বেড়েছে ঋণের সুদহার, কৃষিপণ্যের দাম বাড়ার আশঙ্কা

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৮ নভেম্বর ২০২৩, ০৭:০৭ পিএম

কৃষি ও পল্লী ঋণের সুদহার প্রায় ১০% বেড়েছে। ছবি- সংগৃহীত

কৃষি ও পল্লী ঋণের সুদহার প্রায় ১০% বেড়েছে। ছবি- সংগৃহীত

গত জুন পর্যন্ত কৃষি ও পল্লী ঋণের সুদহার ছিল ৮% এর নিচে। এ খাতে সবচেয়ে বেশি ঋণ বিতরণকারি বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক (বিকেবি) চলতি নভেম্বরে কৃষি ও পল্লী ঋণের সুদহার বাড়িয়ে ৯.৯৩% নির্ধারণ করেছে। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, এর ফলে বাজারে মূল্যস্ফীতি আরও বাড়তে পারে। 

পাশাপাশি সোনালী, জনতা, অগ্রণী ও রূপালী ব্যাংকও ৯.৯৩% সুদহার নির্ধারণ করেছে। রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক (রাকাব) গত মাসে এ খাতে ৯.১০% সুদহার নির্ধারণ করেছে। এখন নতুন করে সুদহার বাড়ানোর প্রক্রিয়ায় রয়েছে বিশেষায়িত ব্যাংকটি। 

একইভাবে বেসরকারি ব্যাংকের নিজস্ব নেটওয়ার্কে বিতরণ করা ঋণের সুদহারও এখন ১০% এর কাছাকাছি। আর যেসব কৃষি ঋণ ব্যাংকগুলো এনজিওদের মাধ্যমে বিতরণ করে সেগুলোর সুদহার ১০ শতাংশেরও বেশি। 

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজের (বিআইডিএস) সাবেক মহাপরিচালক মুস্তফা কে মুজেরী, কৃষি ঋণের সুদহার বেড়ে গেলে উৎপাদন খরচ যেমন বাড়বে। তেমনি আবাদ কমে উৎপাদন কমে যাওয়ারও আশঙ্কা রয়েছে।

কৃষকরা বলছেন, কৃষি ঋণে উচ্চ সুদহারের অতিরিক্ত খরচ মেটাতে পণ্যের দাম বাড়াতে হবে, অন্যথায় তারা লোকসানের মুখে পড়বেন।

সুদহার বাড়ানোর কারণ হিসেবে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের চেয়ারম্যান মো. নাসিরুজ্জামান বলেন, ঋণ ও আমানত সুদহারের সীমা তুলে দেওয়ার পর বেশি সুদে আমানত সংগ্রহ করতে হচ্ছে। 

দাম বাড়বে কৃষিপণ্যের

ডলার সংকটে টাকার মান কমে যাওয়ায় কীটনাশকের দাম গত বছরের তুলনায় এবছর বেশি। কৃষি ও পল্লী ঋণে সুদের হার বৃদ্ধি এ পরিস্থিতিকে আরও খারাপ করে ফেলবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। 

ডিসেম্বর থেকে এপ্রিল পর্যন্ত চলে বোরো মৌসুম। দেশে বার্ষিক যত ধান উৎপাদন হয় তার ৫৫% এর বেশি বোরো। বোরো মৌসুমে ২ কোটি টনের বেশি চাল উৎপাদন হয়, যা দেশের সারা বছরের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতে ভুমিকা রাখে। 

সম্প্রতি চালের দাম বেড়েছে। ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) ১৬ নভেম্বরের তথ্য অনুযায়ী, এক মাসের ব্যবধানে মোটা চালের দাম ৪.০৮% বেড়েছে। যদিও ভোক্তারা বলছেন চালের দাম কেজিতে মান ও জাত ভেদে বেড়েছে ৫ থেকে ৬ টাকা। 

ব্যাংকগুলোর মৎস ও প্রাণী সম্পদ খাতে বিতরণ করা ঋণও কৃষি ও পল্লী ঋণের অন্তর্ভুক্ত। অর্থাৎ মাছ, মুরগি, ডিমের খামারিদের ঋণের পাশাপাশি গবাদি পশু পরিপালনের ঋণের সুদহারও বাড়ছে। এতে মাছ, মাংস ও ডিমের উৎপাদন খরচও বাড়বে। 

গত এক বছর ধরে মাছ, ডিম, মাংসের বাজারে এক ধরনের অস্থিরতা চলছে। এ অবস্থায় ঋণের সুদহার বেড়ে যাওয়ায় আগামীতে কৃষি, পোল্ট্রি, গবাদিপশু খাতের পণ্য উৎপাদন খরচ বাড়বে।  

ঋণের সুদহারে সীমা তুলে নেওয়ার প্রভাব

এ বছরের জুনে বাংলাদেশ ব্যাংক ঋণের সুদহারের সীমা তুলে নেয়। এরপর সুদহার নির্ধারণের নতুন নিয়ম চালু করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। 

বাংলাদেশ ব্যাংক প্রতি মাসের প্রথম সপ্তাহে ১৮২ দিন মেয়াদি ট্রেজারি বিলের গড় সুদহার বা সিক্স মান্থ মুভিং এভারেজ রেট ট্রেজারি বিল (স্মার্ট) প্রকাশ করে।

শুরুতে বাংলাদেশ ব্যাংক বলেছিল, ব্যাংকগুলো স্মার্ট- এর সাথে ৩% মার্জিন যোগ করে ঋণের সুদহার নির্ধারণ করবে। আর কৃষি ঋণের সুদহার হবে স্মার্ট- এর সাথে ২% যোগ করে। 

এরপর গত অক্টোবরে আরেক সার্কুলারে বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, ব্যাংকগুলো বাণিজ্যিক ঋণে স্মার্ট- এর সাথে ৩.৫% আর কৃষি ঋণের স্মার্ট- এর সাথে ২.৪% মার্জিন যোগ করে সুদহার নির্ধারণ করতে পারবে। 

চলতি নভেম্বরে বাংলাদেশ ব্যাংক স্মার্ট রেট জানিয়েছে ৭.৪৩%। সরকার ট্রেজারি বিল থেকে বেশি ঋণ নেওয়ার কারণে এর সুদহারও বেড়েছে। এর সাথে ২.৫ শতাংশ যোগ করে সর্বোচ্চ সুদহারই নির্ধারণ করেছে কৃষি ব্যাংক ও জনতা ব্যাংক। 

এ নিয়ে গত জুলাই থেকে নভেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক তিন দফা ঋণের সুদহার পরিবর্তন করলো। প্রতিবারই বেড়েছে সুদহার। যা গত অক্টোবরে ছিল ৯.৭০%। আর অর্থবছরের শুরুতে ৫ জুলাই এই সুদহার ছিল ৯.১০%। 

সম্পাদক ও প্রকাশক: ইলিয়াস উদ্দিন পলাশ

ঠিকানা: ১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

Design & Developed By Root Soft Bangladesh