ইবির বঙ্গবন্ধু পরিষদের আহবায়ক কমিটি স্থগিতের দাবি

ইবি প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৪, ০৫:১৩ পিএম | আপডেট: ১০ জুন ২০২৪, ০৯:২৮ এএম

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) আওয়ামীপন্থী শিক্ষক-কর্মকর্তাদের সংগঠন বঙ্গবন্ধু পরিষদের নবগঠিত আহবায়ক কমিটি স্থগিতের দাবিতে কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক বরাবর লিখিত আবেদন দিয়েছেন শিক্ষক-কর্মকর্তাদের একাংশ৷

গত ২৯ মে গঠিত হওয়া নতুন এই আহবায়ক কমিটি সম্পর্কে তারা অবগত নন উল্লেখ করে শতাধিক শিক্ষক-কর্মকর্তা এ আবেদনে স্বাক্ষর করেন। একইসঙ্গে অনতিবিলম্বে এই কমিটি স্থগিত করে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দকে সরেজমিনে এসে শিক্ষক-কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছেন তারা।

লিখিত আবেদন তারা বলেন, শেখ হাসিনা ঘোষিত স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে যে মুহূর্তে বঙ্গবন্ধুর আদর্শে অনুপ্রাণিত এই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় পাঁচ শতাধিক শিক্ষক-কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠিত বঙ্গবন্ধু পরিষদ, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা নিরবিচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছে, সেই মুহূর্তে আপনার স্বাক্ষরিত নতুন আহবায়ক কমিটি সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখে আমরা হতবাক। আপনার সাময়িকভাবে অনুমোদিত আহবায়ক কমিটি সম্বন্ধে আমরা নিম্নস্বাক্ষরকারী বঙ্গবন্ধু পরিষদভুক্ত শিক্ষক কর্মকর্তারা অবগত নই। অনতিবিলম্বে আমরা এই কমিটি স্থগিত করে শিক্ষক কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে একটি কমিটি আপনি/আপনার উপযুক্ত প্রতিনিধির মাধ্যমে সরজমিনে এসে গঠনের জন্য স্ব-নির্বন্ধ অনুরোধ জানাচ্ছি।

জানা যায়, ২০১৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর অধ্যাপক ড. মাহবুবুর রহমানকে সভাপতি ও অধ্যাপক ড. মাহবুবুল আরফিনকে সাধারণ সম্পাদক করে কমিটি ঘোষণা করে কেন্দ্র। এরপর ওই কমিটিকে অগণতান্ত্রিক দাবি করে ২০২০ সালের ৪ মার্চ নির্বাচনের মাধ্যমে অধ্যাপক ড. রুহুলকে এম সালেহকে সভাপতি ও অধ্যাপক ড. আবু হেনা মোস্তফা জামালকে সাধারণ সম্পাদক করে কমিটি গঠন করে পরিষদের একাংশ। এতে ‘বঙ্গবন্ধু পরিষদ’ ও ‘বঙ্গবন্ধু পরিষদ শিক্ষক ইউনিট’ হিসেবে দুইটি পক্ষের সৃষ্টি হয়।

পরে কেন্দ্র ঘোষিত কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ড. মাহবুবুর রহমান উপ-উপাচার্যের দায়িত্ব পাওয়ায় ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন শিক্ষক সমিতির সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ড. জাহাঙ্গীর হোসেন। বর্তমানে তিনি হজ্জ পালনের উদ্দেশ্য সৌদি আরবে অবস্থান করছেন। অপরপক্ষের শিক্ষক-কর্মকর্তাদের দাবি এই সুযোগে লুকোচুরি করে নিজেদের স্বার্থ চরিতার্থ করতেই এই কমিটির অনুমোদন নিয়েছেন তারা৷ 

কেন্দ্র ঘোষিত বঙ্গবন্ধু পরিষদের সহ-সভাপতি ও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. আনোয়ার হোসেন বলেন, নতুন কমিটির নেতৃত্বে আসা সাত আটজন মিলে কেন্দ্রীয় কমিটিকে ব্লাকমেইল করে এ কমিটি গঠন করেছে। তারা কেন্দ্রীয় কমিটিকে জানিয়েছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে বিদ্যমান দুটো গ্রুপ ‘বঙ্গবন্ধু পরিষদ’ ও ‘বঙ্গবন্ধু পরিষদ শিক্ষক ইউনিট’ এর সকল সদস্য একসঙ্গে বসে এই ৩১ জনের নাম প্রস্তাব করেছে। আদতে এ ধরনের কোনো সভা হয়নি। তারা সাত-আটজন মিলে ইংরেজি বিভাগের সভাপতির কক্ষে বসে এ তালিকা করে কেন্দ্রে পাঠিয়েছেন। তাদের উদ্দেশ্য অশুভ। কারণ আমাদের ভিসির মেয়াদ শেষ হবে ২৯ সেপ্টেম্বর। পরবর্তী ভিসি, প্রো-ভিসি ও ট্রেজারার আনার ক্ষেত্রে এই বঙ্গবন্ধু পরিষদের পদবী তারা ব্যবহার করতে চান; যাতে ভিসি আনার ক্ষেত্রে তাদের দেনদরবার করতে সহজ হয়। 

নবগঠিত আহবায়ক কমিটির সদস্য সচিব অধ্যাপক ড. মাহবুবর রহমান বলেন, এটি সম্পূর্ণ শিক্ষকদের নিয়ে করা কমিটি, কর্মকর্তাদের সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই। গতকাল কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নতুন এই কমিটিকে তাদের কার্যক্রম চালাতে বলেছেন। যদি কেউ কর্মকর্তাদেরও নিতে চায় তাহলে তারা একটা কমিটি করে নিয়ে যাবে। শিক্ষকদের রাজনীতি শিক্ষকরা করবে, কর্মকর্তাদের রাজনীতি কর্মকর্তারা করবে। আমাদের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের আলাদা রাজনীতির। মাঝখানে একটু ছন্দপতন হয়েছিল। আগামী তিনমাসের মধ্যে আমরা সম্মেলন দেব। সেখানে নির্বাচনের মাধ্যমে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক চলে এলে আস্তে আস্তে সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।

সম্পাদক ও প্রকাশক: ইলিয়াস উদ্দিন পলাশ

ঠিকানা: ১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

Design & Developed By Root Soft Bangladesh