দ্রুত ওজন কমাতে ‘ফাস্টেড ব্যায়াম’

জাকিয়া সুলতানা

প্রকাশ: ১০ মার্চ ২০২৪, ০২:২০ পিএম

প্রতীকী ছবি।

প্রতীকী ছবি।

ঘুম থেকে উঠে, প্রায় ১০-১২ ঘণ্টা কিছু না খেয়ে, খালি পেটে ব্যায়াম করাকে ‘ফাস্টেড ব্যায়াম’ বলা হয়। নতুন প্রজন্মের কাছে এই ব্যায়াম ইদানীং বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। কারণ এতে সহজেই ওজন ঝরানো যায়। সাম্প্রতিক একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে, খালি পেটে যারা ব্যায়াম করেন, তাদের অ্যাডিপোস বা ফ্যাট টিস্যুতে লক্ষণীয় পরিবর্তন চোখে পড়ে। কারও যদি অভ্যাস থাকে সকালে বা সন্ধ্যায় ভরপেট নাশতা করার ঘণ্টা দুই পর শরীরচর্চা করার। সে ক্ষেত্রে খাবারটাকে ভাঙতে ও শরীরের কাজে লাগাতেই অ্যাডিপোস টিস্যু অনেক বেশি ব্যস্ত থাকবে। ব্যায়ামের ফলে আলাদা করে তা কার্যকর হয়ে উঠবে না। 

বেশিরভাগ মানুষ দিনের শুরুতে ওয়ার্কআউট করেন। খুব বেশি হলে এক গ্লাস পানি পান করেন। আবার অনেকে হালকা নাশতা করে জিমে যান। তাই জেনে নেওয়া যাক খালি পেটে ব্যায়াম করবেন নাকি ভরপেট খাবার খেয়ে।

খালি পেটে শরীরচর্চা করাকে ফাস্টেড ব্যায়াম বলা হয়। খালি পেটে শরীরচর্চা করলে দেহে শক্তি উৎপন্ন করার জন্য অতিরিক্ত কসরত করতে হয়। এতে দ্রুত ফ্যাট গলতে শুরু করে। তাই খালি পেটে ব্যায়াম করলে সহজেই ওজন কমানো যায়। তবে এই পন্থা যে সবার ক্ষেত্রে কার্যকরী হবে, এমন নয়। চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে শরীরের অবস্থা বুঝে এই ব্যায়াম করা যেতে পারে।

সকালবেলা ইনসুলিনের ভারসাম্য ঠিক থাকে না। মূলত দীর্ঘক্ষণ খালি পেটে থাকলে দেহে ইনসুলিনের মাত্রা কমে যায়। এর ফলে শরীর শক্তির জন্য সঞ্চিত চর্বিকে ব্যবহার করে। এতেও ওজন কমে। বেশ কিছু গবেষণায় দেখা গিয়েছে, খালি পেটে ব্যায়াম করলে ইনসুলিনের সংবেদনশীলতা উন্নত হয়। তাই সকালবেলা ওয়ার্কআউট করলে অনেকেই হালকা বোধ করে। 

কিন্তু খালি পেটে ব্যায়াম করার ক্ষতিকর দিকও রয়েছে। খালি পেটে ইনসুলিনের মাত্রা ঠিক থাকে না, তাই রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। অনেকেই শক্তি ও স্ট্যামিনার অভাব বোধ করেন। এতে ওয়ার্কআউটের তীব্রতা এবং কর্মক্ষমতা হ্রাস হতে পারে। আবার অনেকেই অস্বস্তি বোধ করতে পারেন, হালকা মাথাব্যথার মতো উপসর্গও দেখা দেয়। এ ক্ষেত্রে শরীরচর্চা শুরু করার আগে হালকা খাবার খাওয়া দরকার। বাদাম, বীজ, ফলের মতো পুষ্টিকর খাবার খেতে পারেন।

দ্রুত ওজন কমাতে চাইলে খালি পেটে ব্যায়াম করা শুরু করুন। কিন্তু শরীরচর্চা করার সময় হাইড্রেটেড থাকা জরুরি। তাই ব্যায়াম করার আগে, ব্যায়াম করার সময় ও পরে প্রচুর পরিমাণে পানি পান করতে হবে। ব্যায়াম করার পর প্রোটিন ও কার্বোহাইড্রেটেড সমৃদ্ধ খাবারের ওপর জোর দিতে হবে। ওয়ার্কআউটের পর সুষম খাবার না খেলে শরীর দুর্বল হয়ে পড়বে। তখন ওজন কমবেও না, তার পরিবর্তে নানা রোগ আক্রমণ করবে।

সম্পাদক ও প্রকাশক: ইলিয়াস উদ্দিন পলাশ

ঠিকানা: ১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

Design & Developed By Root Soft Bangladesh