গণতন্ত্রপন্থি নেতা নাথান লয়ের হংকং ত্যাগ

বিতর্কিত নিরাপত্তা আইন কার্যকরের পর গণতন্ত্রপন্থি নেতা নাথান ল হংকং ত্যাগ করেছেন। ২০১৪ সালে হংকংয়ের ‘আমব্রেলা আন্দোলনের’ পর জেল খেটেছিলেন সাবেক এ ছাত্রনেতা।

বিবিসির খবরে জানানো হয়, এখন বাইরে থেকেই হংকংয়ের গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করবেন নাথান ল।

নাথান ল বিবিসিকে জানান, আন্দোলন এখনো জীবন্ত। হংকংয়ের বাসিন্দারা এতো সহজে হাল ছাড়বে না। 

নতুন আইন কার্যকরের পর ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন হংকংয়ের ৩০ লাখ বাসিন্দাকে নাগরিকত্বের প্রস্তাব দিয়েছেন।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদে চীনের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞার বিল পাস হয়েছে। যে সব ব্যাংক চীনের কর্মকর্তাদের সাথে ব্যবসা করে তাদেরকে শাস্তির আওতায় আনা হবে। মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে পাস হওয়া বিলটি সিনেটে অনুমোদন পেলেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে যাবে।

ব্রিটিশ শাসন থেকে হংকংকে চীনের কাছে হস্তান্তরের ২৩তম বার্ষিকীর দিন ১ জুলাই বিতর্কিত হংকং নিরাপত্তা আইনটি কার্যকর হয়। গত ৩০ জুন বেইজিংয়ের স্থানীয় সময় সকাল ৯টায় এনপিসিএসসির বৈঠক শুরু হওয়ার ১৫ মিনিটের মধ্যে স্ট্যান্ডিং কমিটির ১৬২ জন সদস্যের সম্মতিতে আইনটি পাশ হয়।

এর ফলে এ আইনের দোহাই দিয়ে আধা স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলটির ওপর বাড়তি ক্ষমতা প্রয়োগের সুযোগ পাবে বেইজিং। অঞ্চলটির গণতন্ত্রপন্থীরা এই আইনকে হংকংয়ের বিশেষ স্বায়ত্তশাসন ও স্বাধীনতার জন্য হুমকি হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। 

তবে নতুন এ নিরাপত্তা আইন হংকংয়ের স্বায়ত্তশাসনের জন্য কোনো হুমকি নয় বলে দাবি করেছে বেইজিং।

এ আইনে বিচ্ছিন্নতাবাদ, কর্তৃপক্ষকে অবমাননা, সন্ত্রাসবাদ ও জাতীয় নিরাপত্তা বিপন্ন করতে বিদেশি বাহিনীর সাথে আতাত নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এতে এ ধরনের অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। 

এই পদক্ষেপ অঞ্চলটিতে অস্থিরতা ও গণতন্ত্রপন্থী আন্দোলনকে আরো বেগবান করবে। এর আগে গত মাসে চীনা কর্তৃপক্ষ  হংকংয়ে নতুন নিরাপত্তা আইন জারির ঘোষণা দিয়ে প্রতিবাদে ফুঁসে উঠে অঞ্চলটির গণতন্ত্রপন্থীরা। ওই ঘোষণার প্রতিবাদে রাজপথে নেমে আসে তারা।

১৫০ বছর ঔপনিবেশিক শাসনে থাকার পর লিজ চুক্তির মেয়াদ শেষে ১৯৯৭ সালের ১ জুলাই হংকং চীনের কাছে ফেরত দেয় যুক্তরাজ্য। তখন থেকে বিশেষ প্রশাসনিক অঞ্চল হিসেবে বিবেচিত হংকংকে ২০৪৭ সাল অবধি স্বায়ত্তশাসনের নিশ্চয়তা দিয়েছে চীন।

মন্তব্য করুন

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

© 2020 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh