কিশোরগঞ্জে টিসিবির পণ্য কিনতে ভিড়, করোনা সংক্রমণের শঙ্কা

ছবি: কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি

ছবি: কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি

কিশোরগঞ্জ শহরের চারটি ডিলারের মাধ্যমে ন্যায্যমূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বিক্রি করছে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)। 

ডিলাররা ট্রাকে করে ভ্রাম্যমাণ দোকান বসিয়ে পণ্য বিক্রি করছেন। টিসিবির পণ্য কম মূল্যে পেয়ে দোকানগুলোতে মানুষ হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন। বিভিন্ন পেশার মানুষ করোনাভাইরাস আতঙ্কের মধ্যেও লাইনে দাঁড়িয়ে পণ্য কিনছেন। 

তাদের অধিকাংশের মুখে মাস্ক নেই। কর্মক্ষেত্র থেকে বা অন্য কোনো কাজ করে বাড়ি ফেরার পথে টিসিবির দোকানে ভিড় করছেন তারা। এতে ভাইরাস সংক্রমণের শঙ্কা প্রকাশ করেছেন চিকিৎসক ও নাগরিক সমাজ। এ ব্যাপারে তারা প্রয়োজনীয় বিধি-নিষেধ আরোপে সংশ্নিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

জেলা বিএমএর সাধারণ সম্পাদক ডা. আবদুল ওয়াহাব বাদল বলেন, টিসিবির পণ্য কিনতে অসংখ্য মানুষ ভিড় করছেন। ফলে কেউ একজন আক্রান্ত থাকলে সবাই আক্রান্ত হয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হবে। তাই বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে সবাইকে দেখতে হবে। অন্যথায় চরম খারাপ অবস্থা সৃষ্টি হতে পারে।

কয়েকজন ক্রেতা জানান, বাজারে জিনিসপত্রের দাম বেশি। ম্যাজিস্ট্রেট বাজারে গেলে দাম কমে যায়। আবার ফিরে এলে দাম বেড়ে যায়। তাই ঝুঁকি নিয়ে টিসিবির পণ্য কিনতে লাইনে দাঁড়িয়েছেন তারা।

নারী নেত্রী সুইটি ইসলাম বলেন, টিসিবির দোকানে মানুষের ভিড় লেগেই থাকে। করোনা প্রতিরোধে তারা হাত ধোয়া দূরের কথা; লাইনে পাশাপাশি শ্বাস-প্রশ্বাস গ্রহণ করলেও কারও মুখে মাস্ক নেই। বিষয়টি খুবই উদ্বেগজনক। এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসন ও পুলিশের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি। প্রায় একই মন্তব্য করেন সচেতন নাগরিক কমিটির সহসভাপতি আইনজীবী আবুল কাসেম।

কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা বলেন, গত দুইদিন নিজে গিয়ে কয়েক ঘণ্টা দাঁড়িয়ে তিন ফুট দূরত্বে ক্রেতাদের দাঁড় করিয়ে পণ্য কিনতে সহযোগিতা করেছি। এ ক্ষেত্রে সবাইকে সচেতন হতে হবে।

কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আবদুল্লাহ আল মাসউদ জানান, বাজার ব্যবস্থা ও দ্রব্যমূল্য ঠিক রাখার জন্য কোনো অবস্থাতেই টিসিবির পণ্য বিক্রি বন্ধ করা যাবে না। টিসিবির দোকানগুলোতে ভিড় বিষয়ে জেলা পুলিশকে চিঠি দেয়া হয়েছে। তারা যেন ক্রেতাদের প্রয়োজনীয় দূরত্বে থেকে পণ্য কিনতে সহযোগিতা করেন। আশা করি, পুলিশ এ ব্যাপারে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

মন্তব্য করুন

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

© 2020 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh