গাইড বইনির্ভর শিক্ষক শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে সক্রিয় হতে হবে

দেশে মাধ্যমিক স্তরের ৩৭ শতাংশ শিক্ষক বাজার থেকে কেনা নোট-গাইড বইয়ের ওপর নির্ভরশীল। ১৩ অক্টোবর বেসরকারি গবেষণা সংস্থা গণসাক্ষরতা অভিযানের এক গবেষণায় এসব নানা তথ্য উঠে এসেছে। ‘এডুকেশন ওয়াচ ২০১৮-১৯’ এর এই প্রতিবেদন অনুযায়ী, শিক্ষকদের ২২ দশমিক ৪ শতাংশই কোচিংয়ের সঙ্গে জড়িত। তাদের মধ্যে ৫৩ শতাংশ নিজের প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের কোচিং করান। এ ছাড়া বেশির ভাগ শিক্ষকেরই শিক্ষকতার বাইরে অন্য পেশা রয়েছে। 

যে তথ্যটি আমাদের উদ্বিগ্ন এবং বিস্মিত করেছে তা হলো, মাত্র ৪৩ দশমিক ৭ শতাংশ শিক্ষক নিজেরা প্রশ্ন তৈরি করতে পারেন। যারা নিজেরা প্রশ্ন পর্যন্ত তৈরি করতে পারেন না, তারা শিক্ষার্থীকে কী পাঠ দান করবেন? আমাদের শিক্ষকদের মান কোথায় নেমে এসেছে, এইসব তথ্যের মাধ্যমে অনেকটাই বোঝা যায়। এই শিক্ষকরাই যে গাইড বইনির্ভর, তা বলা বাহুল্য।

শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা বিকাশে অনুপযুক্ত বিবেচনায় ১৯৮০ সালে নোটবই নিষিদ্ধ করে আইন প্রণীত হয়েছিল। কিন্তু ‘এডুকেশন ওয়াচ’ এর প্রতিবেদন প্রমাণ করছে, শিক্ষকরাই এখনো গাইড বইনির্ভর। পেশার প্রতি দায়িত্বশীল হলে শিক্ষকরা নিজেকে যোগ্য করে গড়ে তুলতে পারতেন; কিন্তু প্রশিক্ষণের পরও যেসব শিক্ষক সৃজনশীল পদ্ধতিতে পাঠদান ও প্রশ্ন প্রণয়নের দক্ষতা অর্জনে ব্যর্থ, তাদের বিরুদ্ধে কর্তৃপক্ষের কঠোর হওয়া দরকার। পাশাপাশি মেধাবীদের এ পেশায় আকৃষ্ট করতে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে হবে। 

তবে এটাও সত্য যে, পাঠ্যপুস্তকগুলো শিক্ষার্থীর জ্ঞানার্জনের জন্য তেমন সহায়ক নয়। বিভিন্ন বইয়ের অনুশীলনীতে এমন সব প্রশ্ন থাকে, যা শিক্ষার্থীর নোট বা গাইড বইয়ের সহযোগিতা ছাড়া শেখা সম্ভব নয়। তাই পাঠ্যবইকেও কার্যকর করে তৈরি করতে হবে। এ জন্য পাঠ্যপুস্তক বোর্ড, শিক্ষা অধিদপ্তর এবং জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমির মধ্যে সমন্বয় করতে হবে। সর্বোপরি  আমরা মনে করি, গাইড বইয়ের উৎপাদন ও বিপণন বন্ধ না করা পর্যন্ত এই পরিস্থিতির উন্নতি হবে না। তাই এ ব্যাপারে শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে এখনই সক্রিয় হতে হবে। আইন ও আদালতের আদেশ বাস্তবায়নে কর্তৃপক্ষকে জোরালো ভূমিকা পালন করতে হবে। মনে রাখতে হবে সুশিক্ষাই সুনাগরিক গড়ে তোলার অন্যতম উৎস।

সম্পাদকীয়
সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল।


মন্তব্য করুন

সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার

© 2019 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh