সরকারের বিপদ চারদিক থেকে ধেয়ে আসছে: রিজভী

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১০ জানুয়ারি ২০২৪, ০৬:৫১ পিএম | আপডেট: ১০ জানুয়ারি ২০২৪, ০৬:৫৬ পিএম

রুহুল কবির রিজভী। ফাইল ছবি

রুহুল কবির রিজভী। ফাইল ছবি

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ‘গত ৭ জানুয়ারি ‘ভোটারবিহীন নির্বাচনে’ গোটা বিশ্ব কিন্তু হাততালি দেয়নি। তারা মুচকি হেসেছে। কারণ, এদের তো মনুষ্যত্ব নেই। এই সরকার তো দুর্নীতির মহাসাগরে ভাসছে। তাদের সোনার তরী তো দুর্নীতিতে ভরা। দুর্নীতি হলো এই সরকারের ভূষণ। তারাই নাকি এবার দুর্নীতির বিরুদ্ধে খেলবেন! আমরা অনেক নাটক-যাত্রার নাম শুনেছি। কিন্তু আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের মতো যাত্রার ঢংয়ের সংলাপ দেশবাসী আর মেনে নেবে না। জনগণ আর সইবে না।’

আজ বুধবার (১০ জানুয়ারি) বিকেলে এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। 

রিজভী বলেন, ‘এ ধরনের নির্বাচনের মাধ্যমে শেখ হাসিনার একটা উদ্দেশ্য রয়েছে। সেটা হলো- বাকশাল-২ প্রতিষ্ঠা করা। নির্বাচনের তামাশা দেখিয়ে তিনি আজীবন ক্ষমতা ধরে রাখতে চান। বাকশালকে সফল করতেই তিনি এ ধরনের প্রতারণার নির্বাচন করছেন। আজকে পুরোনো পোশাকে নতুন ভুত। দেখা যাচ্ছে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা লাইন ধরে শেখ হাসিনাকে শুভেচ্ছা জানাচ্ছে। এটা তো বাকশালেরই নিদর্শন।’

তিনি বলেন, ‘সরকার যেন ভেবেছে তাদের পতন নেই। সেজন্যই বিরোধী দলকে নিশ্চিহ্ন করতে উঠেপড়ে লেগেছে। ছাত্রলীগ-যুবলীগকে তো লেলিয়ে দিয়েছেই, সঙ্গে তাদের দলদাস পুলিশ প্রশাসনকেও লেলিয়ে দিয়েছে।’

রিজভী বলেন, ‘৭ জানুয়ারি নির্বাচনের দিন ভোটাররা কেন্দ্রে যাননি। তবুও ডামি লাইন তৈরি করে ভোটার উপস্থিতি দেখানো হয়েছে। অথচ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা লোকেরা কেউ ভোটার নয়। এগুলো বিদেশি পর্যবেক্ষককে দেখানো হয়েছে। এটা তো জঘন্য তামাশা। কোনো সভ্য দেশের স্বৈরশাসকেরাও এ ধরনের নির্বাচন করেছে কি না জানা নেই। রাশিয়া, চীন সমর্থন দিয়েছে। কিন্তু সেসব দেশে কি নির্বাচন হয়? এই দেশগুলোতে তো স্বৈরশাসক আছে। গণতান্ত্রিক দেশ ভারত সমর্থন দিলেও সেটা তারা তাদের স্বার্থেই দিয়েছে। কারণ, তারা আধিপত্য বজায় রাখতেই টার্গেটকৃত দেশে প্রতিভূ বসাতে চায়। দেশের জনগণ কি চাইল না চাইল সেটা বিবেচ্য নয়। শেখ হাসিনা হলেন ভারতের প্রতিভূ।’

কারাগারে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও সাবেক এমপি সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলালের ডিভিশন বাতিল করায় নিন্দা জানান রিজভী। এছাড়াও দেশের বিভিন্ন স্থানে লিফলেট বিতরণ ও গণসংযোগকালে গ্রেপ্তার, হামলা-মামলা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে মোট গ্রেপ্তার ৪০ জনের অধিক নেতাকর্মী, মোট ২টি মামলায় আসামি ১৩৫ জনের অধিক নেতাকর্মী, আহত ১৫ জনের অধিক নেতাকর্মী। গত ১৫ নভেম্বর নির্বাচনী তপশিলের পর থেকে মোট গ্রেপ্তার ১৩ হাজার ৪৬৪ জনের অধিক, মোট মামলা ৫০১টি, মোট আসামি ৫২ হাজার ৪৭৭ জনের অধিক নেতাকর্মী ও মোট আহত ২০৬৭ জনের অধিক নেতাকর্মী এবং মোট মৃত্যু ১৫ জন।’

সম্পাদক ও প্রকাশক: ইলিয়াস উদ্দিন পলাশ

ঠিকানা: ১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

Design & Developed By Root Soft Bangladesh