চরাঞ্চলে একমাত্র বাহন ঘোড়ার গাড়ি

আতিকুর রহমান আতিক, গাইবান্ধা

প্রকাশ: ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৮:০১ পিএম | আপডেট: ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৮:০৩ পিএম

ঘোড়ার গাড়ি। ছবি: গাইবান্ধা প্রতিনিধি

ঘোড়ার গাড়ি। ছবি: গাইবান্ধা প্রতিনিধি

উত্তরাঞ্চলের জেলা গাইবান্ধা। এ জেলার নদীবেষ্টিত চারটি উপজেলার মানুষদের চলাচল করতে অনেক কষ্ট পেতে হয়। গাইবান্ধার এসব চরাঞ্চলের মানুষের বাহন হিসেবে একমাত্র ভরসা ঘোড়ার গাড়ি। শুধু তাই নয় কৃষিপণ্য পরিবহনেও একমাত্র যোগাযোগের মাধ্যম হচ্ছে ঘোড়ার গাড়ি। এসব এলাকায় রাস্তাঘাট না থাকায় অধিকাংশ ঘোড়ার গাড়ির চালকরা জীবনের ঝুঁকি নিয়েই ছুটে চলে এক চর থেকে আরেক চরে।

ফলে চরের উৎপাদিত কৃষিপণ্য আনা-নেওয়ার জন্য বিশেষ ভূমিকা রাখছে ঘোড়ার গাড়ি।  তিস্তা, ব্রহ্মপুত্র ও যমুনা নদ-নদীগুলো শুকিয়ে যাওয়ার কারণে বিচ্ছিন্ন গাইবান্ধা সদর, সুন্দরগঞ্জ, সাঘাটা, ফুলছড়িসহ চার উপজেলার কামারজানি, মোল্লারচর, চন্ডিপুর, ফজলুপুর, এরেন্ডাবাড়ী, ফুলছড়ি, উড়িয়া ও গজারিয়া ইউনিয়ন।

এসব ইউনিয়নের খাটিয়ামারি, জিগাবাড়ি, পেপুলিয়া, গাবগাছি, গলনা, জিয়াডাঙ্গা, সাতারকান্দি, রসুলপুর, ফুলছড়ি, টেংরাকান্দি, কুন্দেরপাড়া, চর উত্তর খোলাবাড়ী, বাজে ফুলছড়ি, চর কালাসোনাসহ ১৬৫টি চর-দ্বীপচর এলাকায় এখানে কোনো যানবাহন চলাচল করে না। জেলার  ১৬৫টি চরের মধ্যে ৭০ টি চরে রয়েছে ৮ শতাধিক ঘোড়ার গাড়ি ও গাড়িচালক।

এই কারণে এসব চরে বসবাসরত প্রায় ৪ লাখ মানুষ বালুময় পথে মাইলের পর মাইল হেঁটে বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করে থাকেন। একই সাথে এসব এলাকায়  উৎপাদিত কৃষিপণ্য নিজের কাঁধে করে আনা-নেওয়া করতে হয় তাদের। এসব উপজেলার বিভিন্ন চরাঞ্চলে ঘোড়ার গাড়ি চালিয়ে স্বাবলম্বী হয়েছে প্রায় ৮ শতাধিক পরিবার।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে দিন দিন শুকিয়ে যাচ্ছে নদ-নদীগুলো। শুকনো মৌসুমে চোখে পড়ে শুধুই বালুচর। জীবন-জীবিকা রক্ষায় চরের মানুষ এই ঘোড়াগাড়ির উদ্ভাবন করেছে। এতে মানুষের দুর্ভোগ অনেক কমেছে। তাই এখন আর তপ্ত বালির ওপর দিয়ে হেঁটে দীর্ঘ চর পাড়ি দিতে হয় না। একই সঙ্গে দূর হয়েছে হাটবাজারে পণ্য নিয়ে যাওয়া আসার কষ্ট।

ঘোড়ার গাড়িতে করে কৃষি পণ্য নিয়ে আসা ফুলছড়ি উপজেলার খাটিয়ামারি চরের মজিবুর রহমান বলেন, আমাদের এই চর এলাকায় কোন রাস্তাঘাট নেই। এ কারণে যান্ত্রিক কোন যানবাহন চলে না। তাই ঘোড়ার গাড়িই আমাদের একমাত্র ভরসা।

১০ জানুয়ারি শনিবার ফুলছড়ি উপজেলার ফুলছড়ি ঘাটে ঘোড়ার গাড়িচালক মো. আমিরূল ইসলামসহ কয়েকজনের সাথে কথা হলে তারা বলেন, শনিবার ও মঙ্গলবার হাটের দিনে ১ হাজার থেকে দেড় হাজার টাকা রোজগার হয়। অন্যান্য দিনগুলোতে ঘোড়াকে খাওয়ানোর খরচ বাদে প্রতিদিন রোজগার হয় ৭ থেকে ৮০০ টাকা। ঘোড়ার খাওয়ার জন্য প্রতিদিন খরচ হয় ৩০০ থেকে সাড়ে তিনশ টাকা।

সম্পাদক ও প্রকাশক: ইলিয়াস উদ্দিন পলাশ

ঠিকানা: ১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

Design & Developed By Root Soft Bangladesh