মুজিববর্ষে বেসরকারি শিক্ষকদের একমাত্র চাওয়া জাতীয়করণ

দেশের ৯৭ ভাগ বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঁচ লাখেরও অধিক বেসরকারি শিক্ষক রয়েছেন। যারা অধির আগ্রহ নিয়ে বসে আছেন মুজিববর্ষে জাতীয়করণের ঘোষণার জন্য।স্বাধীনতা পরবর্তীতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পঁচিশ হাজার প্রাথমিক শিক্ষকের চাকরি জাতীয়করণ করেছিলেন। 

আমরা বিশ্বাস করি, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি ইতিহাসের মহানায়ক জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু যদি আজ বেঁচে থাকতেন তাহলে এতোদিনে বেসরকারি শিক্ষকদের স্বপ্ন অনেক আগেই পূরণ হয়ে যেতো। এবং বেসরকারি শিক্ষকগণ এটি মনেপ্রাণে বিশ্বাস করেন।

কিন্তু দুর্ভাগ্য উন্নত দেশে শিক্ষকদের যে সম্মান দেয়া হয় বাংলাদেশে তার এক চতুর্থাংশ দেয়া হয় না। জিডিপির ছয় শতাংশ বরাদ্দ শিক্ষা খাতে থাকার কথা ছিলো আইএলও কনভেনশনেরের দাবি মতে, শিক্ষকদের সুযোগ সুবিধা বাড়ানো না হলে এই পেশায় মেধাবীরা আসবে না।

শিক্ষকতা পেশায় মেধাবী না আসলে উন্নত জাতি গঠন করা দুঃস্বপ্ন থেকেই যাবে। মানুষ গড়ার কারিগর তারা যুগে যুগে সভ্যতা বিনির্মাণে ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে নীরবে। অথচ তাদের অর্ন্তভুক্ত রেখে কিভাবে দেশ ও জাতি এগিয়ে যাবে তা বলা মুশকিল।

পৃথিবীর এমন দেশ আছে শিক্ষকদের গ্রেফতার করতে চাইলে আদালতের অনুমতি নিতে হয়, আর আমার দেশের শিক্ষকরা রাজনৈতিক প্রতিহিংসার স্বীকার হয়ে যত্রতত্র গ্রেফতার হয়ে থাকেন। একাধিক মামলায়, ডাণ্ডাবেড়ি পরিহিত অবস্থায় আদালতে হাজিরা দিতে হয়।

পৃথিবীর এমন দেশ আছে শিক্ষকদের ভিআইপি মর্যাদা দিয়ে থাকেন আর আমাদের দেশে তার উল্টোটা দেখি, শিক্ষকরা ছাত্রদের বেত্রাঘাত করার অপরাধে দোষী সাব্যস্থ করা হয়।তুচ্ছ বিষয়ে শিক্ষকরা ছাত্রদের কাছে লাঞ্ছিত হতে হয়। শিক্ষক মেরুদণ্ড তৈরির মহান কারিগর অথচ এরা নিজেরা মাথা উচু ও মেরুদণ্ড সোজা করে দাড়াতে পারেন না সমাজে।বিশ্বের এমন দেশ আছেন শিক্ষকগণ আদালতে বিচার প্রার্থী হয়ে গেলে তাদের বসার জন্য চেয়ার বরাদ্দ রাখা হয়। আমাদের দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সভাপতি ও পরিচালনা পরিষদের পদ দখল করে আছেন অশিক্ষিত লোকগুলো যারা শিক্ষকদের সন্মান দিতে জানেন না।

বেসরকারী শিক্ষকগণ আন্দোলন সংগ্রাম এর পদ ধরে এতদূর এসেছে। আমরা বিশ্বাস করি বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা শিক্ষকরা রাজপথে যাবার আগেই তাদের দুর্দশা লাগবের যথাসাধ্য চেষ্টা করবেন। কথায় আছে বন্যেরা বনে সুন্দর শিশুরা মাতৃক্রোড়ে, আর শিক্ষকদের রাজপথে মানায় না। এদেরকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে তালা দিয়ে ছাত্রদের ভবিষ্যত নষ্ট করার ইচ্ছে শিক্ষকদের নাই। তারপরেও আমাদের দাবি আদায়ে রাজপথে যদি যেতে হয় তাহলে চূড়ান্ত সফলতা জাতীয়করণ আদায় না করা পর্যন্ত বেসরকারি শিক্ষকগণ ঘরে ফিরবেন না। 

কোনো এক পণ্ডিত ব্যাক্তি টিভির টক শোতে বলেছিলেন বেসরকারি শিক্ষকদের এমপিও সিস্টেমের সারা শরীরে নাকি ক্ষত কোনো জায়গায় মলম ব্যাবহার করলে তা সারবে তার জানা নাই, আমরা বেসরকারি শিক্ষকগণ বিশ্বাস করি এমপিওভুক্তির মতো জঠিল ও কঠিন নিয়ম হতে বের করে চাকরি জাতীয়করণের ঘোষণা দিলে শিক্ষা জাতীয়করণের পথ সুপ্রশস্ত হবে।

তবে শিক্ষা জাতীয়করণে শিক্ষকগণ যে উপকৃত হবেন শুধু কিন্তু তা নই। জাতিও শতভাগ লাভবান হবে। 


লেখক

সৈয়দ শাহাদাত হোসাইন

সহকারি অধ্যাপক

বাকলিয়া শহিদ এন এম এম জে বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ,চট্টগ্রাম।

মন্তব্য করুন

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

© 2020 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh