শফিক হাসানের দুটি অণুগল্প

প্রতীকী ছবি

প্রতীকী ছবি

অপরপক্ষ

সকালটার ‘শুরু’ কাঁঠাল ভক্ষণ দেখে। শাখা ডাস্টবিন থেকে বড় গাড়িতে ময়লা তুলছে পরিচ্ছন্নকর্মীরা। এ সময় ‘ভালো কন্ডিশনের’ একটি কাঁঠাল পেয়ে যায় তারা। থিকথিকে নোংরা পানির ওপর দাঁড়িয়ে শুরু করে খাওয়া। চোখ ফিরিয়ে হাঁটা ধরলাম। মিরপুরে এমন দৃশ্যের সন্ধান আকছার মেলে। নতুন কিছু নয়। সারাদেশেও এমন ক্যাটাগরির আরও সিন-সিনারি নিশ্চয়ই কম নেই।

বনানী মসজিদের সামনে সাগর মামাসহ আরও মামা-মামিরা আমাদের টিকিয়ে রেখেছেন; সস্তায় খাবার পরিবেশন করে। কড়াইল বস্তির রান্না, বিক্রি হয় অভিজাত এলাকায়। ‘তেহারি ৭০ টাকা’ হাঁকডাকে অর্ডার দিলাম। চলে এলাম রাস্তার ওপাশে। এখানে করোনা-জটলা কম। দাঁড়িয়ে খেতে হবে।

গরুর মাংসের বিন্দুসম টুকরায় আরাম করে দাঁত বসিয়েছি কেবল। চোখ পড়ল সামনে অন্ধ মহিলা ভিক্ষুকের দিকে। পরিচিত এক সুহৃদ কুশল বিনিময় করতে এলে বললেন- মসজিদের বাথরুমে পানি আছেনি? পোলাডারে তিন দিন গোসল করাই না।

ছেলেটি সামনেই। ছয়-সাত বছর বয়সী, স্নিগ্ধ কিশোর। ধক করে উঠল বুকটা। শিশুদের জন্য হ্যাঁ বলতে হয়! আমার ‘হ্যাঁ’টা কীভাবে বলব।

জবাব এলো- পানি আছে। বদনায় গোসল করতে অইব।

-এইভাবে কি গোসল সারন যায়!

মহিলার ‘চুজি’ মনোভাবে থমকালাম। নিশ্চয়ই তার বাসা-বাড়িও নেই। এই শহরের কোথায়, কীভাবে থাকে।

আহা রে। 

গণতন্ত্র কোথায় ঘাপটি মেরে আছে!

পরদুঃখে কাতর আমার একবারও মনে হলো না, নিজেও অভাগা-দুর্ভাগার তালিকার বাইরে নই। জীবন নানান কেরদানিতে আমাদের একই সমান্তরালে দাঁড় করিয়ে রেখেছে।

আচার-বিচার

রেডিমেড সংস্কৃতি জীবনকে দিয়েছে স্বাচ্ছন্দ্য; উপভোগের মন্ত্রও। ঘাড় থেকে নামিয়েছে ওইসব ঐতিহ্য-ফৈতিহ্য, তথা মাটির ঠিলার বাড়তি ওজন। বোতলের ছিপি খুলে ঢকঢক করে পানি গেলার মধ্যে এক ধরনের স্মার্টনেস আছে। আভিজাত্যও লুকিয়ে আছে এই তরিকায়। রোমেল তাই সুযোগ পেলেই বোতলজাত পানি কেনে। গলাধঃকরণ শেষে প্লাস্টিকের খালি বোতলটা ছুড়ে ফেলে রাস্তায়। যথারীতি আজও বোতল ফেলেছে; শরীর-মনে জোশ এসেছে এতে। 

কিছুক্ষণ পরে একটা চলন্ত মোটরসাইকেলের চাকা বোতলটাকে চাপা দেয়। দুমড়েমুচড়ে পড়ে একপাশে। আচমকা বৃষ্টি শুরু হলে বোতলের খোলে পানি জমে। ফেরার পথে রোমেলের পা পড়ে বোতলের ধ্বংসাবশেষের একপ্রান্তে। লহমায় পানি ছিটকে পড়ে প্যান্টে, শার্টে, চোখে-মুখে।

কী একটা উটকো ঝামেলা! বিরক্তি প্রকাশ করে রোমেল- শালার এদেশের মানুষ কবে যে সভ্য হবে!

মন্তব্য করুন

Epaper

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

Logo

ঠিকানা: ১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

© 2021 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh

// //