ঈদে পর্যটকশূন্য সুন্দরবন

দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছে বিশ্বখ্যাত ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট সুন্দরবনের কদর বরাবরই অনেক বেশি। কিন্তু এবারের ঈদে সুন্দরবনের পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে পর্যটকদের উপস্থিতি একদম শূন্যের কোটায়।

ঈদের দিন সকাল থেকেই মোংলার সুন্দরবন উপকূলের ওপর দিয়ে বৃষ্টির সাথে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যাচ্ছে। মূলত এ কারণেই সুন্দরবনে দর্শনার্থীদের আনাগোনা নেই।

একই অবস্থা সুন্দরবনের পর্যটনস্পট করমজলসহ বাকি কেন্দ্রগুলোরও। 

করমজল পর্যটন কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাওলাদার আজাদ কবির বলেন, ঈদের দিন মূলত সুন্দরবন দেখতে স্থানীয় পর্যটকরাই বেশি আসেন। এরপর আসেন বাইরের দূর-দূরান্তের পর্যটকরা। কিন্তু ঈদের দিন সকাল থেকেই হঠাৎ করে ঝড়-বৃষ্টি শুরু হওয়ায় পর্যটকরা আসেননি। গতকাল মঙ্গলবার (৩ মে) দুপুর পর্যন্ত মাত্র ১০ থেকে ১৫ জন ছোট ছোট বাচ্চা এসেছে। অথচ শুধু ঈদের দিনেই সাধারণত কয়েক হাজার  পর্যটক এসে থাকেন। 

ওই কর্মকর্তা আরো বলেন, প্রতি বছর শীত মৌসুমের পর বিভিন্ন উৎসবে পর্যটকে ঠাসা থাকে সুন্দরবন। কিন্তু এবারের চিত্র একেবারে ভিন্ন।

জানা গেছে, সুন্দরবনে করমজল, হাড়বাড়ীয়া, হিরণপয়েন্ট, নীল কমল, কটকা-কচিখালী, দুবলাচরসহ বেশ কয়েকটি পর্যটনস্পট রয়েছে। এসব এলাকা ঘিরে বিভিন্ন উৎসবসহ শীতে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের ভিড় লেগে থাকে। এমনকি পর্যটকদের ঢলে হিমশিম খেতে হয় বন প্রহরীদের। কিন্তু এখন অলস সময় কাটাচ্ছেন তারা।

স্থানীয়রা জানান, ভ্রমণে অবস্থাপনা, পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধার অভাব, দর্শনীয় এলাকাগুলো আকর্ষণীয়ভাবে গড়ে না তোলাসহ নানা কারণেই ভ্রমণ পিপাসুদের আকৃষ্ট করতে পারছেন না বনবিভাগ।

সেভ দ্যা সুন্দরবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান লায়ন ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, পার্শ্ববর্তী অনেক দেশ রয়েছে যাদের আয়ের অন্যতম উৎস পর্যটন খাত। সুন্দরবনের দর্শনীয় স্পটগুলোকে সেভাবে গড়ে তুলতে পারলে আমাদেরও এ খাত থেকে বড় ধরনের রাজস্ব আদায় করা যাবে। এজন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিক হতে হবে।

পূর্ব সুন্দরবনের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মুহাম্মদ বেলায়েত হোসেন বলেন, ঈদকে কেন্দ্র করে সুন্দরবনের ১১টি পর্যটন কেন্দ্র দর্শনার্থীদের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছিলো। কিন্তু প্রাকৃতিক দুর্যোগের ওপর তো কারো কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। ঈদের পর পর্যটক আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

সুন্দরবনের পর্যটন স্পটগুলো আকর্ষণীয় করতে ২৫ কেটি টাকার বেশ কয়েকটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। যেগুলোর কাজও চলমান রয়েছে বলে তিনি জানান।

Ad

মন্তব্য করুন

Epaper

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

Logo

ঠিকানা: ১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

© 2022 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh

// //