সমুদ্রে চলে যাবে যশোর, গোপালগঞ্জ, চাঁদপুর, ফেনীর কিছু অঞ্চল: আইনুন নিশাত

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ৩০ মার্চ ২০২৪, ১১:০৫ পিএম | আপডেট: ৩০ মার্চ ২০২৪, ১১:০৬ পিএম

উপকূলের জীবন ও জীবিকা: সংকট ও করণীয়’ শীর্ষক জাতীয় সংলাপে অতিথিরা। ছবি- সংগৃহীত

উপকূলের জীবন ও জীবিকা: সংকট ও করণীয়’ শীর্ষক জাতীয় সংলাপে অতিথিরা। ছবি- সংগৃহীত

জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে চরম ঝুঁকিতে রয়েছে দেশের দক্ষিণাঞ্চলীয় কয়েকটি জেলা। এসব জেলার অংশবিশেষ আগামী ১০০ বছরের মধ্যে সমুদ্রের অংশ হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির ইমেরিটাস এবং পানিসম্পদ ও জলবায়ু পরিবর্তন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক আইনুন নিশাত। এই পরিবর্তনটা আগামী ৫০ বছরের মধ্যেও হতে পারে বলে জানিয়েছেন তিনি। এছাড়া জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব সারাদেশেই পড়ছে বলে জানান এই বিশেষজ্ঞ। 

অধ্যাপক আইনুন নিশাত বলেন, ১০০ বছরের মধ্যে যশোর থেকে গোপালগঞ্জ, গোপালগঞ্জ থেকে চাঁদপুর ও চাঁদপুর থেকে ফেনী—এসব জেলার দক্ষিণাংশ সমুদ্রের অংশ হয়ে যাবে। এমনকি ঢাকার চারপাশের জমিও লবণাক্ত হয়ে যেতে পারে।

আজ শনিবার (৩০ মার্চ) রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা) আয়োজিত ‘উপকূলের জীবন ও জীবিকা: সংকট ও করণীয়’ শীর্ষক জাতীয় সংলাপে তিনি এসব কথা বলেন।

সংলাপে জাতিসংঘের সংস্থা ইন্টারগভর্নমেন্টাল প্যানেল অন ক্লাইমেট চেঞ্জের (আইপিসিসি) একটি প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরেন আইনুন নিশাত। ১৯৫টি দেশ একমত হওয়ার পর ওই প্রতিবেদন প্রকাশ করে আইপিসিসি। 

আইনুন নিশাত বলেন, রাজশাহী থেকে সিরাজগঞ্জ, সিরাজগঞ্জ থেকে কিশোরগঞ্জের ভৈরব—এই সারির মধ্যাঞ্চল লবণাক্ত হয়ে যাবে। ঢাকা শহর খুব উঁচু। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে উচ্চতা ২৫ ফুট। ঢাকা শহরের চারপাশ লবণাক্ত হয়ে যাবে। কামরাঙ্গীরচর বা জিঞ্জিরার উচ্চতা পাঁচ থেকে ছয় ফুট। এসব এলাকা পানির তলায় চলে যেতে পারে।

লবণাক্ততার সমস্যার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, বাংলাদেশ ভারতকে ফারাক্কা বাঁধ নির্মাণের সম্মতি দেওয়ার মধ্য দিয়ে লবণাক্ততা সমস্যার শুরু। উজান থেকে পানি আসা বন্ধ হয়ে গেছে। এ কারণে লবণাক্ততা বাড়া শুরু হয়েছে।

সংলাপে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকুয়াকালচার বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মীর মোহাম্মদ আলী এবং বেসরকারি সংস্থা ব্লু প্ল্যানেট ইনিশিয়েটিভের গবেষণা ও কর্মসূচি বাস্তবায়ন ব্যবস্থাপক মো. ইকবাল ফারুক।

সংলাপে সভাপতিত্ব করেন ধরার উপদেষ্টা কমিটির সদস্য ও রোমান ক্যাথলিক চার্চ ঢাকার আর্চবিশপ বিজয় নিসফরাস ডি’ক্রুজ। এ সময় আরও বক্তব্য দেন জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান হাওলাদার, ধরার সহ–আহ্বায়ক শারমীন মুরশিদ, বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশনের বেসরকারি উপদেষ্টা ও ধরার সহ–আহ্বায়ক এম এস সিদ্দিকী। ধরার সদস্যসচিব শরীফ জামিলের সঞ্চালনায় সংলাপে স্বাগত বক্তব্য দেন ধরার সমন্বয়ক নিখিল চন্দ্র ভদ্র।

সম্পাদক ও প্রকাশক: ইলিয়াস উদ্দিন পলাশ

ঠিকানা: ১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

Design & Developed By Root Soft Bangladesh