কমনওয়েলথ গেমসে ছোট খেলায় বড় আশা

দরজায় কড়া নাড়ছে কমনওয়েলথ গেমসের ২২তম আসর। বাংলাদেশের জন্য অংশগ্রহণ বড় কথা হলেও ছোট ছোট খেলাগুলোয় ভালো কিছু করার প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

বলা যায় অন্য খেলা নিয়ে বাড়ছে আশা। কারণ আগের মতো আর সাফল্য নেই শুটিংয়ে। অথচ কমনওয়েলথ গেমসে বাংলাদেশের পতাকা উড়িয়েছিল এই খেলাটি। তিন দশকেরও বেশি সময় আগে ১৯৯০ অকল্যান্ড কমনওয়েলথ গেমস থেকেই শুটিংয়ে দাপট দেখানো শুরু বাংলাদেশের। শুটার আব্দুর সাত্তার নিনি ও আতিকুর রহমানের হাত ধরে মর্যাদার এই আসর থেকে প্রথম স্বর্ণপদক জিতেছিল লাল সবুজ পতাকাধারীরা। এরপর থেকে কমনওয়েলথ গেমস এলেই আলোচনার কেন্দ্রে চলে আসেন তারা। স্বর্ণপদক না জিততে পারলেও ধারাবাহিকতা ধরে রেখে গত তিন দশকে প্রায় প্রতিটি আসরেই বাংলাদেশের শুটারদের হাত ধরে এসেছে পদক।

সর্বশেষ দুটি আসরে রুপালি হাসি হেসেছেন আরেক রাইফেল শুটার আব্দুল্লাহ হেল বাকী। এছাড়া ২০১৮ সালে গোল্ড কোস্ট গেমসে রৌপ্য পদক জিতেছিলেন পিস্তল শুটার শাকিল আহমেদ। এখন পর্যন্ত কমনওয়েলথ গেমসে জয় করা ২টি স্বর্ণ, চারটি রৌপ্য ও ২টি ব্রোঞ্জসহ মোট ৮টি পদকই এসেছে বাংলাদেশের শুটারদের হাত ধরে। কিন্তু আরেকটি গেমস যখন শুরুর অপেক্ষায়, তখন একরাশ হতাশা নিয়ে দিন পার করছেন শুটাররা। যুক্তরাজ্যের বার্মিংহামে আগামী ২৮ জুলাই থেকে ৮ আগস্ট অনুষ্ঠেয় ২২তম কমনওয়েলথ গেমসে অনেকটা অপ্রত্যাশিতভাবেই নেই শুটিং ডিসিপ্লিন। আশ্চর্যজনকভাবে নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে শুটিংয়ের পাশাপাশি রাখা হয়নি সম্ভাবনাময় আর্চারিও। 

বাংলাদেশ এবারের প্রতিযোগিতায় সাতটি ডিসিপ্লিনে অংশ নেবে। যার মধ্যে অ্যাথলেটিক্স, বক্সিং, জিমন্যাস্টিকস, সাঁতার, টেবিল টেনিস, ভারোত্তোলন, কুস্তিতে অংশ নেওয়ার অপেক্ষায় বাংলাদেশের ৩১ জন ক্রীড়াবিদ। যার মধ্যে পদক জেতার মতো কোনো ডিসিপ্লিনই নেই! সে কারণে অনেকটা আড়ালে থাকা ডিসিপ্লিনগুলোকে ঘিরেই বাড়ছে প্রত্যাশা। এবারের গল্পটা অবশ্য অনেকটাই ভিন্ন। এই খেলাটিতে পদক চিন্তা দূরে রেখে এবার ভালো কিছুর লক্ষ্য দলে ইমরানুর রহমান নামের একজন থাকায়। যুক্তরাজ্য প্রবাসী ইমরানুর ‘সেকেন্ড হোমে’ দেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন সবচাইতে মর্যাদার ১০০ মিটার স্প্রিন্টে। সর্বশেষ দুই বছরে ইমরানুর এই ইভেন্টে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করে বাংলাদেশের প্রত্যাশা বাড়াচ্ছেন। 

অ্যাথলেটিক্সে বাংলাদেশের আশা বলতে এই ইমরানুরই। যদিও এই অ্যাথলেট ৬০ মিটারে (ইনডোর গেমস) বেশি স্বচ্ছন্দ বোধ করে থাকেন। তারপরও তাকে ঘিরে অতীতের সেরা পারফরম্যান্স ছাড়িয়ে যাওয়ার আশা দেখছেন ফেডারেশনের কর্মকর্তারা। অন্যদিকে জিমন্যাস্টিকসে আশার আলো আরেক প্রবাসী তরুণ তুর্কি আলী কাদের হক। নিউজিল্যান্ডে জন্ম ও বেড়ে উঠলেও এই তরুণের শরীরে বইছে অবশ্য বাংলাদেশের রক্ত। বেশ কয়েক বছর ধরে জুনিয়র লেভেলে সিঙ্গাপুরসহ নানা দেশে আলো ছড়ানো কাদের প্রথমবারের মতো এবার সিনিয়র পর্যায়ে দেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন। তার সঙ্গে বাংলাদেশ জিমন্যাস্টিকস দলে শিশির আহমেদ ও আবু সাঈদ রাফিও নিজেকে তৈরি করছেন। সাঁতারের সম্ভাবনা বহু আগে শেষ হয়ে গেলেও বৈশ্বিক সংস্থা ফিনার বদান্যতায় বড় গেমসগুলোতে নিয়মিতই সুযোগ পেয়ে থাকেন বাংলাদেশের সাঁতারুরা।

এবারও পাঁচ সাঁতারু মাহমুদুন্নবী নাহিদ, সুকুমার রাজবংশী, আসিফ রেজা, মরিয়ম আক্তার ও সোনিয়া খাতুন ১০টি ইভেন্টে পুলে ঝাঁপিয়ে পড়বেন। পড়ালেখার জন্য বিরতিতে যাওয়া জন্মভিটা যুক্তরাজ্য প্রবাসী সাঁতারু জুনায়না আহমেদ যদিও খেলছেন না। তবে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ কমনওয়েলথ গেমসের টেবিল টেনিস ডিসিপ্লিনে অংশ নিতে যাচ্ছে। মোহতাসিন আহমেদ হৃদয়, রিফাত মাহমুদ সাব্বির, মুফরাদুল খায়ের হামজা ও রামহিমলিয়ান বম, সোনাম সুলতানা সোমা ও সাদিয়া রহমান মৌকে নিয়ে গড়া হয়েছে দল। এই গেমসকে সামনে রেখে অনেক দিন ধরেই আবাসিক ক্যাম্পে তৈরি হচ্ছেন বাংলাদেশের খেলোয়াড়রা। ভারতীয় কোচের অধীনে তারাও অভিষেকে ভালো কিছু উপহার দিতে চান। 

তবে গত আসরে নিজের নামের প্রতি সুবিচার করতে না পারলেও এবার ভারোত্তোলক মাবিয়া আকতার সীমান্তকে নিয়ে বড় স্বপ্ন দেখছেন বাংলাদেশ ভারোত্তোলন ফেডারেশনের কর্তারা। পরপর দুটি সাউথ এশিয়ান (এসএ) গেমসে স্বর্ণজয়ী সীমান্ত এবার খেলবেন ৬৪ কেজি ওজন শ্রেণিতে। এছাড়া ৪৯ কেজিতে মার্জিয়া আকতার ইকরা, ৭৬ কেজিতে মনিরা কাজী ও ছেলেদের ৫৫ কেজিতে খেলবেন আশিকুর রহমান তাজও নিজেকে লড়াইয়ে শামিল করেছেন। কুস্তিতে অংশগ্রহণের অপেক্ষায় আব্দুর রশিদ হাওলাদার (৮৬ কেজি), লিটন বিশ্বাস (১২৫ কেজি), দোলা খাতুন (৬২ কেজি) ও তিথি রায় ( ৬৮ কেজি)।

যদিও বাংলাদেশ বহরে ২০ জন কর্মকর্তার তালিকায় শেষ মুহূর্তে বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে শেফ দ্য মিশন পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি ও বাংলাদেশ আর্চারি ফেডারেশনের সভাপতি জেনারেল (অব.) মাইনুল ইসলাম। বিওএকে তাই অনেকটা তড়িঘড়ি করে শেফ দ্য মিশন হিসেবে মাইনুলের বিকল্প হিসেবে বাংলাদেশ দলের নেতৃত্ব দেবেন বাংলাদেশ অ্যাথলেটিক্স দলের অফিসিয়াল ও ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রকিব মন্টু। তার নিয়োগের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে এরই মধ্যে।

সাম্প্রতিক দেশকাল ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad

মন্তব্য করুন

Epaper

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

Logo

ঠিকানা: ১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

© 2022 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh

// //