সড়ক দুর্ঘটনা

সড়কে আরিফ-অর্জুনের মৃত্যু: বিচারের দাবিতে মানববন্ধন

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৭ ডিসেম্বর ২০২৩, ১১:৫০ পিএম | আপডেট: ১০ ডিসেম্বর ২০২৩, ১১:৫২ এএম

‘সড়কে প্রাণের অপচয় প্রতিরোধ ও বিচারের দাবিতে আমরা দাঁড়াব একসাথে’  শীর্ষক মানববন্ধন | ছবি: সংগৃহীত

‘সড়কে প্রাণের অপচয় প্রতিরোধ ও বিচারের দাবিতে আমরা দাঁড়াব একসাথে’ শীর্ষক মানববন্ধন | ছবি: সংগৃহীত

সড়ক দুর্ঘটনায় ছাত্রনেতা আরিফুল ইসলাম আরিফ ও সৌভিক করিম অর্জুনের মৃত্যুর এক মাস পেরিয়ে গেলেও দোষীদের গ্রেপ্তার করা হয়নি। এর প্রতিবাদে রাজধানীর নিউ ইস্কাটন সড়কে আজ বৃহস্পতিবার (৭ ডিসেম্বর) সন্ধ্যার দিকে ‘সড়কে প্রাণের অপচয় প্রতিরোধ ও বিচারের দাবিতে আমরা দাঁড়াব একসাথে’ শীর্ষক কর্মসূচি আয়োজন করা হয়।

কর্মসূচিতে জোনায়েদ সাকি বলেন, নানা সংবাদমাধ্যম থেকে দেখা যায় গত নভেম্বরে সড়ক দুর্ঘটনায় ৫৬৬ জন মৃত্যুবরণ করেন এর মধ্যে মোটরসাইকেলে মৃত্যুবরণ করেন ১৭৩ জন। 

তিনি আরও বলেন, দুর্ঘটনার জন্য দায়ী বিষয়গুলো উদ্ঘাটন করে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। সড়কে কাঠামোগত হত্যা থামছে না বরং প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে কোথাও কোনো জবাবদিহিতা নেই; কেবল নৈরাজ্য চলছে। 

এই কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন- গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি, কেন্দ্রীয় রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য মনির উদ্দীন পাপ্পু, সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য বাচ্চু ভূইয়া, জুলহাসনাইন বাবু, ছাত্র ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি মশিউর রহমান রিচার্ড এবং আরিফ ও অর্জুনের বন্ধু-সুহৃদ-স্বজনরা।

কর্মসূচি থেকে বক্তারা গুরুত্বপূর্ণ ৭ টি দাবি তুলে ধরেন-

  • চালকদের উপযুক্ত প্রশিক্ষণ প্রদান করতে হবে এবং এ লক্ষ্যে আধুনিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গড়ে তুলতে হবে। চালকদের কর্ম ঘণ্টা নির্দিষ্ট করতে হবে এবং মাসিক বেতনের ভিত্তিতে কাজে নিয়োগ করতে হবে।
  • ফিটনেস ও ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রদানের ক্ষেত্রে সমস্ত ধরনের দুর্নীতি নিরোধে ব্যবস্থা নিতে হবে এবং মালিক চালক বিআরটিএ আইন প্রয়োাগকারী সংস্থা সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।
  • দুর্ঘটনা প্রবণ স্পট চিহ্নিত করতে হবে এবং প্রতিকার মূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
  • সড়কে যানবাহনের জন্য লেন প্রথা চালু করতে হবে। নিয়মিত সড়ক সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণ করতে হবে।
  • পরিবার প্রতি গাড়ি সংখ্যা সীমিত করতে হবে, একাধিক গাড়ির ক্ষেত্রে নিবন্ধন ফি দ্বিগুণ, চতুর্গুণ এভাবে বাড়াতে হবে।
  • পরিবেশবান্ধব ও সাশ্রয়ী পরিবহন হিসেবে নৌপথ ও রেলপথের উপর গুরুত্ব দিয়ে উন্নয়ন পরিকল্পনা করতে হবে। জলাভূমি দখল মুক্ত করতে হবে, নদীর নাব্যতা পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ নিতে হবে। রেলপথে রুট সংখ্যা ও গাড়ি সংখ্যা জনসংখ্যা অনুপাতে বাড়াতে হবে।

উল্লেখ্য, গত ৭ নভেম্বর রাত সাড়ে ১১টায় নিউ ইস্কাটনে মোটরসাইকেলযোগে বাড়ি ফেরার পথে দ্রুতগামী ট্রাকের ধাক্কায় নিহত হন আরিফ ও অর্জুন।

সম্পাদক ও প্রকাশক: ইলিয়াস উদ্দিন পলাশ

ঠিকানা: ১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

Design & Developed By Root Soft Bangladesh