আজ থেকে আর রাজ্য নয় জম্মু-কাশ্মীর

উপত্যকা জুড়ে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। ফাইল ছবি

উপত্যকা জুড়ে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। ফাইল ছবি

আজ থেকে আর রাজ্য নয় ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু-কাশ্মীর। ভারতের মানচিত্রে জম্মু-কাশ্মীর এখন কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল। জম্মু-কাশ্মীর থেকে বিচ্ছিন্ন লাদাখও এখন পৃথক কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল। 

ফলে ভারতে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল বেড়ে হলো নয়টি। সেইসঙ্গে রাজ্যের সংখ্যা একটি কমে হলো ২৮।

অনাড়ম্বরেই শপথ নিয়েছেন দুই উপ-রাজ্যপাল। জঙ্গি হামলার আশঙ্কায় উপত্যকা জুড়ে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে।

কাশ্মীরের জন্য সংবিধানের ৩৭০ নম্বর অনুচ্ছেদ বিলোপ এবং জম্মু-কাশ্মীর পুনর্গঠন বিল আনার ফলে শুধু বিশেষ মর্যাদা নয়, রাজ্যের মর্যাদাও হারায় জম্মু ও কাশ্মীর। পূর্বঘোষণা মতো গতকাল বুধবার মধ্যরাত থেকেই রাজ্যের মর্যাদা হারালো জম্মু-কাশ্মীর।

জম্মু-কাশ্মীর হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি গীতা মিত্তলের সামনে শপথ নিলেন নতুন উপরাজ্যপাল জিসি মুর্মু। আর লাদাখের লে-তে শপথগ্রহণ করলেন লাদাখের নতুন উপরাজ্যপাল রাধাকৃষ্ণ মাথুর। 

গত ৬ আগস্ট সংসদে জম্মু ও কাশ্মীরের জন্য সংবিধানের ৩৭০ নম্বর অনুচ্ছেদ বাতিলের পাশাপাশি ওই রাজ্যের পুনর্গঠন সংক্রান্ত বিলটি আনে বিজেপি। বিলে বলা হয়েছে, সন্ত্রাসবাদ দমন ও প্রশাসনিক সুবিধার কথা মাথায় রেখে জম্মু ও কাশ্মীর রাজ্যকে দু’টি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ভাগ করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। 

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেন, লাদাখ এত দিন জম্মু ও কাশ্মীরের সঙ্গে থাকলেও, সেখানকার ভূপ্রকৃতি ও জনসংখ্যার চরিত্র আলাদা। সেখানকার বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল, লাদাখকে কেন্দ্রশাসিত এলাকা ঘোষণার।

অন্য কেন্দ্রশাসিত এলাকার মতোই এ ক্ষেত্রে রাজ্যের প্রধান উপরাজ্যপাল। সংবিধানের ৩৬০ অনুচ্ছেদে আর্থিক সংকট ঘোষণা করার অধিকার থাকবে কেন্দ্রের হাতে। দিল্লির মতো জম্মু ও কাশ্মীরের আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বও চলে আসবে কেন্দ্রের হাতে।

বিজেপি সরকারের এই পদক্ষেপের ফলে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল দিল্লি-পুদুচেরির মতোই বিধানসভা নির্বাচন হবে জম্মু ও কাশ্মীরে। অন্য দিকে দমন ও দিউ বা চণ্ডীগড়ের মতো লাদাখে বিধানসভা থাকবে না। জনসংখ্যার তারতম্যের কারণে ওই পার্থক্য বলে জানিয়েছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়।

জম্মু ও কাশ্মীর বিধানসভার মেয়াদ ছয় বছর থেকে কমে দাঁড়াচ্ছে পাঁচ বছরে। তবে এখনই বিধানসভার সদস্য কমছে না। জম্মু ও কাশ্মীর বিধানসভার বর্তমানে বিধায়ক সংখ্যা ১১১, যার মধ্যে চারজন লাদাখের। সেই চারজনকে বাদ দিয়ে ১০৭ সংখ্যার জম্মু ও কাশ্মীর বিধানসভা গঠন করা হবে। 

আপাতত বিধায়ক সংখ্যা এক থাকলেও, ভবিষ্যতে জম্মু-কাশ্মীরে সরকার গঠনে আসন পুনর্বিন্যাসের পথে হাঁটার পক্ষপাতী শাসকশিবির। যাতে আসন পুনর্বিন্যাসে জম্মু এলাকায় বিধানসভা আসন সংখ্যা বাড়ে। ক্ষমতার ভরকেন্দ্র শ্রীনগর থেকে সরে আসে হিন্দু অধ্যুষিত জম্মুতে। -জি নিউজ ও এই সময়

 


মন্তব্য করুন

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

© 2020 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh