বোরহানউদ্দীন খান জাহাঙ্গীর মারা গেছেন

বরেণ্য শিক্ষাবিদ, কবি ও চিত্র সমালোচক বোরহানউদ্দীন খান জাহাঙ্গীর মারা গেছেন। 

সোমবার (২৩ মার্চ) দুপুর ১২টার দিকে গুলশানে নিজ বাসভবনে তিনি মারা যান। 

বিকাল সাড়ে ৪টায় তাকে চাঁদপুরের কচুয়াতে নিয়ে গিয়ে দাফন করা হবে বলে জানা যায়।

বোরহানউদ্দীন খান জাহাঙ্গীরের ভাতিজা মুনতাসীর মামুনের স্ত্রী ফাতেমা মামুন এ তথ্য নিশ্চিত করেন। 

বোরহানউদ্দীন ১৯৩৬ সালের ৯ জানুয়ারি তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির (বর্তমান বাংলাদেশ) চাঁদপুর জেলার কচুয়ায় জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম আশেক আলী খান এবং মাতার নাম সুলতানা বেগম। 

১৯৫০ সালে ঢাকা সরকারি মুসলিম হাইস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং ১৯৫২ সালে ঢাকা কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেন। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিষয়ে ১৯৫৫ সালে স্নাতক এবং ১৯৫৬ সালে স্নাতকোত্তর সম্মান অর্জন করে। সত্তরের দশকে তিনি উচ্চ শিক্ষার জন্য ইংল্যান্ড যান এবং সেখানে ডারহাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৭৪ সালে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।

বোরহান কর্মজীবন শুরু করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে প্রভাষক পদে যোগদান করে। পরে তিনি এই বিভাগের অধ্যাপক হিসেবে দ্বায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া তিনি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য পদেও দ্বায়িত্ব পালন করেছেন।

১৯৮৩ সালে ডানা প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত হয় তার প্রবন্ধ সংকলন মাইকেলের জাগরণ ও অন্যান্য প্রবন্ধ। এতে ১০টি প্রবন্ধ রয়েছে। ১৯৯৩ সালে প্রকাশিত হয় তার কবিতার বই আমাদের মুখ। ১৯৯৮ সালে প্রকাশিত হয় তার লেখা মানুষের বুকের মধ্যে কাব্যগ্রন্থ। এই গ্রন্থে ৪০টি কবিতা রয়েছে। ২০০৭ সালে প্রকাশিত হয় এলুয়ার যেমন ভাবতেন। এই কাব্যগ্রন্থে ৩৩টি কবিতা রয়েছে। মোট কথা তিনি প্রবন্ধ, ছোটগল্প, উপন্যাস ও গবেষণায় সিদ্ধহস্ত ছিলেন। 

সাহিত্য সাধনার স্বীকৃতিস্বরুপ তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৬৯), ইউনেস্কো ও ফ্রান্স সরকার কর্তৃক ফল অব অনার (১৯৮৬),মুজাফফর আহমদ স্মৃতি পুরস্কার, কলকাতা (২০০৫), শিক্ষা ও গবেষণায় একুশে পদক (২০০৯) অর্জন করেন।

মন্তব্য করুন

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

© 2020 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh