গাভী পালনে সাফল্য

কুড়িগ্রামের ওপর দিয়ে প্রবাহিত ব্রহ্মপুত্র, ধরলা, তিস্তা, দুধকুমার, সংকোষসহ ১৬টি নদ-নদীর অববাহিকায় সাড়ে চার শতাধিক চরাঞ্চলের পাঁচ লক্ষাধিক মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করছে। এসব মানুষের জীবনমান উন্নয়নে বিভিন্ন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা কাজ করলেও ভাগ্যের পরিবর্তন হয়নি এসব চরাঞ্চলের মানুষদের। 

তবে এবার স্থানীয় বেসরকারি সংস্থা গণউন্নয়ন কেন্দ্রের একটি উদ্যোগ চরাঞ্চলের দরিদ্র মানুষদের ভাগ্য বদলে দিয়েছে। তাদের সহযোগিতায় জেলার রৌমারী ও রাজীবপুর উপজেলার চরাঞ্চলের ৩০টি গ্রামের ছয় শতাধিক পরিবার উন্নত জাতের গাভী পালন করে স্বাবলম্বী হয়ে উঠছেন।

সরেজমিন খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গণউন্নয়ন কেন্দ্র ২০১৫ সাল থেকে চরবাসীদের জীবনমান উন্নয়নে রৌমারী ও রাজীবপুর উপজেলার নয়টি ইউনিয়নের মানুষকে উন্নত জাতের গাভী পালনে উদ্বুদ্ধ করতে কাজ শুরু করে। বিশেষ করে চরের নারীদের বিভিন্ন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে উন্নত জাতের গাভী পালনে উৎসাহিত করে তোলে।

রৌমারী উপজেলার বাইশপাড়াচর গ্রামের লিপি বেগম। তার বাড়ির উঠানেই রয়েছে গোয়াল ঘর। সেখানে চোখে পড়ে ছোট-বড় আটটি উন্নত জাতের গরু। 

তিনি বলেন, ২০১৪ সাল পর্যন্ত আমাদের একটি দেশি গরু ছিল। পরে ২০১৫ সালে গণউন্নয়ন কেন্দ্রের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ নিয়ে দেশি গরুটি বিক্রি করে দিই; কিন্তু তাতে বিদেশি গাভী কেনা সম্ভব হয়নি। পরে গণউন্নয়ন কেন্দ্রের সহযোগিতায় ন্যাশনাল ব্যাংক থেকে কিছু টাকা ঋণ নিয়ে একটি উন্নত গাভী কিনি। এ চার-পাঁচ বছরে আমাদের গরুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৩টি। এর মধ্যে পাঁচটি বিক্রি করে দিয়েছি। ব্যাংকের ঋণ পরিশোধ করে আবারো লোন নিয়েছি। ব্যাংকের লোকজন প্রথমে ঋণ দিতে না চাইলেও এখন তারা নিজেরাই আরও বেশি টাকা লোন দিতে চাচ্ছে। প্রতিদিন দুধ বিক্রি করে সব খরচ বাদ দিয়ে ১৪০০ টাকা রোজগার হচ্ছে।

গণউন্নয়ন কেন্দ্রের রিকল প্রকল্পের প্রকল্প সমন্বয়কারী মো. মুনির হোসেন জানান, এখানকার চরাঞ্চলের মানুষকে উন্নত জাতের গাভী পালনে উদ্বুদ্ধ করতে এবং স্বাবলম্বী হওয়ার ব্যাপারে প্রশিক্ষণসহ নানাভাবে উৎসাহিত করে তোলা হয়েছে।

মন্তব্য করুন

Epaper

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

Logo

ঠিকানা: ১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

© 2021 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh