ফুলেল ভালোবাসা

বিয়েটা যখন ঠিকঠাক হয়েই গেল তখন কত কি ভেবেছে রেশমা। মুখটা তো নায়কের মতোই- মনে কয় মণ কালি আছে কে জানে? একটা নাকি ননদিনী আছে- সে কি গানের ননদিনীর মতো কালনাগিনী হবে? শাশুড়ি কি তার সোজা হাঁটাটাও বাঁকা দেখবে? শ্বশুর কি একটু পর পর বলবে, বউ আমার চশমা কই? আমার ছাতি কই? আমার গামছা কই? 

সব দুর্ভাবনা যেন হাওয়ায় মিলিয়ে গেল বিয়ের পর। ননদটা ভাবীই ডাকত কিন্তু বুজান ডাকলেও যেন কোনো অসুবিধা ছিল না। মাস ছয়েক হলো বিয়ে হয়ে গেছে; এখন কেমন একা একা লাগে।

কাজ-কাম নিয়ে শাশুড়ির কোনো অভিযোগ নেই। রেশমা সঙ্গে থাকলেই তিনি খুশি। 

শ্বশুর তিন বেলা খাবার পেলেই খুশি। 

স্বপনকে কোনো কিছু বলতেও হয় না। রেশমা যদি আপন মনেও বলে ফেলে, কতদিন হইল মিষ্টি খাই না! সেইদিনই মিষ্টি হাজির। দামি সাবান, সুগন্ধী তেল, শেষ হওয়ার আগেই এসে যায়। নতুন সিনেমা এলেই বলে, চল।

: না।

: না কেন?

: গত সপ্তাহে না দেখলাম।

: আরে এই সপ্তাহে নতুন একটা লাগাইছে।

: লাগাক।

: যাবা না?

: না।

: কেন?

: এত ঘন ঘন দেখলে আম্মা কি মনে করব?

: আম্মারে কমু ডাক্তারের কাছে যাইতাছি।

: না মিছা কথার মাঝে আমি নাই।

: মিছা কথা তো কমু আমি।

: না, না, না, দন্ত্যন আ কার না।

ব্যবসায়েও স্বপন ভালো করছে। কাপড়ের দোকানটা তো ভালো চলছেই।  মাস দুয়েক হলো নতুন একটা দোকান দিয়েছে। সিডির দোকান। ওটাও ভালো চলছে। এখন সিডির দোকানেই বেশি সময় দেয়। কলেজ গেইটের সামনে বলে কলেজের ছেলে-মেয়েরা ঝাপিয়ে পড়ে সিডি কিনে। নতুন দোকান দেখাতে রেশমাকে একদিন নিয়ে গিয়েছিল স্বপন। পাশের ফুলের দোকানটা জিল্লুরের। রেশমাকে দেখেই দৌড়ে এসেছিল, ভাবী, আপনাকে লাল গোলাপ শুভেচ্ছা। বলেই, দুটি টকটকে লাল গোলাপ বাড়িয়ে ধরেছিল রেশমার একেবারে নাকের ডগায়। গোলাপ দিয়েই আরেক দৌড়ে নিয়ে এসেছিল সেভেন আপ, ভাবী খান। রেশমার রূপে সে একটু দিশেহারাই হয়ে গিয়েছিল।

স্বপন আজ ফিরল একটু রাত করেই। ঘরে ঢুকেই রেশমার হাতে দিল দুটি রজনীগন্ধার ডাটা।

এটা স্বপনের নতুন প্রেম। সিডির দোকান দেওয়ার পর থেকে চলছে। শুরুর দিকে হঠাৎ হঠাৎ চমকে দিত। এখন প্রায় প্রতি রাতেই ফুলেল-ভালোবাসা ছাড়া তার গৃহপ্রবেশ হয় না।

রেশমা ডাটা দুটো হাতে নিয়ে বিছানার কোণে বসল। স্বপন ঢুকে গেল বাথরুমে। একটু পরেই বের হলো খালি গায়ে গলায় গামছা ঝুলিয়ে।

যেটুকু ফুলে গেলে পেটের নাম বদলে ভুড়ি হয়ে যায় সেটুকু ভুড়ি স্বপনের বিয়ের সময়ই ছিল। এখন আরো গোলগাল, তেলতেলে হয়েছে। রেশমার অবশ্য ওই ফুটবলটায় রাতে হাত বোলাতে ভালোই লাগে।

স্বপন বলল, কী দেখছ?

: তোমার ফুটবল।

: ফুটবল এইটা তো বিয়ার সময় দেখাইয়াই বিয়া করছি।

: তা করছ। কিন্তু ওইটা আর নাই, এখন যেইটা দেখছি এইটা ঐরাবতের ফুটবল। আইচ্ছা শোন, তোমারে একটা কথা কই।

: কও।

: এত প্রেমের কি কোনো দরকার আছে?

: মানে?

: এই যে প্রতিদিন ফুল নিয়া আস ফুল কি জিল্লুর ভাই তোমারে মাগনা দেয়?

: জিল্লুর দিব ফুল - যে কিপটা!

: তাইলে পয়সা খরচ কইরা প্রতিদিন ফুল আনার দরকারটা কী?

: পয়সা খরচ করি না তো।

: জিল্লুর ভাই দেয় না, পয়সা খরচ কর না, তাইলে ফুল পাও কই?

: দিয়া যায়।

: দিয়া যায়! কে দিয়া যায়?

: একেক দিন, একেক জন।

: সেই জনটা কারা?

: কলেজের মেয়েরা। জিল্লুরের দোকানে ফুল কিইন্না আমার দোকানে আসে সিডি কিনতে। তখন কেউ কেউ দিয়া যায়। না করি কী কইরা কও?

রেশমার সমস্ত শরীর খড়ের আগুনের মতো দাউদাউ করে জ্বলে উঠল, ওই হারামজাদীরা তোমার মুখটা দ্যাহে ঐরাবতের মতো তোমার পেটটা দ্যাহে না!

Ad

মন্তব্য করুন

Epaper

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

Logo

ঠিকানা: ১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

© 2022 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh

// //