ওয়াই-ফাই ওয়ারড্রাইভিং তথ্য চুরির নতুন ফাঁদ

ওয়াই-ফাই ওয়ারড্রাইভিং হলো অনিরাপদ ও উন্মুক্ত ওয়াই-ফাই সংযোগ খুঁজে বের করার প্রযুক্তিগত ভাষা। ওয়ারড্রাইভিং শনাক্ত করা কঠিন হলেও সহজেই এটি থেকে নিরাপদ থাকা সম্ভব। আর এর মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ওয়াই-ফাইয়ের সাথে সংযুক্ত ডিভাইস থেকে তথ্য চুরি করা হয়।

ওয়ারড্রাইভিংয়ে হ্যাকার বা হামলাকারীরা গাড়ি বা সাইকেলে উন্নত যন্ত্র নিয়ে নির্দিষ্ট এলাকা ভ্রমণ করে এবং অনিরাপদ বা উন্মুক্ত ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্ক শনাক্তের চেষ্টা করে। ওয়ারড্রাইভারদের সংগ্রহে বেশকিছু সফটওয়্যার রয়েছে। এর মধ্যে প্যাকেট স্নিফার, নেটওয়ার্ক অ্যানালাইসিস প্যাকেজ ও ওয়াই-ফাইয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ধ্বংসকারী সফটওয়্যারও রয়েছে।

হাউটুগিকের তথ্যানুযায়ী, ওয়ারড্রাইভাররা তাদের বাহনে অধিক শক্তিশালী অ্যান্টেনা ব্যবহার করে। যেটি বেশি দূরত্বেও দুর্বল ও উন্মুক্ত ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্ক শনাক্ত করতে পারে। প্রয়োজন অনুযায়ী তারা বিভিন্ন ধরনের অ্যান্টেনা ব্যবহার করে। তারা ল্যাপটপের মতো বহনযোগ্য কম্পিউটার কিংবা রাস্পবেরি পিআইয়ের মতো ডিভাইসও ব্যবহার করে। দুর্বল নেটওয়ার্কগুলোর অস্তিত্ব শনাক্তে হ্যাকাররা জিপিএস ইউনিটও ব্যবহার করে।

নির্দিষ্ট অঞ্চলে ঘুরে ওয়্যারলেস নেটওয়ার্ক-সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করা কোনো অপরাধ নয় এবং হুমকিও নয়। টেকক্র্যাটিকের মতে, তথ্য সংগ্রহের সুবিধা ও সক্ষমতা ব্যবহার করে কোনো নেটওয়ার্কে অনুপ্রবেশ ও ক্ষতিসাধনের চেষ্টা করা হলেই সেটি ওয়ারড্রাইভিং আক্রমণে রূপান্তরিত হয়। একজন রিমোট হামলাকারী যদি কারো ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্কে প্রবেশ করতে পারে তাহলে সেই নেটওয়ার্কে যুক্ত ডিভাইসগুলোয়ও তারা প্রবেশ করতে পারবে। এর মধ্যে মোবাইল, কম্পিউটার, ল্যাপটপ, স্টোরেজ ডিভাইস, ক্যামেরাসহ অন্যান্য ডিভাইসও রয়েছে।

অপরিচিত কেউ যদি কারো ব্যক্তিগত নেটওয়ার্কে অনধিকার প্রবেশ করে তাহলে সেটি মারাত্মক ক্ষতিকর। এর মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যাংকসংক্রান্ত তথ্য এবং অর্থ হাতিয়ে নেয়ার মতো ঘটনা ঘটতে পারে। আশার কথা হচ্ছে, একজন ব্যবহারকারী তার ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্কের নিরাপত্তা ব্যবস্থার কঠোরতা যাচাই করতে সক্ষম এবং ওয়ারড্রাইভারদের জন্য এটিকে আরো জটিল করতে পারবেন।

ওয়ারড্রাইভার হামলা প্রতিরোধে প্রত্যেক ব্যবহারকারীকে তাদের রাউটারের ফার্মওয়্যার ভার্সন আপডেটের পাশাপাশি অ্যাডমিন ও ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্কে শক্তিশালী পাসওয়ার্ডের ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। এজন্য প্রথমেই রাউটারের ইজি গাইড ও মেনু দেখতে হবে।

ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্কে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। বর্তমানের রাউটারে ডব্লিউপিএ৩ নিরাপত্তা ভার্সন চলছে। যদি বর্তমান রাউটারে এটি না থাকে তাহলে দ্রুত সময়ের মধ্যে রাউটার পরিবর্তন করতে হবে। পুরনো ওয়াই-ফাইতে যুক্ত ডিভাইসগুলোয় উচ্চক্ষমতার নিরাপত্তা ব্যবস্থা কাজ না করার বিষয়টিও মাথায় রাখতে হবে। ওয়াাই-ফাই নেটওয়ার্কের কার্যক্রম তদারকির ভয় থাকলে ভিপিএন ব্যবহারের পরামর্শও দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। - সূত্র: টেকটাইমস

Ad

মন্তব্য করুন

Epaper

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

Logo

ঠিকানা: ১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

© 2022 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh

// //