সম্পর্কের সৌন্দর্য

প্রতিটি সম্পর্কের রয়েছে একটি ভীষণ মায়াময় গন্ধ, যা কি-না পরস্পরকে ধরে রাখে, সম্পর্কের উষ্ণতা ধরে রাখে, নিজেদের মধ্যে শক্ত ভিত গড়ে দেয়। পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধবোধ হলো সম্পর্কের সেই সুগন্ধী। দিনের পর দিন উদাসীনতা, তাচ্ছিল্য, অহংবোধ একটি সম্পর্ককে কোণঠাসা করে ফেলে তখন সঙ্গীর প্রতি শ্রদ্ধাবোধ নষ্ট হয়ে যেতে থাকে। 

এই পৃথিবীতে প্রতিটি মানুষ আলাদা। লাল গোলাপ লাল হবে এটাই তার ধর্ম, তেমনি হলুদ গোলাপ হলুদ হবে এটাই তার বৈশিষ্ট্য। হলুদ গোলাপকে যেমন জোর করে রঙ করে লাল বানানোর চেষ্টা বেমানান তেমনি লাল গোলাপকে হলুদ বানানোর চেষ্টাটাও হাস্যকর। অথচ বেশিরভাগ সম্পর্কে এই বিষয়টি প্রায়ই দেখা যায়। সেটা হোক প্রেম বা বিয়ে। 

একজন আর একজনের জীবনের বারান্দায় ঢুকে তাকে বদলে পাল্টে একদম ঘসে মেজে তার মনের মতো করতে উঠেপড়ে লাগেন। অথচ এই মানুষটি যেমন তেমন দেখেই কিন্তু তাকে আপনি ভালোবেসেছিলেন, তার প্রেমে পড়েছিলেন অথচ কী অবাক সেই মানুষটির যাপিত জীবন পাল্টে দিতে এখন উঠেপড়ে লেগেছেন! তার ফোন থেকে মানিব্যাগ সবই আপনার দখলে আনা চাই। আমার বৌ বা আমার স্বামীর ব্যাংক ব্যালেন্স, ব্যক্তিগত ডায়েরি, ফোন সবই আমার অধীনে এই মনোভাব থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। আপনারা দু’জন দুটি আলাদা রঙের গোলাপ। আপনাদের রঙ, গন্ধ আলাদা। আর এইটাই সম্পর্কের সৌন্দর্য। 

যখন আপনারা একজন আর একজনের এই ভিন্নতাকে শ্রদ্ধা করবেন, একজন আর একজনের ব্যক্তিগত বিষয়গুলোর প্রতি শ্রদ্ধাশীল হবেন, তখন জীবনটাও সুন্দর হয়ে উঠবে, দু’জনের সঙ্গ দু’জন পেতে উদগ্রীব হয়ে উঠবেন। আপনি হয়তো উজ্জ্বল রঙ ভালোবাসেন, লাল হলুদ মেজেন্টা এই ধরনের উজ্জ্বল রঙ আপনার প্রিয়; কিন্তু আপনার সঙ্গী হয়তো পছন্দ করেন হালকা ছাই বা নীল। এখন আপনি যদি জিদ করে বসেন না তাকেও উজ্জ্বল রঙের পোশাকই পরতে হবে তাহলে কিন্তু বিষয়টি ঠিক হলো না। তবে হ্যাঁ আপনি চাইলে আপনার ভালোবাসার মানুষের প্রিয় রঙে নিজেকে সাজাতেই পারেন বা সেও হয়তো আপনাকে সারপ্রাইজ দিতে সবুজ রঙের কোনো টি-শার্ট পরে ফেললো-সেটা ব্যতিক্রম হবে। 

সম্পর্কের সৌন্দর্যে শ্রদ্ধা একটি অপরিহার্য বিষয়। এই বিষয়টি ধরে রাখতে দু’জনকেই সচেষ্ট হতে হবে। 

অতীতের কোনো বিষয় নিয়ে বা কোনো ভুল নিয়ে সারাক্ষণ একজন আর একজনকে দোষারোপ করা হয়। অনেক সময় দেখা যায় একটি দীর্ঘপথে চলার ক্ষেত্রে ভুল হতেই পারে বা মান-অভিমান চলতে পারে; কিন্তু তাকে ধরে না রেখে নিজেরাই খুব সুন্দর আলোচনা ও সমঝোতার মাঝে সমস্যা মিটিয়ে ফেলা যায়; কিন্তু সেটা না করে কেউ যদি নিজের মনে গুমরে থাকে বা আর একজনকে কীভাবে শায়েস্তা করা যায়, সেটা ভাবেন তবে সম্পর্ক তার মাধুর্য হারায়, হারায় তার সুগন্ধ। 

অনেকেই বিয়ের পর দু’পরিবারের মধ্যে নানা বিষয় নিয়ে নিজেদের সম্পর্ককে বিষিয়ে তোলেন; কিন্তু একটি বিষয় মনে রাখতে হবে যাকে আপনি আপনার পরিবারের কারও জন্য অপমান আর অসম্মানের দিকে ঠেলে দিচ্ছেন, সেই মানুষটিই কিন্তু সুখে দুঃখে আপনার সঙ্গে থাকবে, পাশে থাকবে। তাই সতর্ক থাকুন, এমন কিছু করবেন না, যাতে করে আপনার প্রিয় মানুষটির চোখে জল ঝরে। আগলে রাখুন, বিশ্বাস রাখুন, ভরসা করতে শিখুন তার ওপর। 

হয়তো মুখ ফসকে রাগের মাথায় দুটি কথা সে বেশি বলেই ফেলেছে সে জন্য উল্টো তাকে দোষারোপ না করে সহমর্মী হোন, তার কষ্টটা ছুঁয়ে দেখার চেষ্টা করুন। দেখবেন আপনার প্রিয় মানুষটি অভিমান ভুলে ঠিক ঝাঁপিয়ে পড়েছে আপনারই বুকে। 

ভালোবাসা যুক্তি দিয়ে হয় না, ভালোবাসা হিসাব করেও হয় না, ভালোবাসা মেপেও হয় না। ভালোবাসারা বেহিসেবী হয়, ভালোবাসা অন্ধ হয়, তাই যুক্তিতর্ক ভুলে প্রিয়জনকে ভালোবাসায় ভরিয়ে রাখুন। 

মন্তব্য করুন

Epaper

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

Logo

ঠিকানা: ১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

© 2021 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh

// //