ওভার ইনভয়েসিং ৯০ শতাংশ কমানোর দাবি গভর্নরের

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১১ মার্চ ২০২৪, ১১:১২ পিএম | আপডেট: ১১ মার্চ ২০২৪, ১১:৪৯ পিএম

ডলার। ছবি- সংগৃহীত

ডলার। ছবি- সংগৃহীত

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার বলছেন, দেশ থেকে বেশিরভাগ টাকা পাচার হয় ‘ব্যবসায়িক চ্যানেলে’; তবে ‘ওভার ইনভয়েসিংয়ের’ মাধ্যমে টাকা পাচার ৯০ শতাংশ রোধ করতে পেরেছেন তারা। 

আজ সোমবার (১১ মার্চ) পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের কর্মকর্তাদের 'স্মার্ট ইনভেস্টিগেশন মডেল ফর সিআইডি অফিসারস' শীর্ষক প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সিআইডি র অতিরিক্ত আইজিপি মোহাম্মদ আলী মিয়া। 

গভর্নর বলেন, পকেটে করে যে ডলার পাচার হয়, সেটা মোট পাচারের খুবই ক্ষুদ্র একটা অংশ। মূলত পাচার হয় ট্রেড বেইজড মানি লন্ডারিংয়ের মাধ্যমে। ওভার ইনভয়েসিং বা আন্ডার ইনভয়েসিং এর মাধ্যমে টাকাগুলো পাচার হয়ে যায়। ধরেন একটা পণ্যের দাম ১০০ ডলার, সেটার জন্য কেউ দেড়শো ডলারের এলসি করল। বাকি ৫০ ডলার পাচার হয়ে গেল। আবার যারা রপ্তানিকারক, তারাও কিন্তু রপ্তানির টাকা দেশে না নিয়ে এসে সেখানে রেখে দেন। এটাও মানি লন্ডারিং।

পণ্য আমদানিতে ‘ওভার ইনভয়েসিং’ মানে হল অতিরিক্ত অর্থ ব্যাংক চ্যানেলেই বিদেশে পাচার হচ্ছে। পণ্যের মূল্যের নামে পাঠানো অতিরিক্ত অর্থ পরে বিদেশে আমদানিকারকের পক্ষে কেউ গ্রহণ করছে। এমন অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরেই অর্থনীতিবিদদের কাছ থেকে আসছে।

‘আন্ডার ইনভয়েসিং’ ব্যবহার করা হয় পণ্য রপ্তানিতে। পণ্য রপ্তানির সময়ে যে পরিমাণ অর্থ কম দেখানো হয়, তা বিদেশে রপ্তানিকারকের পক্ষে বুঝে নেওয়া হয়। এভাবেও অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কথা বিভিন্ন সময়ে আলোচিত হয়ে আসছে।

তবে ওভার ইনভয়েসিং শতভাগ বন্ধ করা সম্ভব নয় মন্তব্য করে তিনি বলেন, ৯০ শতাংশ বন্ধ করতে পারলেই আমরা খুশি। এখন আমরা বলতে পারি, ওভার ইনভয়েসিং ৯০ শতাংশ বন্ধ হয়েছে। এখন ব্যাংক অত সহজে এলসি করে না। এলসি করার আগে প্রাইসটা চেক করে, আমরা কতগুলো মেকানিজম করে দিয়েছি।

গত কয়েক মাস ধরে বাজারে ডলারের সরবরাহ এবং রেমিটেন্স বাড়ার তথ্য তুলে ধরে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান বলেন, আমাদের এক্সপোর্ট বাড়ছে, ইমপোর্ট কন্ট্রোল করেছি। এই যে ওভারে ইনভয়েসিং হত...। আমরা ব্যাংকগুলোকে বলে দিয়েছি, এল সি খোলার আগে দেখে নিতে যে জিনিসটা আনা হচ্ছে তার দাম ঠিক আছে কিনা। 

তিনি বলেন, আগে কোনোদিন ব্যাংকের শাখা পর্যায়ে তারা এই দামের বিষয়টি নিয়ে মাথা ঘামাত না, ক্রসচেকও করত না। গত দুই বছরে আমরা এই কালচারে চেইঞ্জ আনতে পেরেছি যে এলসি করার আগে এ বিষয়গুলো দেখতে হবে।

সম্পাদক ও প্রকাশক: ইলিয়াস উদ্দিন পলাশ

ঠিকানা: ১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

Design & Developed By Root Soft Bangladesh