যে কারণে তরুণী ও বিধবা চায় তালেবান

আফগান নারী (ছবি: সংগৃহীত)

আফগান নারী (ছবি: সংগৃহীত)

আফগানিস্তানে একের পর এক জেলা দখল করে নিচ্ছে তালেবান। বিশ্লেষকদের অনেকে বলছেন, তালেবানের হাতে কাবুল সরকারের পতন এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। এমন পরিস্থিতিতে যোদ্ধাদের জন্য পাত্রী খুঁজছে গোষ্ঠীটি। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি সান জানিয়েছে, নিজেদের নিয়ন্ত্রণে থাকা এলাকাগুলোতে ধর্মীয় নেতাদের কাছে স্থানীয় অবিবাহিত এবং বিধবা নারীদের তালিকা চেয়েছে তালেবান।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তালিবান কালচারাল কমিশন থেকে জারি করা নির্দেশনায়, তালিবান যোদ্ধাদের বিয়ে দেওয়ার প্রস্তুতির কথা জানিয়ে ১৫ বছরের বেশি বয়সী নারী অথবা বিধবা হলে ৪৫ বছরের নীচে নারীদের তালিকা চাওয়া হয়েছে। শিগগিরই তালিকা পৌঁছানোর তাগিদ রয়েছে চিঠিতে। বিয়ের পর পাকিস্তানের ওয়াজিরিস্তানে নিয়ে যাওয়া হবে সংশ্লিষ্ট মেয়ে বা মহিলাকে। সেখানে ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত করার পর তারা হৃত গৌরব ফিরে পাবেন, এমনই দাবি তালেবানের।

স্থানীয়দের আশঙ্কা, তালিকা হাতে পেতেই হিংস্র হয়ে উঠবে তালেবান। বাড়ি বাড়ি ঢুকে মেয়ের বাবাদের বাধ্য করবে বিয়ে দিতে। রাজি না হলে তুলে নিয়ে যাবে মেয়েদের। এভাবে একে একে প্রাপ্তবয়স্ক সব মেয়েকেই বিয়ে দেওয়া হবে যুদ্ধক্ষেত্রে থাকা বিভিন্ন যোদ্ধাদের সঙ্গে। বৃদ্ধ হাজি রোজি বাইগ তখরের খাজা বহউদ্দিন জেলার বাসিন্দা। তার দুই মেয়ে। একজনের বয়স ২৩ বছর, অপর জন ২৪ বছরের। তিনি জানান, ‘আমি তো বটেই, আমার পরিচিত যাদেরই মেয়ে আছে, সবাই দুশ্চিন্তায় ভুগছেন। মেয়েরা আতঙ্কে নাওয়া-খাওয়া ছেড়ে শুধুই কাঁদছে। শুনতে পাচ্ছি, মেয়েদের তুলে নিয়ে গিয়ে জঙ্গিদের সঙ্গে বিয়ে দিচ্ছে তালেবানরা।তিনি বলেন, ‘সরকারের শাসনে আমরা কত শান্তিতে ছিলাম! অন্তত আমাদের স্বাধীনতা ছিল।সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘তালেবান দখল নেওয়ার পর থেকেই আমরা আশঙ্কায় ভুগছি। জোরে কথা বলতে পারছি না, গান শুনতে পারছি না, সিনেমা দেখা বারণ। এমনকি মহিলারা বাড়ির সামনে বাজারে যেতে সাহস পাচ্ছেন না।

বৃদ্ধ জানান, ‘ওদের (তালেবান) এক সাব-কমান্ডার এসেছিল। বলল বাড়িতে ১৮- বেশি বয়সি মেয়ে রাখা যাবে না। এতে পাপ হবে। বিয়ে দিতেই হবে।কাঁদতে কাঁদতে হাজি বলেন, ‘আমার বাড়িতে কে কে আছে, এসে দেখে গিয়েছে তারা। আমি নিশ্চিত, আমার চোখের সামনে ওরা আমার দুই মেয়েকে তুলে নিয়ে যাবে। ওদের জোর করে জঙ্গিদের সঙ্গে বিয়ে দেওয়া হবে।মহিলারা বাড়ি থেকে বের হলে তার আগে অনুমতি নিতে হবে স্থানীয় তালেবান নেতার। আর হিজাব বাধ্যতামূলক তো আছেই। তবে মেয়েদের স্কুলে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছে তালেবানরা। মহিলা শিক্ষিকা হলে তবেই বাইরে যাওয়া যাবে। এমন নিয়ম চালু করেছে তারা। নিয়ম ভাঙলেই শাস্তি।

আফগানিস্তান থেকে মার্কিন ন্যাটো সেনা প্রত্যাহার শুরুর পর থেকে হামলা জোরদার করেছে তালেবান। সম্প্রতি তারা দাবি করেছে, দেশটির ৮৫ শতাংশ এলাকা তাদের যোদ্ধারা দখল করেছে। ইতিমধ্যে বেশ কিছু এলাকায় ধূমপান এবং দাঁড়ি কাটা নিষিদ্ধ করেছে তারা।

মন্তব্য করুন

Epaper

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

Logo

ঠিকানা: ১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

© 2021 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh