মশক কাহিনি

প্রতীকী ছবি

প্রতীকী ছবি

মশার জ্বালায় গোটা শহর অস্থির। মশা মশা মশা। কোথায় মশা নেই। মোতালেব সাহেব অফিসের সামনে রিকশা থেকে নেমে ভাড়া দেওয়ার জন্য মানিব্যাগ খুললেন, সেখান থেকেই দুটি মশা বের হয়ে এলো। নিজের অফিসে ঢুকে পেন্ডিং ফাইল একটা খুলতেই তার ভেতর থেকে পিন পিন করতে করতে গোটা কয়েক মশা বের হয়ে এলো। এর মানে কী? তার অফিস ছ’তলায়, মশাতো নাকি দোতলা তিন তলার বেশি উড়তে পারার কথা না। তার ডানার যে মেকানিজম তাতে সম্ভব না; কিন্তু ছ’তলায় কি করে আসে মশা? উফ অসম্ভব একটা ব্যাপার। এর একটা হেস্ত-নেস্ত হওয়া দরকার। কিন্তু কীভাবে? 

হঠাৎ মনে পড়ল তিনি যে বাসায় থাকেন, সেই বাসার তিন তলায় সিটি করপোরেশনের এক অফিসার থাকে তাকে ধরলে কেমন হয়। লোকটা বড় অফিসার, তাতে কী? তাকে দুয়েক কথা শুনাতে পারলেও মনটা যদি একটু শান্ত হয়। সেদিন অফিস থেকে ফিরেই তিনি সোজা তিন তলায় গিয়ে হাজির হলেন। দরজায় নক করতেই সেই ভদ্রলোকই দরজা খুললেন।

  • কাকে চান?
  • আপনাকেই
  • কি ব্যাপার? লোকের ভ্রু কুঁচকে যায়
  • আমি নিচ তলায় থাকি। আপনিতো সিটি করপোরেশনের বড় অফিসার। মশার বাপারে কী করছেন আপনারা বলুনতো?
  • মানে?
  • মানে মশার তো মড়ক লেগে গেছে টের পাচ্ছেন না? 
  • হোয়াট ডু ইউ মিন?
  • আমি মিন করছি, মানে বলতে চাচ্ছি ... একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে সিটি করপোরেশনের কাছে আমার জানার অধিকার আছে মশা নিয়ে আপনারা কি ভাবছেন? মশা মরছে না কেন? 
  • সেটা সিটি করপোরেশনে গিয়ে জিজ্ঞেস করুন। 
  • কেন আপনি সিটি করপোরেশনের লোক না? 
  • হ্যাঁ, তাতে কি এর জবাবদিহি আপনাকে বাসায় বসে করতে হবে? গেট আউট। বলে মুখের ওপর দরজা লাগিয়ে দিলের লোকটা। মোতালেব সাহেবও কম যান না। দরজায় গোটাচারেক লাথি দিয়ে নেমে এলেন নিজের বাসায়। একটু যেন শান্তি পেলেন মনে হলো। 

কিন্তু পরদিনই বাড়িওয়ালার কেয়ারটেকার একটা কাগজ ধরিয়ে দিল। খুলে দেখেন বাড়ি ছাড়ার নোটিস! মানে কি? কাগজ নিয়ে বাড়িওয়ালার কাছে গেলেন। বাড়িওয়ালা থাকে দোতলায়।

  • এর মানে কী?
  • কিসের মানে? বাড়িওয়ালা গম্ভীর।
  • বাড়ি ছাড়ার নোটিস পাঠিয়েছেন। 
  • আমি বেয়াদব ভাড়াটিয়া রাখব না। 
  • কি বেয়াদবী করেছি?
  • সম্মানিত লোকের সম্মান দিতে জানেন না আপনি। এমন ভাড়াটিয়ার আমার দরকার নেই। মোতালেব সাহেব তখন দুয়ে দুয়ে চার মিলালেন। ওহ, ওই সিটি করপোরেশনের বড় অফিসারতো বাড়িওয়ালার আত্মীয়; সম্পর্কে বেয়াই লাগে, এটা মনেই ছিল না। উনি নিশ্চয়ই নালিশ দিয়েছে, উফ...!

‘ঠিক আছে বাড়ি ছাড়ব তবে এক সপ্তাহ সময় দিন আমাকে’ বলে বাড়িওয়ালাকে ঠেকালেন। এখন একটা ঘটনা ঘটাতে হবে। দাঁত কিড়মিড় করে ভাবলেন মোতালেব সাহেব। তারপর ফোন দিলেন তার এক ছেলেবেলার বন্ধুকে। 

  • কে মনা?
  • হ দোস্ত, শেষ পর্যন্ত মনা চোরারে মনে পড়ল? 
  • হ্যাঁ দোস্ত, চোর হইলেও তুইতো আমার ছেলেবেলার বন্ধু। চুরি দারি কি এখনো করিস?
  • নাহ দোস্ত এখন ভালো হয়া গেছি। 
  • ভেরি গুড। তবে দোস্ত আমার জন্য শেষ একটা চুরি কর। 
  • কি কস তোর লাইগা চুরি ক্যান, ডাকাতিও করতে পারি। ক কী করতে হইব?

মোতালেব সাহেব বললেন তাকে কী করতে হবে। সবটা শুনে ওপাশে মনা চোরার অট্টহাসি শোনা গেল একটা। 

এর ক’দিন পরই শুরু হলো খেলা। সেই সিটি করপোরেশনের অফিসারের বাড়িতে আর বাড়িওয়ালার বাড়িতে চুরি হলো। জটিল কিছু চুরি হলো না। দুই বাড়ির সব মশারি, চোর চুরি করে নিয়ে গেল। সে রাতটা মশার কামড়ে অতিষ্ঠ হয়ে পরদিন আবার মশারি কিনল তারা; কিন্তু ফের পরদিন মশারি চুরি হলো। এবং এই প্রক্রিয়া চলতেই থাকল... চলতেই থাকল। 

থানায় জানান হলো। ওসি সাহেব শুনে প্রথমে অট্টহাসি দিলেন। তারপর বললেন গরু চোর পর্যন্ত মানা যায়। মশারি চোর... অসম্ভব! দেখেন আত্মীয়স্বজন কেউ আপনাদের সঙ্গে মজা করছে, খোঁজ লাগান। 

তারপর একদিন কি মনে করে বাড়িওয়ালা এসে মোতালেব সাহেবের হাতে পায়ে ধরলেন। 

  • ভাই আমার কেন যেন মনে হচ্ছে এই সমস্যার সমাধান আপনার কাছে। আমার ভুল হয়েছে মাফ করেন, বাড়ি ছাড়তে হবে না। আমি বেয়াইকে বাড়ি ছাড়ার নোটিস দিয়েছি। আমাকে মশার হাত থেকে বাঁচান... প্লিজ। 

এবার মোতালেব সাহেব অট্টহাসি দিলেন, তবে মনে মনে।

মন্তব্য করুন

Epaper

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

Logo

ঠিকানা: ১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

© 2021 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh

// //