ঘূর্ণিঝড় তওকতের আঘাতে ভারতে নিহত ৬

ভারতের কর্নাটক ও গোয়া রাজ্যে আছড়ে পড়েছে ঘূর্ণিঝড় তওকত। এর আঘাতে ইতোমধ্যেই কর্নাটকে প্রাণ হারিয়েছেন চারজন। কেরলেও ঝড়ের প্রভাবে দুইজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

কর্নাটকের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (কেএসডিএমএ) জানিয়েছে, ঘূর্ণিঝড় তওকতের প্রভাতে রাজ্যের তিন উপকূলীয় জেলাসহ ছয় জেলা ব্যাপক বৃষ্টিপাত হচ্ছে গত ২৪ ঘণ্টা ধরে। ঝড়ের প্রভাবে রাজ্যের ৭৩ গ্রামে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলেও জানানো হয়েছে।

ভারতের গোয়া রাজ্যের দক্ষিণপশ্চিমাঞ্চলীয় উপকূলীয় এলাকা পানজিমেও আঘাত হেনেছে তওকত। কিন্তু এখন পর্যন্ত সেখান থেকে হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায় নি।

ভারতের আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাসে বলা হয়েছিল, শনিবার রাত আড়াইটা নাগাদ এই ঝড়টি ছিলো গোয়া থেকে মাত্র ১৫০ কিলোমিটার, মুম্বাই থেকে ৪৯০ কিলোমিটার ও গুজরাট উপকূল থেকে ৭৩০ কিলোমিটার দূরে। মঙ্গলবার সকালে গুজরাটের উপকূল, পোরবন্দর ও ভাবনগর জেলার মহুভা এলাকায় আছড়ে তওকত পড়তে পারে বলেও জানানো হয়েছিল পূর্বাভাসে।

রবিবার (১৬ মে) দেশটির আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ‘প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে’ পরিণত হওয়ার শঙ্কা রয়েছে তওকতের।

আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস, আগামী ১২ থেকে ১৫ ঘণ্টার মধ্যে ঘণ্টায় ১৪৫ কিলোমিটার বেগ ধারণ করতে পারে তওকত। বর্তমানে গতিবেগ ঘণ্টায় ১২০ থেকে ১৩০ কিলোমিটার। আগামী ১৮ মে দুপুরে প্রবল এ ঘূর্ণিঝড় গুজরাট উপকূলে আঘাত হানতে পারে।

সুপার সাইক্লোনে পরিণত হয়ে মঙ্গলবার ভারতীয় উপকূলে আঘাত হানার সময় এর গতিবেগ হতে পারে ঘণ্টায় ১৬০-১৭৫ কিলোমিটার।  ইতিমধ্যে ভারতের পশ্চিম উপকূলবর্তী পাঁচটি রাজ্য কেরালা, গোয়া, কর্নাটক, মহারাষ্ট্র এবং গুজরাটে জারি করা হয়েছে সতর্কতা।

একই পথে ১৯৩৩ ও ৭৫ সালে দুটি ঘূর্ণিঝড় আঘাত হেনেছিল গুজরাটে। ১৯৭৫ সালের ওই ঘূর্ণিঝড়ে গুজরাটে প্রাণ হারান চার হাজারের বেশি মানুষ। তাই তওকতে ক্ষতি ঠেকাতে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক হয়েছে। প্রস্তুত রয়েছে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর ৫৩টি দল।

শুক্রবার রাতে তওকত লাক্ষ্মাদ্বীপ এবং আরব সাগরের পূর্ব-মধ্য ও দক্ষিণ-পূর্ব এলাকায় অবস্থান করছিল। অর্থাৎ এটি কেরালার কান্নুরের থেকে পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিমে ২৯০ কিলোমিটার, গুজরাতের ভেরাবলের দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্বে ১,০১০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। 

সমুদ্র উত্তাল থাকায় মঙ্গলবার পর্যন্ত মৎস্যজীবীদের আরব সাগরে যেতে নিষেধ করা হয়েছে। নিম্নচাপের ফলে ভারী বৃষ্টি হচ্ছে কেরালা।বৃষ্টি ও ঝড়ের কারণে কেরালায় বাড়িঘর ভেঙে পড়েছে। এছাড়াও রাজ্যটির বেশ কয়েকটি স্থানে বিদ্যুৎ সরবরাহ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।

রবিবার পর্যন্ত কেরালা, কর্নাটক ও গোয়ার উপকূলীয় জেলাগুলোতে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি এবং ভূমিধসের শঙ্কা রয়েছে। ভারী বৃষ্টি ও ভূমিধস হতে পারে গুজরাটের বিভিন্ন উপকূলবর্তী অঞ্চলে। 

মন্তব্য করুন

Epaper

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

Logo

ঠিকানা: ১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

© 2021 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh