এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের বিরাট বহর কেন

তারিক আল বান্না

প্রকাশ: ১৫ অক্টোবর ২০২৩, ০৮:৫৮ এএম

 সরকারি খরচে বরাবরের মতো এবারও বিশাল বহর পাঠায় বাংলাদেশ।

সরকারি খরচে বরাবরের মতো এবারও বিশাল বহর পাঠায় বাংলাদেশ।

অলিম্পিকে পদক না পেলেও এশিয়ান গেমসে কয়েকটি পদক জিতেছে বাংলাদেশ। এবারও একমাত্র ক্রিকেট থেকেই পদক লাভ করেছে বাংলাদেশ। তবে এশিয়ান গেমসে যে বিশাল বহর পাঠানো হলো, তা কি শুধু ভ্রমণবিলাসের জন্য? এমন প্রশ্ন ওঠা কিন্তু অস্বাভাবিক নয়। সরকারি খরচে বরাবরের মতো এবারও বিশাল বহর পাঠায় বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন (বিওএ)। ২৪০ জনের দলে ১৮০ জন ক্রীড়াবিদ, বাকি ৬০ জন কোচ ও কর্মকর্তা। এই যে বিশাল বহর সরকারি টাকা খরচ করে চীন ভ্রমণে গেল, এটার কি কোনো ব্যাখ্যা আছে? এ বিষয়গুলো ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী ও বিওএ সভাপতির বিবেচনায় আনা উচিত ছিল। 

‘দেশের জন পদক জয়ই লক্ষ্য’- এমন আশার বাণী শুনিয়ে একমাত্র ক্রিকেট দল ছাড়া শূন্য হাতে দেশে ফিরছেন বাকি ক্রীড়াবিদরা। দেশের সম্মান নষ্ট করা এই ক্রীড়াবিদদের এশিয়াডে না পাঠালেই কি নয়? ২০১৮ সালের এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশ ১৪টি ডিসিপ্লিনে অংশ নিয়েছিল। প্রতিটি ডিসিপ্লিনে পুরুষ ও মহিলা দল। একটি ব্রোঞ্জ পদকও জোটেনি বাংলাদেশের ভাগ্যে। ওই বার ক্রিকেট ইভেন্ট ছিল না। এবার পুরুষ ও মহিলা ক্রিকেট দল ব্রোঞ্জ পদক জিতেছে। ক্রিকেট ছাড়া আর কোনো ইভেন্টে পদক জেতা হয়নি বাংলাদেশের। এই যদি হয় অবস্থা, তাহলে ক্রিকেট দল ছাড়া আর কোনো দলের বিশাল টাকা ব্যয় করে চীনে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিশ্চয়ই কর্তৃপক্ষের চরম ভুল ছিল।

এশিয়াড আর্চারিতে ছেলেদের রিকার্ভ দলগত ইভেন্টে পদকের সম্ভাবনা জেগেছিল। রোমান সানা, সাগর ইসলাম ও হাকিম আহমেদের সমন্বয়ে গঠিত ছেলেদের রিকার্ভ দল কোয়ার্টার ফাইনালে থাইল্যান্ডকে হারিয়েই পদকের সুযোগ তৈরি করেছিল। সেমিফাইনালে জিতলে নিশ্চিত হতো অন্তত রূপা। কিন্তু সেমিফাইনালে ভারতের সঙ্গে হেরে যাওয়ার পর তৃতীয় স্থান নির্ধারণী অর্থাৎ ব্রোঞ্জের লড়াইটাও বাংলাদেশ হেরেছে ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে। ১৯৭৮ সালে নিজেদের প্রথম এবং সর্বশেষ ২০১৮ সালে ষষ্ঠ হওয়াই এশিয়াড হকিতে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সাফল্য এসেছে। এবার দক্ষিণ কোরিয়ান কোচ সেমিফাইনালে খেলার বড় স্বপ্ন নিয়ে হাংজুতে গিয়েছিলেন। দল মনে করছিল, গতবারের অবস্থান ধরে রাখতে পারলেই ঢের। সেটাও পারেনি বাংলাদেশ। সপ্তম স্থান নির্ধারণী ম্যাচে ওমানের কাছে ৪-৩ গোলে হেরে বাংলাদেশ হয়েছে অষ্টম।

বক্সার সেলিম হোসেন ৫৭ কেজি ওজন শ্রেণির কোয়ার্টার ফাইনালে হেরে যান জাপানি বক্সার শুদাই হারাদার কাছে। ম্যাচটা জিততে পারলে সেলিম সেমিফাইনালে উঠে যেতেন। তালহাও লড়াই করেছিলেন সাধ্যমতো। তিন রাউন্ড শেষে বিচারকদের রায় গেছে সৌদি প্রতিপক্ষের দিকেই। সেলিম, তালহার সঙ্গে ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী জিন্নাত ফেরদৌস। তিনি মেয়েদের ৫০ কেজি ওজন শ্রেণিতে প্রথম রাউন্ডে ‘বাই’ পাওয়ার পর প্রি-কোয়ার্টারে হেরে যান মঙ্গোলিয়ার বক্ষারের বিপক্ষে। জাতীয় খেলা কাবাডিতে এশিয়ান গেমসে একসময় নিয়মিত পদক জিতেছে বাংলাদেশ। নারী দল ব্রোঞ্জ পদক জিতেছে ২০১০ ও ২০১৪ সালে। এবারও পদক জয়ের ভালো সম্ভাবনা ছিল। তিন দলের গ্রুপে পড়ায় সেই পদক নিশ্চিত হতে পারত একটা ম্যাচ জিতলেই। নেপালের বিপক্ষে সেই ম্যাচটিই হেরে গেছে নারী দল। ব্যবধানও বেশ বড় ৩৭-২৪।

এশিয়ান গেমসে কারাতেতে ঘটেছে দুঃখজনক ঘটনা। কারাতেকা ভিলেজে থাকার পরও নির্দিষ্ট সময়ে উপস্থিত হতে না পারায় ব্যক্তিগত পুরুষ কারাতে ইভেন্টে অংশ নিতে পারেনি বাংলাদেশ। এর আগে ২০১৮ সালে গোল্ডকোস্ট কমনওয়েলথ গেমসে ম্যানেজারের কারণে সময়মতো ভেন্যুতে উপস্থিত না হওয়ায় খেলা হয়নি এক বক্সারের। ২০২২ সালে বার্মিংহাম কমনওয়েলথ গেমসে নারী টেবিল টেনিসেও না খেলার ঘটনা ঘটেছে। এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশ এ পর্যন্ত পদক জিতেছে মোট ১৪টি। এগুলো এসেছে ক্রিকেট, কাবাডি ও বক্সিং থেকে। এবার পুরুষ ও নারী ক্রিকেটে পদক পেলেও কাবাডি ও বক্সিংয়ে চরম ব্যর্থতা দেখিয়েছেন বাংলাদেশিরা। এই যখন এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের অবস্থা, তখন বিশাল বহর নিয়ে ভ্রমণবিলাসের প্রয়োজনটা কী?

সম্পাদক ও প্রকাশক: ইলিয়াস উদ্দিন পলাশ

ঠিকানা: ১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

Design & Developed By Root Soft Bangladesh