নির্দেশনা অমান্য করে ভোটের মাঠে এমপির ভাই

জামালপুর প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০১ মে ২০২৪, ০২:৪৩ পিএম

উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী নজরুল ইসলাম সাত্তার।

উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী নজরুল ইসলাম সাত্তার।

জামালপুরের বকশিগঞ্জে নির্দেশনা অমান্য করে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হয়েছেন স্থানীয় এমপির ছোট ভাই নজরুল ইসলাম সাত্তার।

গতকাল মঙ্গলবার (৩০ এপ্রিল) মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষদিন থাকলেও সরে দাঁড়াননি তিনি। ফলে নির্বাচনের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে, সুষ্ঠু ভোট নিয়ে শঙ্কা বেড়েই চলেছে ভোটারদের মাঝে। সারাদেশে আবহাওয়ার তীব্র গরমের সাথেই পাল্লা দিয়ে বাড়ছে নির্বাচনী গরম হাওয়া।

উপজেলা নির্বাচন কার্যালয় সূত্র জানায়, আগামী ২১ মে অনুষ্ঠিত হচ্ছে ৬ষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের ২য় ধাপের ভোটগ্রহণ। বকশিগঞ্জ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে মোট পাঁচজন প্রার্থী চেয়ারম্যান পদে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। তারা হলেন—বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুর রউফ তালুকদার, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শাহিনা বেগম, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আবুল কালাম আজাদ ফরিদ, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহ-সভাপতি ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম সাত্তার এবং বিশিষ্ট শিল্পপতি এমদাদুল হক।

এরমধ্যে নজরুল ইসলাম সাত্তার জামালপুর-১ (দেওয়ানগঞ্জ-বকশিগঞ্জ) আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য নূর মোহাম্মদের ভাই। তিনি নীলাক্ষিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন। উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য ইউপি চেয়ারম্যান পদ থেকে সম্প্রতি পদত্যাগ করেন তিনি।

দলীয় সূত্র জানায়, নির্বাচন গ্রহণযোগ্য ও প্রভাবমুক্ত রাখতে আওয়ামী লীগের হাইকমান্ডের নির্দেশ ছিল—এমপি-মন্ত্রীদের পরিবার বা আত্মীয়রা ভোটের মাঠে লড়তে পারবেন না। এজন্য দলের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের একাধিকবার সতর্ক করেছেন। যারা সিদ্ধান্ত মানবেন না, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের কথাও জানিয়েছে হাইকমান্ড। উচ্চপর্যায়ের কড়া এ নির্দেশনা গুরুত্ব পায়নি এখানে। নির্দেশনা অমান্য করে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিনেও অনড় এমপির ভাই নজরুল ইসলাম সাত্তার। নিজের ভাইকে নির্বাচন থেকে সরাতে ব্যর্থ হয়েছেন এমপি।

মাঠ বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এমপির পরিবারে প্রার্থী বহাল থাকাকে কেন্দ্র করে দলীয় কোন্দল মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। বিভক্ত হয়ে পড়েছে নেতাকর্মীরা। বর্তমানে দলীয় কোনো পদে না থাকলেও দলীয় লোকজনকে ঠিকই ব্যবহার করছেন নজরুল ইসলাম সাত্তার। নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে রেখেছেন উপজেলা ছাত্রলীগের একাংশ। বিতর্কিত কাজের সঙ্গে জড়িতদের নিয়ে চালাচ্ছেন গণসংযোগ। বড়ভাই নিজ এলাকার এমপি হওয়ার সুযোগটা ভোটের মাঠে কাজে লাগাতে চেষ্টা করছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা জানান, নারী নির্যাতন, বহু বিবাহ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়োগ বাণিজ্যসহ নানা দুর্নীতি ও বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে নজরুল ইসলাম সাত্তারের বিরুদ্ধে৷ তিনি নিলক্ষিয়া আর.জে পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি থাকার সুবাদে শিক্ষক নিয়োগের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেন।

প্রার্থী হওয়ার প্রসঙ্গে নজরুল ইসলাম সাত্তার বলেন, আমি বর্তমানে দলের কোনো পদে নাই। আমার সংসার আলাদা। দীর্ঘদিন থেকে এলাকার সাধারণ জনগণের সাথে মেলামেশা করে আসছি, তাই আমার গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে।

তবে দুর্নীতির অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, আপনারা সরেজমিনে এলেই সত্য-মিথ্যা জানতে পারবেন।

নারী নির্যাতনের ব্যাপারে তিনি বলেন, আমার জীবনে একটা ভুল হয়েছিল, আইনি লড়াইয়ে তা সমাধান করতে সক্ষম হয়েছি।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শাহিনা বেগম বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা যদি কেউ না মানেন তাহলে আমরা স্থানীয়ভাবে কী করে সিদ্ধান্ত নেই। আমরা এ ব্যাপারে একাধিকবার নেতাকর্মীদের নিয়ে বসেও সুরাহা করতে পারিনি। আমিও চেয়ারম্যান প্রার্থী, তাই এর বেশি কিছু বলতে পারছি না।

এ ব্যাপারে সংসদ সদস্য নূর মোহাম্মদ বলেন, নজরুল ইসলাম সাত্তার দলের কেউ না, দলে থাকলে বহিষ্কার করা যেতো। ভাই হিসেবে তাকে নির্বাচন না করতে অনুরোধ করা হলেও সে মানেননি। আমার কথা শোনে না, আমি কী করবো! বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীকে  চিঠি দিয়ে জানিয়ে দিয়েছি৷

সম্পাদক ও প্রকাশক: ইলিয়াস উদ্দিন পলাশ

ঠিকানা: ১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

Design & Developed By Root Soft Bangladesh