টাকার অভাবে পোড়া জান্নাতিকে কবিরাজের কাছে নিতে চান মা

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৭ মার্চ ২০২৪, ০৫:৫৭ পিএম

মৃত শিশু জান্নাতির বাড়িতে মানুষের ভিড়। ছবি: মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি

মৃত শিশু জান্নাতির বাড়িতে মানুষের ভিড়। ছবি: মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি

মানিকগঞ্জে গরম ডালে পুড়ে দেড় বছরের শিশু জান্নাতির মৃত্যু হয়েছে। হাসপাতালে ভর্তির পর অর্থাভাবে কবিরাজি চিকিৎসার জন্য বাসায় আনা হয়েছিল তাকে।

আজ বৃহস্পতিবার (৭ মার্চ) সকালে সদর উপজেলার কাটিগ্রামের কেটিজি অটোব্রিক্স এলাকায় তার মৃত্যু হয়।

জানা গেছে, জান্নাতির মা আরফাতুন (২৫) ও তার নানি মুনা (৪৫) সাত মাস ধরে কাটিগ্রাম এলাকায় অবস্থিত কেটিজি অটোব্রিক্সে কাজ করে আসছেন। তাদের গ্রামের বাড়ি নীলফামারী জেলায়। আরফাতুন ইটভাটার প্রোডাকশন ও মুনা ত্রিশজন শ্রমিকের তিন বেলা খাবার রান্নার কাজ করেন। গত সোমবার সকালে আরফাতুন জান্নাতিকে তার নানির কাছে রেখে কাজ করতে যান। জান্নাতিকে কাছে রেখেই রান্নার কাজ করছিলেন মুনা। ডাল অর্ধেক রান্না করে মসলা দেওয়ার জন্য চুলা থেকে নিচে নামিয়ে অন্য কাজে মনোযোগী হয়েছিলেন তিনি। এসময় গরম ডালে হাত দেয় জান্নাতি। এতে তার হাত ও শরীরের কিছু অংশ পুড়ে যায়। চিকিৎসার জন্য মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখান থেকে ঢাকার শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইন্সটিটিউটে নিতে পরামর্শ দেন কর্তব্যরত চিকিৎসক। তারা ঢাকায় না নিয়ে টাঙ্গাইলের কুমুদিনী হাসপাতালে নিয়ে যায় জান্নাতিকে। সেখানে দুইদিন রেখে চিকিৎসা শেষ না করেই বুধবার রাতে কবিরাজি চিকিৎসা করাতে মানিকগঞ্জের কর্মস্থলে ফিরে আসেন।

মুনা বলেন, নাতিনকে দুদিন হাসপাতালে রেখে চিকিৎসা করিয়েছি। আমরা গরিব মানুষ সেখানে থাকলে খরচ হয়। তাছাড়া যখন ড্রেসিং করে তখন জান্নাতি অনেক কান্নাকাটি করে। এজন্য ওর মা বললো মানিকগঞ্জে গিয়ে কবিরাজ দিয়ে তেল পড়ে সেটা লাগালেই ঠিক হয়ে যাবে।

আরফাতুন বলেন, সাথে কোন পুরুষ মানুষ নাই। হাসপাতালে থাকতে কষ্ট হয়েছে। টাকা পয়সারও একটা বিষয় আছে। এজন্যই এখানে এনে কবিরাজি চিকিৎসা করাতে চেয়েছিলাম।

কেটিজি অটো ব্রিকস লিমিটেডের ম্যানেজিং ডিরেক্টর ফিরোজ আহমেদ সরকার বলেন, শিশু জান্নাতিকে ঢাকার শেখ হাসিনা বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইন্সটিটিউটে নেওয়ার কথা বলেছিল চিকিৎসক। তারা সে জায়গা না চেনায় তাদের পরিচিত টাঙ্গাইলের কুমুদিনী হাসপাতালে ভর্তি করেন। আবার নিজেদের ইচ্ছে মতোই সেখান থেকে চলে আসে। আজ সকালে শুনলাম তার মৃত্যু হয়েছে।

সম্পাদক ও প্রকাশক: ইলিয়াস উদ্দিন পলাশ

ঠিকানা: ১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

Design & Developed By Root Soft Bangladesh