করোনাকালে সতর্ক থাকুন খাবারে

ছবি: সংগৃহীত।

ছবি: সংগৃহীত।

বছর ঘুরে এলো খুশির ঈদ; কিন্তু এবারের ঈদ এসেছে একটু ভিন্ন প্রেক্ষাপটে, যখন সারা বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাসের মহামারি চলছে। পুরো একমাস সিয়াম সাধনার পরে এ খুশির ঈদ আসে আমাদের মাঝে। রমজানে আমাদের রোজকার রুটিন পরিবর্তন হয়। এক মাস সিয়াম সাধনার পরে ঈদের দিন আমরা নানা রকম খাবার দফায় দফায় খাই।

এই ঈদে খাবার খাওয়া, রান্না, সব করতে হবে করোনার দিকে লক্ষ্য রেখে। ঈদের অধিকাংশ খাবারই তৈলাক্ত এবং মিষ্টি জাতীয় খাবার। মিষ্টি খাবার হলো সেমাই, পায়েস, জরদা, কাসটারড। আবার তৈলাক্ত খাবার হলো পোলাউ, রেজালা, রোস্ট, কাবাব।

অনেকের বাসায় চটপটি, ফুচকা হয়; কিন্তু ঈদের দিন লাগাম ছাড়া খাওয়া চলবে না। এসব খাবার খেয়ে ঈদের দিন অনেকের হজমে সমস্যা হয়, ডায়রিয়া হয়। এদিকটা সতর্ক থাকতে হবে। সেমাই-পায়েসের কথা ধরা যাক। এসব মিষ্টি খাবার তৈরি করতে দুধ, চিনি, বাদাম দরকার। 


আবার অনেকে কনডেন্স মিল্ক ব্যবহার করেন। তাই পায়েস তৈরির সময় লোফ্যাট মিল্ক ব্যবহার করা ভালো। কনডেন্স মিল্ক ব্যবহার করবেন না। বেশি বাদাম ব্যবহার করলে হজমে সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই কম বাদাম ব্যবহার করবেন। পোলাও রান্নাতে কম তেল ব্যবহার করা উচিত। ঈদের দিন এই সব খাবারের সঙ্গে সালাদ রাখতে পারি। সালাদে আমরা টকদই+পুদিনা পাতা ব্যবহার করতে পারি। পুদিনা পাতা, টকদই হজমে সাহায্য করবে। 


এই বিশেষ দিনে আমরা বোরহানি, লাবাং, ঘোল খেতে পারি। আবার কাবাব, গ্রিল মাংস খেতে পারি। যেহেতু বারে বারে খাওয়া হয় তাই তেলের খাবার কম খাবেন। কোমল পানীয় কম খাবেন। পানি বেশি খাবেন। যারা ওজন কমিয়ে ছিলেন তারা একটু বুঝে শুনে খাবেন। চটপটি ফুচকা তে ক্যালোরি একটু বেশি থাকে তাই এই সব খাবার কম খেতে হবে।

ঈদ যেহেতু সবার জন্য তাই সবার দিকে খেয়াল রেখে খাবার তৈরি করা উচিত। যেমন ডায়বেটিস রোগী থাকলে তাদের জন্য মিষ্টি জাতীয় খাবারের পরিবর্তে ঝাল খাবারের ব্যবস্থা রাখা যেতে পারে। 

এবারের ঈদটা আমাদের একটু সতর্ক থাকতেই হবে। ঈদ আমাদের সবার জন্য আনন্দ বয়ে আনুক।

লেখক: সিনিয়র পুষ্টিবিদ

ল্যাবএইড হাসপাতাল

মন্তব্য করুন

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

© 2020 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh