রেকর্ড ৪১.৫ ডিগ্রি তাপে পুড়ছে চুয়াডাঙ্গা

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৯ এপ্রিল ২০২৪, ০৫:০১ পিএম | আপডেট: ১৯ এপ্রিল ২০২৪, ০৬:৫৮ পিএম

প্রতীকী ছবি।

প্রতীকী ছবি।

তীব্র তাপদাহে ওষ্ঠাগত চুয়াডাঙ্গার জনজীবন। টানা ৪ দিন ধরে এ জেলা দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রার আওতায় রয়েছে। আজ শুক্রবার (১৯ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৬টায় এ জেলায় তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৪১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। 

চুয়াডাঙ্গার প্রথম শ্রেণীর আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের জ্যেষ্ঠ পর্যবেক্ষক রকিবুল হাসান জানান, ‘শুক্রবার (১৯ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৬টায় দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৪১ দশমিক ৫ ডিগ্রী সেলসিয়াস, এ সময় বাতাসের আদ্রতা ছিলো ৩৪ শতাংশ। এদিন বেলা ৩টায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৪১ দশমিক ৩ ডিগ্রী সেলসিয়াস, এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিলো ১৭ শতাংশ। সকাল ৯টা তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৩৩ ডিগ্রী সেলসিয়াস,বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৪৫ শতাংশ এবং দুপুর ১২ টায় রেকর্ড করা হয় ৪০ ডিগ্রী সেলসিয়াস,বাতাসের আর্দ্রতা ছিলো ১৯ শতাংশ। বর্তমানে তীব্র তাপপ্রবাহ অব্যাহত রয়েছে। তাপমাত্রা আরো বাড়তে পারে বলে তিনি জানান।


‘তিনি আরও জানান, চুয়াডাঙ্গায় ৪দিন দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রার আওতায় রয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার (১৮ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৬টায় দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিলো ৪০ দশমিক ৪ ডিগ্রী সেলসিয়াস, ওই সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিলো ৪২ শতাংশ। এদিন বেলা ৩টায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৪০ দশমিক ৪ ডিগ্রী সেলসিয়াস, বাতাসের আর্দ্রতা ছিলো ১৫ শতাংশ এবং দুপুর ১২টায় রেকর্ড করা হয় ৩৯ ডিগ্রী সেলসিয়াস, বাতাসের আর্দ্রতা ছিলো ১৫ শতাংশ।’

বুধবার (১৭ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৬টায় দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৪০ দশমিক ৮ ডিগ্রী সেলসিয়াস, বাতাসের আর্দ্রতা ছিলো ৩৭ শতাংশ। এদিন বেলা ৩টায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৪০ দশমিক ৭ ডিগ্রী সেলসিয়াস, বাতাসের আর্দ্রতা ছিলো ২২ শতাংশ এবং দুপুর ১২টায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিলো ৩৮ দশমিক ৫ ডিগ্রী সেলসিয়াস, সে সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিলো ৩১ শতাংশ। মঙ্গলবার (১৬ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৬টায় দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিলো ৪০ দশমিক ৬ ডিগ্রী সেলসিয়াস, বাতাসের আর্দ্রতা ছিলো ৪৭ শতাংশ। এদিন বেলা ৩টায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিলো ৪০ দশমিক ৬ ডিগ্রী সেলসিয়াস, বাতাসের আর্দ্রতা ছিলো ২৭ শতাংশ এবং ওই দিন বেলা ১২টায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৩৮ ডিগ্রী সেলসিয়াস, সে সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিলো ৪৩ শতাংশ।

বৃষ্টি না হওয়া পর্যন্ত কোনভাবেই তাপমাত্রা কমার সম্ভাবনা নেই বলেও তিনি জানান। 

এদিকে, চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক ড.কিসিঞ্জার চাকমার উদ্ধৃতি দিয়ে বিভিন্ন টিভি চ্যানেল ও পত্র-পত্রিকায় ‘হিট এলার্ট’ জারি করা নিয়ে সংবাদ পরিবেশিত হওয়ায় বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে জনমনে।  

এ প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসক ড.কিসিঞ্জার চাকমা বলেন, গত মঙ্গলবার (১৬ এপ্রিল) ঢাকা আবহাওয়া অধিদপ্তর থেকে ‘এলার্ট ফর হিট ওয়েভ’ শিরোনামে একটি চিঠি পাঠিয়েছে। ওই চিঠি পাওয়ার পর স্বাস্থ্য বিভাগের পরামর্শ ক্রমে চুয়াডাঙ্গায় গরমে স্বাস্থ্য রক্ষায় করণীয় সম্পর্কে মাইকিং করা হচ্ছে। এ বিষয়টি উপস্থাপনে ভুল হয়েছে। তিনি আরও বলেন, কথাটি ‘হিট এলার্ট’ নয় হবে ‘এলার্ট ফর হিট ওয়েভ’। এটা নিয়ে বিভ্রান্ত হওয়ার কোন কারন নেই।

উল্লেখ্য, টানা তাপদাহে অতিষ্ঠ সীমান্তবর্তী এ জেলার মানুষ। ফুটপথের ছোট ছোট দোকান গুলো বন্ধ রয়েছে। বাড়ী থেকে মানুষ বের হচ্ছে না। দিনের বেশিরভাগ সময় সূর্যের তাপে গরম অনুভূত হচ্ছে। রোদের তীব্র প্রখরতায় চারপাশে উত্তাপ ছড়াচ্ছে। নিম্নআয়ের শ্রমজীবী মানুষ পড়েছেন চরম বিপাকে। নির্মাণ শ্রমিক, কৃষি শ্রমিক, ইজিবাইক চালক ও রিকসা-ভ্যান চালকরা দুর্বিসহ গরমে তাদের যানবাহন চালাতে পারছে না। টাকা উপার্জন না  করতে পেরে তারা পেরে হা-হুতাশ করছে।

চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার উথলী গ্রামের জহুরুল হক বলেন, প্রচন্ড গরমে মাঠে জমিতে কাজ করা অনেক কঠিন হয়ে পড়ছে। ভ্যাপসা গরমে বেশীক্ষণ মাঠে অবস্থান করা সম্ভব হচ্ছেনা। ফসলের ক্ষেত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। জমিতে সেচ দেয়ার পরও মাটি শুকিয়ে যাচ্ছে। 

একই গ্রামের শিক্ষক জাকির হোসেন বলেন, বারবার পানি পান করেও তৃষ্ণা মেটানো যাচ্ছে না। বৃষ্টি একান্ত  প্রয়োজন। পরিবেশের ভারসাম্য বাজায় রাখতে গাছ লাগানোর কোনো বিকল্প নেই। কার্পাসডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা সুজন আলী বলেন, সকালে কাজের জন্য বের হতে হয়। বাড়ী থেকে বের হওয়ার পর প্রচন্ড গরম অনুভূত হচ্ছে। সড়ক থেকে গরম উঠে শরীর পুড়ে যাচ্ছে। বাইরে বেশী সময় অবস্থান করা যাচ্ছে না।

সম্পাদক ও প্রকাশক: ইলিয়াস উদ্দিন পলাশ

ঠিকানা: ১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

Design & Developed By Root Soft Bangladesh