সরকারি বাড়ি ছাড়ার নির্দেশ প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে

প্রিয়াঙ্কা গান্ধী

প্রিয়াঙ্কা গান্ধী

কয়েক মাস আগে তার বিশেষ এসপিজি সুরক্ষা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এবার সরকারি বাংলোও ছাড়তে বলা হলো ভারতের কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে।

দিন কয়েক আগে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে প্রিয়াঙ্কা বলেছিলেন, তিনি ইন্দিরা গান্ধীর নাতনি। অন্য কিছু বিরোধী নেতার মতো বিজেপির অঘোষিত মুখপাত্র নন। 

মূলত বহুজন সমাজবাদী পার্টি নেত্রী মায়াবতীকে লক্ষ্য করেই এই অভিযোগ করেছিলেন প্রিয়াঙ্কা। এবার তিনি আরেক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়লেন। তার কাছে সরকারি নির্দেশ এসেছে, ১ আগস্টের মধ্যে সরকারি বাংলো খালি করে দিতে হবে, না হলে জরিমানার মুখে পড়বেন তিনি।

প্রিয়াঙ্কা এমপি, দলের সভাপতি বা কোনো সরকারি উঁচু পদও তার নেই। তা সত্ত্বেও গত ২৩ বছর ধরে ইন্দিরা গান্ধীর নাতনি যে দিল্লিতে সরকারি বাংলোতে আছেন, সেটা সুরক্ষার কারণে। রাজীব গান্ধী হত্যাকাণ্ডের পর তার পরিবারের সবাইকে এসপিজি নিরাপত্তা দেয়া হয়েছিল। তাই বিয়ের পর প্রিয়াঙ্কাও এসপিজি নিরাপত্তার কারণেই সরকারি বাংলো পেয়েছেন। তিনি সৈনিক ফার্মে রবার্টের বাড়িতে যেতে চাইলেও এসপিজি তা মানেনি। এসপিজি সুরক্ষা সরে যাওয়ার পর তিনি আর সরকারি বাড়ি পাওয়ার অধিকারী নন। তাই এই নোটিশ।

এদিকে বিজেপির দুই প্রবীণ নেতা লালকৃষ্ণ আদভাণী ও মুরলী মনোহর জোশীও আর এমপি নন। ২০১৯ সালে তাদের প্রার্থী করা হয়নি। তারা কোনো সরকারি পদেও নেই। তাদের এসপিজি সুরক্ষাও নেই। তা সত্ত্বেও তারা সরকারি বাংলোতে আছেন। সূত্র জানাচ্ছে, এক্ষেত্রে কোনো মন্ত্রী বা প্রবীণ এমপির নামে বাংলো থাকলে তিনি যদি তা দিয়ে দেন, তাহলে তারা থাকতে পারেন।

তবে প্রিয়াঙ্কা বা কংগ্রেস এই সব প্রশ্নের মধ্যে এখনো যায়নি।  তারা এই প্রশ্নও করেনি, এসপিজি সুরক্ষা সরিয়ে নেয়ার সময়ই কেন বাড়ি ছাড়ার নোটিশ দিল না ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সরকার। 

প্রিয়ঙ্কা বরং দিল্লি ছেড়ে লখণৌতে বাড়ি নিয়ে থাকতে চাইছেন। কারণ গান্ধী পরিবার তথা কংগ্রেসের সিদ্ধান্ত- প্রিয়াঙ্কা উত্তর প্রদেশ সামলাবেন। সেখানে দলকে চাঙ্গা করবেন। সেই লক্ষ্য নিয়ে গত বছর দেড়েক ধরে প্রিয়াঙ্কা এগোচ্ছেন। 

কিন্তু কংগ্রেসকর্মীরা মনে করেন, প্রিয়াঙ্কা কোনো বিষয় নিয়ে কিছুটা হইচই করে চুপ হয়ে যান। তাকে আর পাওয়া যায় না। তাছাড়া দিল্লিতে বসে উত্তর প্রদেশের রাজনীতি করা যায় না। তাই তিনি লখণৌতেবাড়ি নিতে চান। সেখানে থেকে মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথকে চ্যালেঞ্জ জানাতে চান। আর গান্ধী পরিবারের দুই খাসতালুক আমেঠি ও রায়বেরিলিকেও রক্ষা করতে চান। গত ভোটে আমেঠি হাতছাড়া হয়েছে। রাহুল হেরেছেন। এ বার আমেঠির পাশাপাশি উত্তর প্রদেশে দলকে চাঙ্গা করার কাজটা মন দিয়ে করতে চান প্রিয়াঙ্কা।

কাজটা খুবই কঠিন। উত্তর প্রদেশে দলের সংগঠন বলে প্রায় কিছুই নেই। নেতারা এখনো কিছু অবশিষ্ট আছেন। তবে মূলত নিষ্ক্রিয়। অবশ্য এটাও ঠিক, মায়াবতী, অখিলেশ যাদব যেমন বিধানসভা নির্বাচনে হারের পর মাঠে নেমে আন্দোলন বা প্রতিবাদ খুব একটা করছেন না। সেখানে একা প্রিয়াঙ্কাকেই দেখা যাচ্ছে প্রতিবাদ করতে। ফলে বিরোধীদের জমিটা খালি আছে। সেই জমি দখল করার কাজটা করতে চান তিনি। -ডয়চে ভেলে

মন্তব্য করুন

Epaper

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

Logo

© 2020 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh