তিস্তার পানি কমলেও বেড়েছে নদী ভাঙন

ভারি বৃষ্টিপাত ও উজানের ঢলে লালমনিরহাটে ৪ দিনব্যাপী সৃষ্ট বন্যার পানি কমেছে। জেলার হাতীবান্ধা উপজেলার দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজের ডালিয়া পয়েন্টে পানি প্রবাহ কমে বিপদসীমার ৮ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে বন্যার পানি কমার সাথে দেখা দিয়েছে তীব্র নদী ভাঙন। গত দুই দিনে জেলার শতাধিক বসতবাড়ি তিস্তার গর্ভে বিলীন হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) মধ্যরাত থেকে তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমার ১৮ থেকে ২০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় তিস্তার বাম তীরে লালমনিরহাটের ৫টি উপজেলার প্রায় ১০ হাজার পরিবার টানা ৪দিন ধরে পানিবন্দি হয়ে পড়ে। 

তবে সোমবার (২৯ জুন) সকাল থেকে কমতে শুরু করে তিস্তার পানি প্রবাহ। ফলে বন্যা পরিস্থিতি উন্নতি ঘটে। পানি নামতে শুরু করলে পানিবন্দি থেকে মুক্তি পায় বন্যাকবলিত এলাকার অনেক মানুষ। তবে দুর্ভোগ বেড়েছে বন্যাকবলিতদের। টানা চার দিনের বন্যায় ডুবে থাকায় নষ্ট হয়েছে ঘরবাড়ি ও রাস্তা-ঘাট। নষ্ট হয়েছে আমন বীজতলা, বাদাম ও ভুট্টাসহ নানান জাতের সবজি। বন্যায় নষ্ট হওয়া ঘরবাড়ি মেরামত করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা। 

এদিকে তিস্তার পানি কমে গেলেও দেখা দিয়েছে তীব্র নদী ভাঙন । সদর উপজেলার চর গোকুন্ডা, আদিতমারীর কুটিরপাড়, চন্ডিমারী, দক্ষিণ বালাপাড়া, কালীগঞ্জের শৈলমারী চর, হাতীবান্ধা উপজেলার সানিয়াজান, সিন্দুর্না, ডাউয়াবাড়ি ও গড্ডিমারীতে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। গত দুই দিনে জেলার শতাধিক বসতবাড়ি তিস্তার গর্ভে বিলীন হয়েছে। ভাঙনের মুখে পড়েছে কয়েক’শ ঘরবাড়ি, স্থাপনা ও ফসলি জমি। ভাঙ্গন আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটছে তিস্তা পাড়ের মানুষের।

পানিবন্দি ও নদী ভানে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মধ্যে ত্রাণ বিতরণ শুরু করেছে জেলা প্রশাসন। পানিবন্দি প্রতি পরিবারকে ১০ কেজি করে চাল, আলু এবং নদী ভাঙ্গনের ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের জন্য জনপ্রতি ২০ কেজি চাল ও ৭ হাজার টাকা বিতরণ করা হচ্ছে। 

হাতীবান্ধা উপজেলার সানিয়াজানের আজিবর ও মেহের আলী বলেন, তিস্তার পানি প্রবাহ কমে যাওয়ায় তীব্র ভাঙন  দেখা দিয়েছে। গত রোববার রাতে তাদের বসতভিটা তিস্তা গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। স্থানীয়দের সহায়তায় ঘরের টিন খুলে নিয়ে রাস্তায় রেখেছেন। নতুন করে বাড়ির করার মত জায়গা না থাকায় তারা রাস্তায় আশ্রয় নিয়েছেন। তবে তিস্তার তীরে বন্যা ও ভাঙ্গনের হাত থেকে বাঁচতে তিস্তা খনন করে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করতে সরকারের দাবী জানিয়েছেন তিস্তা পাড়ের বানভাসি মানুষ।

লালমনিরহাট জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আলী হায়দার বলেন, পানিবন্দি ৮ হাজার পরিবারের জন্য ৬৮.৬৬ মেট্রিকটন জিআর চাল এবং ৬ লাখ ২৬ হাজার ২শ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। যা ইতোমধ্যে বিতরণ শুরু করা হয়েছে। নদী ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত ৪১ পরিবারকে জনপ্রতি ২০ কেজি চাল ও ঘর মেরামত বাবদ নগদ ৭ হাজার টাকা করে বিতরণ করা হচ্ছে।

দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারেজের ডালিয়ার নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম বলেন, ভারী বর্ষণ ও উজানের পাহাড়ি ঢলে তিস্তার পানি প্রবাহ বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) রাত থেকে বাড়তে থাকে। শুক্রবার (২৬ জুন) সকাল ৬টায় বিপদসীমার ২০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হলে লালমনিরহাটে বন্যা দেখা দেয়। টানা চার দিন পরে সোমবার (২৯ জুন) সকাল থেকে পানি প্রবাহ কমতে শুরু করে। বিকেল ৩টা থেকে বিপদসীমার ৮ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে জেলায় বন্যা পরিস্থিতি উন্নতি ঘটেছে।

মন্তব্য করুন

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

© 2020 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh