্গী ডোনাল্ড যে তখনো ক্রিজে নিজের জায়গায় দাঁড়িয়ে! ক্লুজনার ওপ্রান্ত থেকে চলে এলেও ডোনাল্ড কিছুটা দৌড়ে আবার নিজের প্রান্তেই চলে আসেন। পরে যখন দেখেন ক্লুজনার প্রান্ত বদল করে তার পিছে চলে এসেছেন, ডোনাল্ড তখন আবার নিরুপায় ভঙ্গিতে দৌড় শুরু করলেন; কিন্তু ততক্ষণে সর্বনাশ হয়ে গেছে! অনেক সময় সময় অসি ফিল্ডাররা ডোনাল্ড ক্রিজে পৌঁছানোর আগেই ভেঙে দেন স্ট্যাম্প। ‘সাদা-বিদ্যুৎ’-এর রানআউটে ম্যাচ টাই। অস্ট্রেলিয়া ২১৩, দক্ষিণ আফ্রিকাও ২১৩। তাতে ওই আসরের নিয়ম অনুযায়ী অস্ট্রেলিয়া পৌঁছে যায় ফাইনালে। কারণ সুপার সিক্সের ম্যাচে প্রোটিয়াদের বিপক্ষে জিতেছিল তারা। টুর্নামেন্টে অবিশ্বাস্য ক্রিকেট খেলেও ক্লুজনার ও তার দল দক্ষিণ আফ্রিকাকে নিতে বিদায়। ওই ম্যাচেও কঠিন সময়ে নেমে ক্লুজনার খেলেছিলেন ১৬ বলে অপরাজিত ৩১ রানের ইনিংস। ম্যাচ শেষে যে ইনিংসটি হয় একটি দীর্ঘশ্বাসের নাম!

বাংলাদেশের সেই ঐতিহাসিক জয় : ১৯৯৯ 

১৯৯৭ সালের আইসিসি ট্রফি জয়ের মাধ্যমে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে বাংলাদেশ। অভিষেক বিশ্বকাপে বাংলাদেশের প্রত্যাশা ছিল স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে জয়। যা অর্জিতও হয়েছিল। স্কটিশদের বিপক্ষে বাংলাদেশ পেয়েছিল ২২ রানের জয়। এরপর পাকিস্তানের বিপক্ষে সেই ৬২ রানের অবিস্মরণীয় জয়। 

তারিখটা ছিল ১৯৯৯ সালের ৩১ মে। বিশ্বকাপের শুরু থেকে পাকিস্তান ছিল দুর্দান্ত ফর্মে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ, স্কটল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া আর নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে ওয়াসিম আকরামের পাকিস্তান যেন উড়ছিল। পাকিস্তানের বিপক্ষে সম্ভাব্য পরাজয় ধরেই নিজেদের শেষ ম্যাচটা একদম চাপহীন হয়ে খেলতে নেমেছিল টাইগাররা।

নর্দাম্পটনে টস জিতে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন অধিনায়ক আমিনুল ইসলাম বুলবুল। শুরুটা বেশ ভালোভাবেই করে বাংলাদেশ। উদ্বোধনী জুটিতেই শাহরিয়ার হোসেন বিদ্যুৎ ও মেহরাব হোসেন অপি তুলে নেন ৬৯ রান। যে জুটিতে অপির অবদান ছিল মাত্র ৯ রান; কিন্তু মাত্র ১ রানের ব্যবধানে দুই ওপেনারই বিদায় নিলে চাপে পড়ে যায় বাংলাদেশ। বিদ্যুতের ব্যাট থেকে আসে ৩৯ রান। পরে আকরাম খানের ৪২ ও খালেদ মাহমুদ সুজনের ২৭ রানের ইনিংসে চড়ে বাংলাদেশ পায় ৯ উইকেটে ২২৩ রানের পুঁজি। বাংলাদেশের এই সম্মানজনক সংগ্রহে পাকিস্তানি বোলারদের অবদানটাও কম ছিল না। তারা যে অতিরিক্ত রান দিয়েছিলেন ৪০। বাংলাদেশের বিপক্ষে সাকলাইন মুশতাক নেন পাঁচ উইকেট।

জবাবে খালেদ মাহমুদ সুজনের মিডিয়াম পেসের সামনে শুরুতেই যেন কুপোকাত হয়ে যায় পাকিস্তান! সুজনের তোপের মুখে পাকিস্তান ৪২ রানেই হারিয়ে ফেলে ৫ উইকেট। সুজন বিদায় করেন শহীদ আফ্রিদি, ইনজামাম উল হক ও সেলিম মালিককে। সঙ্গে রান আউট হন সাইদ আনোয়ার ও আজহার মাহমুদ। পাকিস্তানের প্রথম পাঁচ ব্যাটারের কেউ দুই অঙ্কের রানের দেখা পাননি। শেষ পর্যন্ত পাকিস্তানের ইনিংস থামে ১৬১ রানে। আজহার মাহমুদ ও ওয়াসিম আকরাম, দুজনেই করেন সমান ২৯ রান করে। শেষ ব্যাটার হিসেবে ২১ রান করা সাকলায়েন মুশতাক যখন আউট হন, তখন বাংলাদেশের জয়-আনন্দের উত্তাল ঢেউ সুদূর নর্দাম্পটন থেকে আছড়ে পড়ে টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়ায়।

ইংল্যান্ড বনাম আয়ারল্যান্ড, ২০১১ 

বাংলাদেশ, ভারত আর শ্রীলঙ্কার যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে ‘অপার বিস্ময়’-এর জন্ম দেয় আয়ারল্যান্ড। গ্রুপ পর্বে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আইসিসি সহযোগী সদস্য আয়ারল্যান্ড অবিস্মরণীয় এক জয় তুলে নেয়। চরম উত্তেজনাকর ম্যাচটি তারা জিতে তিন উইকেটে। সেটাও ইংল্যান্ডের ৩২৭ রানের পাহাড়সম টার্গেট তাড়া করে, যা এখনো এক দিনের বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি রান তাড়ায় জয়ের রেকর্ড।

‘পুঁচকে’ আয়ারল্যান্ডের জয়ের নায়ক ছিলেন কেভিন ও’ব্রায়েন। ষষ্ঠ ব্যাটার হিসেবে খেলতে নেমে তিনি খেলেছিলেন ৬৩ বলে ১১৩ রানের অতিমানবীয় এক ইনিংস। তার মহাকাব্যিক ইনিংসে ছিল ১৩টি চারের সঙ্গে ৬টি ছক্কা। ১১১ রানে পঞ্চম উইকেট পতনের পর নিশ্চিত হারের প্রহর গুনছিল আইরিশরা। ষষ্ঠ উইকেটে অ্যালেক্স কুসাককে নিয়ে ৬২ রান যোগ করেন ব্রায়েন। কুসাকের অবদান ৪৭ রান। সপ্তম উইকেটে আসে মহামূল্যবান ৪৪ রান। এবার ব্রায়ানের সঙ্গী ছিলেন জন মুনি। জয় থেকে মাত্র ১২ রান দূরে থাকাবস্থায় আউট হয়ে যান ও’ব্রায়েন; কিন্তু অপরাজিত ৩৩ রানের ইনিংস খেলে দলকে ৫ বল বাকি থাকতে ঐতিহাসিক জয় পাইয়ে দেন মুনি। লেখা হয় ইতিহাস।

ফাইনাল : ২০১৯

বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে জমজমাট ফাইনাল কোনটা? নিঃসন্দেহে সবার জবাব হবে, ইংল্যান্ড ও নিউজিল্যান্ডের মধ্যকার ২০১৯ সালের ফাইনাল। ওয়ানডে বিশ্বকাপ ফাইনালের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো টাই, প্রথমবার ম্যাচ গড়িয়েছে সুপার ওভারে। সেখানেও সমতা! শ্বাসরুদ্ধকর ফাইনাল শেষে ইংল্যান্ড জয় তথা চ্যাম্পিয়ন হয় মূল ইনিংসে বেশি বাউন্ডারি মারার কারণে! নাটকীয় এই জয়ে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ওয়ানডে বিশ্বকাপ জিতে নেয় ইংল্যান্ড। 

১৪ জুলাই লর্ডসে প্রথমে ব্যাট করা নিউজিল্যান্ড তুলেছিল ৮ উইকেটে ২৪১ রান। জবাবে ইনিংসের শেষ বলে ইংল্যান্ড অল আউট হয় সেই ২৪১ রানেই। ম্যাচ টাই।

ইংল্যান্ড-নিউজিল্যান্ডের ফাইনালে পরতে পরতে ছিল উত্তেজনা। টার্গেট তাড়ায় ৮৬ রানে ৪ উইকেট উইকেট হারিয়ে ফেলা ইংল্যান্ডকে ১১০ রানের জুটিতে ম্যাচে ফেরান বেন স্টোকস আর জস বাটলার। অপরাজিত ৮৪ রান করা স্টোকস খেলেন ওয়ানডে ক্যারিয়ারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস। শেষ ওভারের চতুর্থ বলে চরম বিতর্ক। বোল্টের বলে জোড়া রান নিতে ঝাঁপাতে হয় স্টোকসকে। ওদিকে ফিল্ডিং করা গাপটিল বল ছুড়ে দিয়েছেন, যা ঝাঁপিয়ে পড়া স্টোকসের ব্যাটে লেগে আশ্রয় নেয় সীমানার ওপারে। অদ্ভুত ছয়টি রান পেয়ে যায় ইংল্যান্ড। বিশ্বকাপ ফাইনালে তো বটেই, ক্রিকেট ইতিহাসেই এমন ঘটনা বিরল; কিন্তু কথায় আছে, ভাগ্য সাহসীদের সহায়। তাই হয়তো স্টোকসের সাহসী ইনিংসের সঙ্গে ভাগ্যদেবী নিজেকেও জড়িয়ে নিয়েছিলেন। ম্যাচ টাই হওয়ায় নিয়মানুযায়ী আয়োজন করা হয় সুপার ওভারের। ট্রেন্ট বোল্টের করা সুপার ওভারে বেন স্টোকস ও জস বাটলার তোলে ১৫ রান। জবাবে জোফরা আর্চারের সুপার ওভার থেকে জেমস নিশাম আর মার্টিন গাপটিলও আদায় করেন ১৫ রান। কি এক বিপত্তি! 

বিশ্বচ্যাম্পিয়ন নির্ধারণে শেষ উপায় হিসেবে গণনা করা হয় বাউন্ডারি। দেখা যায় দুই দলের ইনিংসেই আছে দুটি করে ছক্কা। কিন্তু বাউন্ডারি সংখ্যায় নিউজিল্যান্ডকে পেছনে ফেলেছে ইংল্যান্ড। ম্যাচে আগে ব্যাট করা নিউজিল্যান্ড ১৪টি চার মেরেছিল। অন্যদিকে দ্বিতীয় ইনিংসে ২২টি চার মারে ইংল্যান্ড। সেখানেই ভাগ্য-বিড়ম্বনার শিকার কিউইরা। শুধু বাউন্ডারি সংখ্যায় এগিয়ে থাকার কারণে অশ্রুসজল নয়নে কিউইদের অবলোকন করতে হয় ইয়ান মরগান বাহিনীর শিরোপা উল্লাস।

পাদটীকা 

সেরার তালিকায় মাত্র পাঁচটি ম্যাচ রাখতে হবে বিধায় বেশ কিছু নাটকীয় ম্যাচকে বাদ দিতে হয়েছে। যেমন-১৯৮৩ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালে ভারত বনাম ওয়েস্ট ইন্ডিজ, ১৯৯৬ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ার পাঁচ রানের নাটকীয় জয়, ১৯৯২ সালে ইনজামাম উল হকের বীরত্বে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে পাকিস্তানের জয়, ১৯৯৫ সালের বিশ্বকাপে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্যাট কামিন্সের ছক্কায় অস্ট্রেলিয়ার ১ উইকেটের জয়সহ অনেক ম্যাচ চলে আসবে সেরার তালিকায়।

সম্পাদক ও প্রকাশক: ইলিয়াস উদ্দিন পলাশ

ঠিকানা: ১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

Design & Developed By Root Soft Bangladesh