শীতজনিত রোগ: সাবধানতা ও পরামর্শ

ড. জাহিদ দেওয়ান শামীম

প্রকাশ: ১৫ জানুয়ারি ২০২৪, ০১:১৫ পিএম | আপডেট: ১৫ জানুয়ারি ২০২৪, ০১:১৭ পিএম

শীতজনিত রোগ বাড়ছে| প্রতীকী ছবি

শীতজনিত রোগ বাড়ছে| প্রতীকী ছবি

দেশের দেশের বিভিন্ন জেলার উপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। এবারে দেশে শীতের তীব্রতা অনেক বেশি, দেখা নেই সূর্যের। দিনভর ঘন কুয়াশা আর শীতল হাওয়ার কবলে পড়ছে সারা দেশ। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আগামী পাঁচদিনের মধ্যে সারা দেশে বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এই অবস্থায় শীতজনিত রোগ বাড়ছে। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধরা আক্রান্ত হচ্ছে বেশি। এর মধ্যে রয়েছে সর্দি-জ্বর, কাশি ও নিউমোনিয়া। শিশু বিশেষজ্ঞদের অভিমত, ঠাণ্ডা থেকে শিশুদের সুরক্ষা দিলে সুরক্ষিত থাকবে তারা।

হাড়কাঁপানো তীব্র শীতে দেশের মানুষ প্রায় কাবু হয়ে পড়েছে পাশাপাশি শীতজনিত রোগ বেড়ে গেছে। বিশেষ করে বয়স্ক ও শিশুদের ব্রঙ্কাইটিজ, নিউমোনিয়া, শ্বাস ও বাতজনিত রোগ বেড়ে যায়। ঠাণ্ডার কারণে অনেকের টনসিলের ব্যথাও বেড়ে যায়। যাদের আগে থেকেই শ্বাস ও বাতজনিত রোগ আছে তাদের এ সমস্যা সাধারনত আরও বেড়ে যায় শীতে। এ কারণে বয়স্ক ও শিশুদের এ সময় প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে না যাওয়াই ভালো। আর বাইরে যদি যেতেই হয় তাহলে গরম কাপড়, মাস্ক ও উলেন টুপি পরে শরীর, কান, নাক, মুখ ও মাথা ঢেকে যাবে। সম্ভব হলে ঘরের ভেতরটা রুম হিটার দিয়ে গরম রাখতে পারলে ভালো, না হলে ঘরের ভেতরও গরম কাপড় পরে থাকতে হবে। বয়স্ক, শিশু বা কারো জ্বরের সঙ্গে যদি শ্বাসকষ্ট ও কাশি হয়, সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে। কারণ শীতে নিউমোনিয়া বেড়ে যায়, এ ধরনের রোগীদের আইসিইউ ও অক্সিজেন সাপোর্টও লাগে। সেজন্য অভিভাবকদের এ ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। আর রোগীদের চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সঠিকভাবে ওষুধ সেবন করতে হবে।

শীতের সময় ডায়াবেটিকস, হার্ট ও ব্যাথাজনিত রোগও বেড়ে যায়। কারণ শীতের সময় মানুষের হাঁটা-চলার অভ্যাস কমে যায়। এজন্যে রোদ উঠলে রোদে গিয়ে বসতে হবে এবং যতটুকু সম্ভব বাইরে বা ঘরের ভেতরে হাঁটা-চলা করতে হবে। ঠাণ্ডা পানি ও খাবার খাওয়া একদম ঠিক হবে না। এ অবস্থায় হালকা গরম পানি ও খাবার খাওয়া শরীরের জন্য ভালো। অনেকের ক্ষেত্রে শীতে অনিদ্রার মতো সমস্যাও তৈরি হতে পারে। রোগীদের এসময়ে নিয়মিত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। শীতের সময় শুষ্কতার কারণে শরীরের ত্বকও শুষ্ক হয়ে ওঠে। ফলে অনেক সময় চুলকানি বা ব্যথা হতে পারে। অনেক সময় অ্যালার্জির কারণেও এটি হতে পারে। বিশেষ করে যাদের ধুলাবালিতে অ্যালার্জি হয়। এসময় ত্বক স্বাভাবিক রাখার জন্য নিয়মিতভাবে ভাবে লোশন বা তেল ব্যবহার করতে হবে।

শিশু বা বয়স্ক থেকে শুরু করে সবাইকে শীতের সময় কিছু বিষয় এড়িয়ে চলতে হবে। প্রথমত. শীতের ঠাণ্ডা থেকে নিজেকে রক্ষা করতে হবে। গরম কাপড় পড়তে হবে, কান ও হাত ঠেকে রাখতে হবে, গলায় মাফলার ব্যবহার করতে হবে। ঠান্ডা একেবারে এড়িয়ে চলতে চলতে হবে। গোসল বা হাতমুখ ধোয়া থেকে শুরু করে সবসময়ে কুসুম গরম পানি ব্যবহার করতে হবে। খাবার পানির ক্ষেত্রে হালকা গরম পানি মিশিয়ে খেতে পারলে ভালো। এসময় ঠাণ্ডা খাবার যেমন- আইসক্রিম ও কোল্ড ড্রিঙ্কস ইত্যাদি এড়িয়ে চলা উচিত। বাইরে গেলে মাস্ক ব্যবহার করতে হবে। প্রয়োজনে ত্বকের চাহিদা অনুযায়ী ক্রিম বা তেল ব্যবহার করা উচিত।

আমাদের স্বাস্থ্যের উপর আবহাওয়া, পরিবেশ এবং খাদ্যের অনেক বড় ভূমিকা আছে। খাদ্যাভাস পরিবর্তন ও সচেতনতা বৃদ্ধি করলে আমরা সহজেই দেহের সুস্থতা নিশ্চিত করতে পারি। শীতের সময়েও দিনে প্রচুর পরিমানে পানি পান করতে হবে। এছাড়া ভিটামিন সি রয়েছে এমন খাবার যেমন- লেবু, কমলা ও জলপাই সহ ফলমূল প্রচুর পরিমাণে খেতে হবে। এগুলো একপ্রকার প্রতিষেধক হিসাবে কাজ করে। শিশুরা অনেক সময় শরীরে গরম কাপড় রাখতে চাই না। তাই তাদের দিকে বিশেষ নজর রাখতে হবে। শীতকালেও নিয়মিতভাবে শারীরিক পরিশ্রম বা ব্যায়াম করুন, পুষ্টিকর খাবার খান ও সুস্থ থাকুন।

লেখক : ড. জাহিদ দেওয়ান শামীম, সিনিয়র সাইন্টিষ্ট, নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটি, যুক্তরাষ্ট্র

সম্পাদক ও প্রকাশক: ইলিয়াস উদ্দিন পলাশ

ঠিকানা: ১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

Design & Developed By Root Soft Bangladesh