অনলাইনে নিরাপদ থাকতে নারীরা যা করবেন

ওয়াশিকুর রহমান

প্রকাশ: ০২ মে ২০২৪, ০৬:০৫ পিএম

প্রতীকী ছবি

প্রতীকী ছবি

এখন সময়টা প্রযুক্তির। প্রযুক্তি একদিকে যেমন নানা সুযোগ তৈরি করছে; তেমনি সংকটের মুখেও ফেলছে। সমীক্ষায় দেখা গেছে, দেশের ৬৮ শতাংশ নারী নানাভাবে সাইবার অপরাধের শিকার হচ্ছে। এদের মধ্যে ১৬ থেকে ২৪ বছরের নারীরা সবচেয়ে বেশি শিকার হন।

মোবাইল বার্তা, ভিডিও চ্যাট, ইনবক্সে যৌনতাপূর্ণ ছবি চাওয়া, যৌন সম্পর্ক স্থাপনের প্রস্তাব, ঘৃণ্য ও আপত্তিকর যৌনতাপূর্ণ মন্তব্যের শিকার হচ্ছে নারীরা। সাইবার জগতের নতুন ফাঁদ ‘ডিপফেক’ ভিডিও বা ছবি। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) সহায়তায় ভুয়া ভিডিও ও ছবি বানিয়ে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। যৌন নিপীড়নের সময় ছবি তোলা বা ভিডিও রেকর্ড করে পরে তা সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট কিংবা প্রকাশের হুমকি দিয়ে ব্ল্যাকমেইল করার মতো অপরাধ সংগঠিত হয়ে আসছে। তবে কিছু বিষয়ে সচেতন হলে সাইবার অপরাধ থেকে নারীরা নিরাপদে থাকতে পারেন...

প্রযুক্তি বিষয়ে জানা : সামাজিক যোগাযোগ থেকে শুরু করে নানান আর্থিক অ্যাপ ব্যবহার করি। মোবাইল ফোন-নির্ভর নানান প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ছে। যে কোনো প্রযুক্তি বা অনলাইন সেবা ব্যবহারের আগে সে বিষয়ে জানা প্রয়োজন। কোন অ্যাপ ব্যবহার করছেন, সেই অ্যাপ বৈধ বা নিবন্ধিত কোনো প্রতিষ্ঠানের কিনা তা জানতে হবে। কিশোর-কিশোরীদের হাতে মোবাইল ফোনসহ বিভিন্ন প্রযুক্তি তুলে দেওয়ার আগে তাদের সাইবার সিকিউরিটি বিষয়ে জানাতে হবে। 

নিজেকে নিরাপদ রাখতে হবে : মোবাইলে কোন অ্যাপ ব্যবহার করছেন, কোন ধরনের অ্যাপ থেকে তথ্য চুরি হয় তা জানতে হবে। উন্মুক্ত স্থানের ওয়াইফাই বা উন্মুক্ত চার্জার পয়েন্ট ব্যবহারে সতর্ক থাকতে হবে। মোবাইল বা ল্যাপটপে অ্যান্টিভাইরাস ব্যবহার করুন। প্রয়োজনে কলব্লকারসহ বিভিন্ন প্রতিরক্ষামূলক অ্যাপ ব্যবহার করতে হবে।

তথ্য প্রকাশে সতর্কতা : সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছবি ও তথ্যাদি প্রকাশে সতর্ক থাকুন। কেননা হ্যাকাররা ব্যবহারকারীর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে তথ্য সংগ্রহ করে অনলাইনে হামলা চালায়। জন্ম তারিখ ও ফোন নম্বরের মতো ব্যক্তিগত তথ্যও দেওয়া ঠিক নয়। অনলাইনে সহজে প্রতারণার সুযোগ থাকে। কেউ অর্থ চাইলে, ফোন করে পিন বা পাসওয়ার্ড চাইলে কখনোই শেয়ার করবেন না। 

আইনগত সহায়তা নিতে হবে : কোনো কারণে তথ্য চুরি বা ব্ল্যাকমেইলের ঘটনা ঘটলে আইনের সহায়তা নিতে হবে। এখন তথ্যাদি রক্ষায় অনেক আইন আছে, এসব বিষয় জানতে হবে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। 

বিপদ পড়লে যা করবেন : নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে ন্যাশনাল টোলফ্রি হেল্পলাইন ১০৯ থেকে সহায়তা নিতে পারেন। এ ছাড়াও পুলিশের ৯৯৯ সহায়তা লাইন থেকেও যে কোনো বিপদের মুখে পড়লে সহায়তা নিতে পারেন। সাইবার স্পেসে শুধু নারীর বিরুদ্ধে সংঘটিত সাইবার অপরাধের ক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত ও আইনি সহায়তা দেওয়া এবং সাইবার নিরাপত্তা সম্পর্কিত সচেতনতা বৃদ্ধি করা হবে জানিয়ে পুলিশ সদর দপ্তর নিচের ঠিকানায় যোগাযোগ করতে বলেছে। যোগাযোগ-Page Name: Police Cyber Support for Women-PCSW. ফেসবুকে যোগাযোগ https://www.facebook.com/PCSW.PHQ/, ইমেইলে যোগাযোগ : [email protected], হটলাইন ০১৩২০০০০৮৮৮

সম্পাদক ও প্রকাশক: ইলিয়াস উদ্দিন পলাশ

ঠিকানা: ১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

Design & Developed By Root Soft Bangladesh