আব্দুল হাই রাজনীতির অঙ্গনে আলোকবর্তিকা হয়ে থাকবেন: এমপি মহুল

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৩ মে ২০২৪, ০১:০১ পিএম | আপডেট: ০৩ মে ২০২৪, ০২:৩০ পিএম

জাতীয় সংসদ অধিবেশনে বক্তব্য রাখছেন মো. নাসের শাহরিয়ার জাহেদী মহুল এমপি।

জাতীয় সংসদ অধিবেশনে বক্তব্য রাখছেন মো. নাসের শাহরিয়ার জাহেদী মহুল এমপি।

ঝিনাইদহ-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. নাসের শাহরিয়ার জাহেদী মহুল বলেছেন, ‘দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের রাজনীতিতে আব্দুল হাই ছিলেন একজন প্রথিতযশা রাজনীতিবিদ। তিনি ছিলেন অত্যন্ত সহনশীল ব্যক্তিত্ব। রাজনীতির যে সৌন্দর্য- সকলের প্রতি সহমর্মিতা তিনি এর দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গেছেন। সবার কাছে তিনি আগামী দিনের আলোকবর্তিকা হয়ে থাকবেন।’

গতকাল বৃহস্পতিবার (২ মে) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে আনিত শোকপ্রস্তাবে সদ্যপ্রয়াত ঝিনাইদহ-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবদুল হাইয়ের বিষয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

বিকাল ৫টায় স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে এ অধিবেশনের শুরুতে শোক প্রস্তাবটি আনা হয়। শোক প্রস্তাবের শুরুতে প্রয়াত সংসদ সদস্যের আত্মার মাগফেরাত ও তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান মো. নাসের শাহরিয়ার জাহেদী মহুল।

নাসের শাহরিয়ার জাহেদী মহুল বলেন, আব্দুল হাই অল্প বয়সে অষ্টম শ্রেণিতে পড়ার সময় বঙ্গবন্ধুর আদর্শে দীক্ষিত হয়ে ছাত্রলীগের রাজনীতিতে যোগ দেন এবং মাত্র পাঁচ বছরের মধ্যে ১৯৬৯ সালে তিনি একাধারে ঝিনাইদহ মহকুমার ছাত্রলীগের সভাপতি, বৃহত্তর যশোর জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি এবং সরকারি কেশবচন্দ্র কলেজ ছাত্র সংসদের সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।

নাসের শাহরিয়ার জাহেদী বলেন, ‘১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরু হলে আব্দুল হাই ঝিনাইদহে স্বাধীন বাংলার প্রথম পতাকা উত্তোলন করেন। বঙ্গবন্ধুর শাহাদাত বরণের পর প্রতিরোধের অংশ নিতে তিনি ভারত চলে যান।  ১৯৭৭ সালে দেশে আসার পর গ্রেপ্তারি পরোয়ানাসহ তাকে নানাভাবে হয়রানির শিকার হতে হয়েছিল। আশির দশকে তিনি আওয়ামী লীগকে ঝিনাইদহে সংগঠিত করেছিলেন। ১৯৯৬ সালে তৎকালীন জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমানের ইন্তেকালের পর আব্দুল হাই ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বপ্রাপ্ত হন এবং ১৯৯৮ সালের কাউন্সিলর সম্মেলনে তিনি সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। এরপর ২০০৫ থেকে তার মৃত্যু অবধি প্রায় ২০ বছর তিনি ঝিনাইদহ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন।’

তিনি উল্লেখ করেন, এক সময় ঝিনাইদহ ছিল সন্ত্রাসের জন্য অত্যন্ত বিক্ষুব্ধ এলাকা। এমন এলাকায় সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক ধারা অব্যাহত রাখতে আব্দুল হাই ধৈর্য, প্রজ্ঞা এবং রাজনৈতিক সহনশীলতার মাধ্যমে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন। তিনি ছিলেন সবার কাছে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তি; এমনকি বিরোধীদলীয় নেতারাও তার কাছ থেকে সহযোগিতা পেয়েছেন।’

নাসের শাহরিয়ার জাহেদী বলেন, ঝিনাইদহ জেলার রাজনৈতিক অঙ্গনে আব্দুল হাই ছিলেন একটি নক্ষত্র। ২০০১ সাল থেকে মৃত্যু অবধি প্রতিটি সাধারণ নির্বাচনে তিনি বিজয়ী হয়েছিলেন। একটানা পাঁচবার তিনি সংসদ সদস্যের পদ অলংকৃত করেছিলেন। আজ তিনি আমাদের মাঝে নেই। তবে আমার দৃঢ় বিশ্বাস, আব্দুল হাইয়ের মত ব্যক্তিত্ব বেঁচে থাকবেন আমাদের তরুণ প্রজন্মের মাঝে। রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, তার ব্যবহার, কর্মীদেরকে কাছে টানা, সবাইকে নিয়ে পথচলার দৃষ্টান্ত তিনি রেখে গেছেন। আমার দৃঢ় বিশ্বাস আজকে যারা তরুণ রাজনীতিবিদ, যারা ছাত্র রাজনীতির সঙ্গে জড়িত এবং আজকে ক্ষয়িষ্ণু সমাজে আমরা যারা আছি সবার কাছে তিনি আগামী দিনের আলোকবর্তিকা হয়ে থাকবেন।

শোক প্রস্তাবের উপর আরো আলোচনা করেন খুলনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. এসএম কামাল হোসেন, রাজবাড়ি-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. জিল্লুল হাকিম, যশোর-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. তৌহিদুজ্জামান তুহিন, যশোর-৩ আসনের সংসদ সদস্য কাজী নাবিল আহমেদ ও টাঙ্গাইল-১ আসনের সংসদ সদস্য ড. আব্দুর রাজ্জাক।

সম্পাদক ও প্রকাশক: ইলিয়াস উদ্দিন পলাশ

ঠিকানা: ১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

Design & Developed By Root Soft Bangladesh