সাঙ্গাকারাকে জিজ্ঞাসাবাদ, শ্রীলঙ্কায় প্রতিবাদের ঝড়

২০১১ বিশ্বকাপের তদন্ত নতুন মোড় নিলো দ্বীপরাষ্ট্র শ্রীলঙ্কায়। প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী মহিন্দানন্দা আলুথগামাগের অভিযোগের ভিত্তিতে ইতিমধ্যেই নয় বছর আগের বিশ্বকাপ ফাইনাল নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে শ্রীলঙ্কার সরকার। 

মঙ্গলবার ৬ ঘণ্টা ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে ১৯৯৬ বিশ্বকাপ জয়ের নায়ক তথা দেশের ক্রিকেট বোর্ডের নির্বাচক কমিটির প্রাক্তন চেয়ারম্যান অরবিন্দ ডিসিলভা এবং ২০১১ বিশ্বকাপে দলের ওপেনার উপুল থারাঙ্গাকে।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) ক্রীড়ামন্ত্রণালয়ের তলবে সাড়া দিয়ে তদন্তে সহযোগিতা করেন ২০১১ বিশ্বকাপে দ্বীপরাষ্ট্রকে নেতৃত্ব দেয়া কুমার সাঙ্গাকারা। দেশের ক্রীড়ামন্ত্রণালয়ের কার্যালয়ে এদিন ৮ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে ম্যারাথন পুলিশি জেরার মুখে পড়েন কিংবদন্তি। আর এই ঘটনায় ক্রীড়ামন্ত্রণালয়ের কার্যালয়ের বাইরে প্ল্যাকার্ড হাতে বিক্ষোভ দেখায় দেশের বিরোধী দলের যুব শাখার সদস্যরা। ভিত্তিহীন অভিযোগ মোতাবেক দেশের কিংবদন্তি ক্রিকেটারদের এহেন জিজ্ঞাসাবাদের ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান তারা।

ঘটনার নিন্দা করে টুইট করেন বিরোধী দলের প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী সাজিথ প্রেমদাসা। কুমার সাঙ্গাকারাসহ তারকা ক্রিকেটারদের জিজ্ঞাসাবাদের বিরোধিতা করে সরকারের নিন্দা করেন তিনি। 

তিনি লেখেন, কুমার সাঙ্গাকারাসহ দেশের ক্রিকেট তারকাদের ধারাবাহিক হেনস্থার ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি। এব্যাপারে সরকারের ভূমিকা অত্যন্ত নিন্দনীয়।

উল্লেখ্য, ২০১১ বিশ্বকাপ তদন্তে ডেকে পাঠানো হয়েছে আরেক কিংবদন্তি মাহেলা জয়বর্ধনে। এদিন সাঙ্গাকারার বয়ান রেকর্ড করেছে পুলিশ।

২০১১ ভারতের মাটিতে ক্রিকেট বিশ্বকাপের ফাইনাল নাকি আয়োজক দেশকে বেচে দিয়েছিল শ্রীলঙ্কা। গত মাসে এমনই মন্তব্যে শোরগোল ফেলে দিয়েছিলেন শ্রীলঙ্কার তৎকালীন ক্রীড়ামন্ত্রী মহিন্দানন্দা আলুথগামাগে। প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রীর এহেন অভিযোগকে হালকাভাবে নেয়নি দ্বীপরাষ্ট্রের ক্রীড়ামন্ত্রণালয়। কালবিলম্ব না করে ২০১১ বিশ্বকাপ ফাইনাল নিয়ে পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের নির্দেশ দেয় তারা।

প্রাথমিকভাবে ক্রীড়ামন্ত্রীর অভিযোগ কটাক্ষ করেছিলেন শ্রীলঙ্কার দুই কিংবদন্তি ক্রিকেটার মাহেলা জয়বর্ধনে ও কুমার সাঙ্গাকারা। জয়বর্ধনে সাফ জানিয়েছিলেন, সামনেই নির্বাচন। তাই সার্কাস শুরু হয়ে গিয়েছে।

২০১১ বিশ্বকাপে শ্রীলঙ্কার অধিনায়ক ছিলেন সাঙ্গাকারা, যিনি ভারতের কাছে হারের পরেই নেতৃত্ব ছেড়ে দেন তিনি। তিনি জানিয়েছিলেন এই রাজনৈতিক নেতার উচিত আইসিসির এন্টি করাপশন বিরোধী ইউনিটের সঙ্গে যোগাযোগ করা। কারণ এটা রীতিমত গুরুতর অভিযোগ।

মন্তব্য করুন

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

© 2020 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh