স্বস্তিতে অফিস করতে চাইলে

আজকাল কি প্রায়ই কর্মক্ষেত্রে বা অফিসে মনোযোগ হারাচ্ছেন? সেখানকার ছোট ছোট সমস্যা নিয়ে বেশি ভাবছেন? সেটি আবার পারিবারিক জীবনেও প্রভাব ফেলছে কি? 

চলুন জেনে নেয়া যাক, কীভাবে এ ধরনের সমস্যাগুলো এড়িয়ে স্বস্তিতে অফিস করতে পারবেন।

অন্য সহকর্মীদের সাথে সমস্যা নিয়ে আলোচনা এড়িয়ে যান

অন্য সহকর্মীদের সাথে আপনার সমস্যা নিয়ে কথা বলবেন না। এটি পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তুলতে পারে। যে সমস্যাটি নিয়ে আপনি দুশ্চিন্তায় আছেন, সেটি আপনার সহকর্মীদের মাঝে অস্বস্তি ও ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে প্রতিষ্ঠানের জন্য সমস্যার সমাধান করা কঠিন হয়ে পড়ে। প্রয়োজনে আপনার সুপারভাইজারকে জানাতে পারেন। তবে নিজে থেকেই সমস্যার সমাধান করে নেওয়া সবচেয়ে ভালো উপায়।

তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া থেকে বিরত থাকুন

যারা আপনার ক্ষতি চাইতে পারে, তারা বিভিন্ন সময় কাজে বাধা তৈরি করতে পারে। এসব পরিস্থিতিতে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া না দেখিয়ে নিজেকে সময় দিন। একটু ভেবে নিতে পারেন আপনার কেমন প্রতিক্রিয়া দেয়া উচিত। এই বিরতি দু’পক্ষের মধ্যে অনাকাক্ষিত ব্যক্তিত্বের সংঘাত এড়িয়ে যেতে খুব ভালোভাবে সাহায্য করতে পারে।

নিজের দিকে তাকান

তর্ক-বিতর্কের সময় আপনি কীভাবে পরিস্থিতি সামাল দিচ্ছেন, তা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। পারিপার্শ্বিক দিকগুলো নিয়ন্ত্রণ করার জন্য নিজেকে নিয়ে ভাবুন। চাইলেই পরিস্থিতি খুব ভালোভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন। এমন পরিস্থিতিতে আপনি কিছু কৌশল অবলম্বন করতে পারলে নিজের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারবেন।

পরিস্থিতিকে ভিন্নভাবে দেখার চেষ্টা করুন

কর্মক্ষেত্রে কারও সাথে তর্ক-বিতর্কে জড়িয়ে পড়লে সাধারণত সে আপনার সামনে তাকে সঠিক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চায়। এক্ষেত্রে রাগান্বিত বা খারাপ ব্যবহার না করে তাকে মনে মনে শিশু হিসেবে চিত্রায়িত করতে পারেন। ধরে নিতে পারেন ডায়াপার পরা একটি শিশু খুব রেগে আছে ও চিৎকার করছে। এটি আপনাকে ওই ঘটনায় সম্পৃক্ত হওয়া থেকে বিরত রাখবে।

সহকর্মীদের দলগত শক্তির দিকে নজর দিন

কর্মক্ষেত্রে টিমের সদস্যদের যোগ্যতা ও দলগত শক্তির দিকে মনোযোগ দিন। পরিস্থিতি খারাপ হলে আমরা সাধারণত এমন কিছু করার চেষ্টা করি, যা খুব বেশি কাজ করে না। অনেক সময় নেতিবাচক চিন্তা করি। এক্ষেত্রে ইতিবাচক ভাবনা আপনাকে অন্তত মধ্যবর্তী জায়গায় থাকতে সাহায্য করবে।

সহযোগী মনোভাব দেখান

সহকর্মীকে আপনার পরিকল্পনার বিষয়ে বুঝিয়ে বলুন ও তার মতামত নিন। তার কোনো পরিকল্পনা থাকলে তাও জানার চেষ্টা করুন। কোনো সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রে তার মতামত নিন। এতে দু’পক্ষের মধ্যে সম্পর্ক ভালো হয়। ব্যক্তিত্বের দ্বন্দ্ব কমে আসে।

মধ্যবর্তী অবস্থান থেকে সবকিছু বোঝার চেষ্টা করুন

সবকিছু দুইপক্ষের বোঝাপড়ার মধ্যে রাখার চেষ্টা করুন। তবে যদি দ্বন্দ্ব নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ হন, তাহলে অবশ্যই আপনার সুপারভাইজার, মানবসম্পদ বিভাগ বা এমন কারও সাথে কথা বলুন, যে কিনা মধ্যবর্তী অবস্থানে থেকে এর সমাধান দিতে পারবে।

তাই অফিসের সমস্যাগুলো জটিল হওয়ার আগেই সমাধান করে নিন।

মন্তব্য করুন

Epaper

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

Logo

ঠিকানা: ১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

© 2021 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh