ভারতের করোনা সংকট : পুঁজি করছে পাকিস্তানের দাতব্য সংস্থাগুলো

প্রতীকী ছবি

প্রতীকী ছবি

বড় কোনো বিপদ শত্রুদেরও কাছে টানে। বর্তমান বিশ্বে এমনটাই দেখা যাচ্ছে। বর্তমানে বিশ্বের প্রায় প্রতিটি দেশ করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়ছে। একদিকে বলা যেতে পারে, কোভিড-১৯ মহামারির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সংহতি প্রকাশের কারণে বিভিন্ন দেশ পরস্পরের কাছে চলে এসেছে। আমরা দেখতে পাচ্ছি, এই ভয়াবহ মহামারি অবসানের লক্ষ্যে দেশগুলো একে অন্যকে বিভিন্ন উপায়ে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে।

অবশ্য দুর্ভাগ্যজনক হলো, সব দেশের জন্যই এটি একইরকম নয়। যেমন- পাকিস্তান একটি শীর্ষ কোভিড সহায়তা তহবিলের কেন্দ্রীয় স্থানে অবস্থান করছে। দেশটির বিভিন্ন দাতব্য সংস্থা মহামারির এ সুযোগটি কাজে লাগিয়ে নিজেদের উদ্দেশ্য হাসিল করছে। 

জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্কিত দাতব্য সংস্থাগুলো ভারতকে সহায়তার নাম করে বিপুল পরিমাণ অর্থ সংগ্রহ করছে; কিন্তু দানের এ অর্থ যাচ্ছে বিভিন্ন সন্ত্রাসী ও ইসলামপন্থী দল এবং পাকিস্তান সেনাবাহিনীর পকেটে। 

গত ২৬ এপ্রিল মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ভারতের সংকটের সময় দেশটিকে সহায়তার প্রস্তাব দেন এবং তিনি বলেন, ‘তিনি জানেন যে, ভারত আমাদের জন্য এবং আমরাও তাদের জন্য।’ তার এ বক্তব্যে অনেক অমেরিকানই উদ্বুদ্ধ হন এবং ভারতের ১ দশমিক ৩ বিলিয়ন মানুষের জন্য সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন। এ পরিস্থিতির সুযোগ নেন পাকিস্তান থেকে পরিচালিত যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক অনেক দাতব্য সংস্থা। এই দাতব্য সংস্থাগুলো পাকিস্তানের আবেগকে কাজে লাগায়, ভারতের সঙ্গে দীর্ঘদিনের শত্রুতা থাকলেও এমন সংকটে প্রতিবেশী দেশটির পাশে দাঁড়ানোর কথা বলে তারা। 

ইসলামিক মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন অব নর্থ আমেরিকা (ইমানা) একটি দাতব্য সংস্থা। তারা ইনস্টাগ্রামের মতো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দাতব্য প্রচারণা কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। ইমানার কার্যক্রম পর্যালোচনা করে একটি অনুসন্ধানমূলক প্রতিবেদন তৈরি করেছে আইন সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ডিজাইনফো ল্যাব। এই সংস্থাটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, তারা তাদের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি পরিমাণে তহবিল জোগাড় করেছেন। ইনস্টাগ্রামে এই সংস্থাটি দুর্দান্ত দাবি করলেও কীভাবে কোটি কোটি রুপি ব্যয় করা হলো, সে বিষয়ে তারা কোনো স্বচ্ছ প্রমাণ দেয়নি। 

কোভিড তহবিল কেলেঙ্কারি : ডিজাইনফো ল্যাবের প্রতিবেদনটিতে ইমানারা ইনস্টাগ্রামে পরিচালিত দাতব্য প্রচারণা হেল্পইন্ডিয়াব্রিথ নিয়ে বেশ কিছু বিপজ্জনক বিষয় চিহ্নিত করা হয়েছে। এপ্রিলের শেষের দিকে শুরু করা এ প্রচারণায় প্রাথমিকভাবে ১ দশমিক ৮ কোটি রুপি সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। পরবর্তীতে এই লক্ষ্যমাত্রা দুই দফায় সংশোধন করা হয়। প্রথম দফায় লক্ষ্যমাত্রা বৃদ্ধি করে তিন কোটি রুপি এবং এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হওয়ার পর পরবর্তীতে তা আরও বাড়িয়েছে ৫ দশমিক ৬২ কোটি রুপি নির্ধারণ করা হয়। একই ধরনের ক্যাম্পেইন ব্যবহার করে ক্রাউড ফান্ডিং প্ল্যাটফর্ম জাস্ট গিভিংয়ের মাধ্যমে আরও ২ কোটি ডলার সংগৃহীত হয়। পাশাপাশি বিভিন্ন ওয়েবসাইট ও ফেসবুকের মাধ্যমেও দাতব্য প্রচারণা পরিচালনা করে তারা; তবে এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে ঠিক কত টাকা এসেছে, তা পরিষ্কারভাবে জানা যায়নি। 

বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ইমানার তহবিল সংগ্রহ কার্যক্রমের তথ্য জোগাড় করে ডিজাইনফো ল্যাব জানিয়েছে, এই দাতব্যসংস্থাটি ৩০ কোটি রুপি থেকে ১৫ কোটি রুপি সংগ্রহ করেছে বিভিন্নভাবে। 

তহবিল সংগ্রহের আগ পর্যন্ত সবকিছুই স্বাভাবিক মনে হয়েছিল; কিন্তু যখন থেকে ভারতকে প্রকৃতার্থে সহায়তার প্রশ্ন এলো, তখন সবকিছুই কেমন ঘোলাটে মনে হয়। ইমানার চেয়ারম্যান ড. ইসমাইল মেহের সম্প্রতি দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বড় ধরনের দাবি করে জানান, এক লাখ ক্যানুলা, ৪০ হাজার মাস্ক, ৪৫০ অক্সিজেন কনসেন্ট্রেটর, বিনামূল্যে লজিস্টিকস, নন-গ্রাউন্ড কর্মীর জন্য এয়ার ইন্ডিয়ার সঙ্গে চুক্তি এবং কাজের সমন্বয়ের জন্য ডিআরডিও ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে অংশীদারিত্বমূলক চুক্তি হওয়ার কথাও বলা হয়। তবে তার এ দাবির সঙ্গে বাস্তবের সত্যতা পুরোপুরি ভিন্ন। তিনি যেসব চিকিৎসা সরঞ্জামের কথা বলেছেন, তা কখনোই দিল্লিতে পৌঁছেনি বরং অভিযোগ রয়েছে কোভিড সহায়তার জন্য নিজস্ব তহবিল সংগ্রহকারী একটি প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় ১০০টির বেশি অক্সিজেন কনসেন্ট্রেটর গুজরাটে পাঠানো হয়েছে। ডিজইনফো ল্যাবের অনুসন্ধানে দেখা গিয়েছে, সাইয়িদ ফাউন্ডেশনের মতো আরও কিছু দাতব্য সংস্থার সঙ্গে ইমানার যোগাযোগ রয়েছে। এই সাইয়িদ ফাউন্ডেশনও বিভিন্নভাবে সহাতার দাবি করেছে। 

কোভিড সহায়তা তহবিল কেলেঙ্কারির গুরুত্বপূর্ণ অংশ 

ভারতের করোনা সংকটের কথা বলে ইমানা পুরো বিশ্ব থেকেই অর্থ সংগ্রহ করেছে, এখানে সেসব দেশও রয়েছে, যেখানে ভারত খোদ কোভিড ভ্যাকসিন পাঠিয়েছে এবং এর মাধ্যমে তারা ভারত ও ভারতীয়দের সদিচ্ছাকে কাজে লাগিয়েছে। তহবিল সংগ্রহ থেকে শুরু করে এই অর্থ কোথায় পাঠানো হলো এসব বিষয় এখানো পরিষ্কার নয়। 

মনে হচ্ছে, সংস্থাটির চেয়ারম্যান অনর্গল ইংরেজিতে মিথ্যা কথা বলে গিয়েছেন, যিনি দাবি করেছেন ‘হিন্দু ও শিখ’ বন্ধুদের সঙ্গে তার ভালো যোগাযোগ রয়েছে। 

দানের অর্থ কোথায় যায়?  

ডিজইনফো ল্যাবের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিভিন্ন সংগঠনের মাধ্যমে ইমানা তহবিলের অর্থ নানা জায়গায় পাঠায়; তবে এর মূল গন্তব্য হচ্ছে বিভিন্ন সন্ত্রাসী, ইসলামিস্ট অথবা পাকিস্তান সেনাবাহিনী। গোটা তহবিলের অল্প কিছু জনমানুষের সহায়তার জন্য ব্যয় করা হয়েছে। জানা গেছে, ফিলিস্তিনের মানুষদের সহায়তার নামেও তহবিল সংগ্রহ শুরু করেছে ইমানা। ইমানা কেয়ার ২০২০ অ্যানুয়াল রিপোর্ট অনুযায়ী, ‘আল-মোস্তফা ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের (এএমটি) মাধ্যমে পাকিস্তানে ‘সহায়তা’ পৌঁছে দিয়েছে ইমানা। 

ইমানা ও আল খিদমত এই দলটির সঙ্গে ভালো সম্পর্ক রয়েছে। আল খিদমতের সঙ্গে হামাসেরও অত্যন্ত ভালো সম্পর্ক। তহবিল থেকে কয়েক কোটি রুপি চুরি হয়ে গেছে এবং সন্ত্রাসমূলক কার্যক্রমে ব্যয় করা হয়েছে।

মন্তব্য করুন

Epaper

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

Logo

ঠিকানা: ১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

© 2021 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh