অভিনয় সিরিয়াসলি নেবার ইচ্ছে বেড়েছে : আরজে শান

শান মোস্তাফিজ

শান মোস্তাফিজ

পারিবারিক নাম মোস্তাফিজুর রহমান। এফ এম শ্রোতারা চেনেন শান মোস্তাফিজ নামে। ১৩ বছর ধরে কাজ করছেন আরজে পেশায়। পাশাপাশি নিজেকে যুক্ত রেখেছেন সামাজিক কর্মকাণ্ডে ও অভিনয়ে। 

শান তার ক্যারিয়ারের বিভিন্ন প্রসঙ্গে কথা বলেছেন মাহমুদ সালেহীন খানের সঙ্গে। 

করোনাকাল কীভাবে কাটছে?

করোনাকাল। কেটেছে বলবো না, বলবো কাটছে এখনো। এখনো সোশ্যাল ইন্টারেকশন থেকে নিজেকে একদম সরিয়ে রেখেছি। গত বছর লকডাউনের শুরু থেকে নিজের অন্যান্য সব কাজ বন্ধ করে এফএম অফিসেই গিয়েছি। সেটাও একটা লকডাউনের মতোই। সকাল ১০টা থেকে একদম রাত ১১.৩০ টা পর্যন্ত অফিসেই থাকতে হতো। সপ্তাহে তিনদিন করে চলতো এই রুটিন। আর বাকি সময়টা ঘরে পরিবারের সাথে সময়টা বেশ উপভোগ করেছি। মাঝে গত বছর একটা স্যাটেলাইট টেলিভিশনে যোগ দিয়েছিলাম তাদের হেড অব কর্পোরেট অ্যাফেয়ার্স হিসেবে, অতিরিক্ত পরিশ্রম হওয়ায় সেটা এ বছর ছেড়ে দিয়েছি।


বর্তমানে আপনার কাজের ব্যস্ততা কী?

বর্তমান সময়টা বেশ জটিল। এসময় কাজে নিজেকে ব্যাস্ত রাখাটাই একটা চ্যালেঞ্জ। তবুও আলহামদুলিল্লাহ, আমার ব্যাস্ততা আছে বেশ। প্রতিদিন  রেডিওতে শো করছি। সেই সাথে IELTS ক্লাস নিচ্ছি। ভয়েস ওভারের কাজ করছি টুকটাক। করোনা দূর হলে অবশ্যই দেখবেন প্রতিবছর অন্তত দুটি করে বড়সড় মিউজিক্যাল ইভেন্ট উপহার দেবো সবাইকে। অভিনয়ে নিয়মিত হবার চেষ্টা করছি আর পরিপূর্ণভাবে নিজের ট্যালেন্ট ম্যানেজম্যান্ট এজেন্সি  নিয়ে সময়টা কেটে যাচ্ছে বেশ ভালোভাবে। 

রেডিও জকি কাজ করার আগ্রহ হলো কেন?

শুরুটা হয় ২০০৮ সালে। ২০০৫ থেকেই খুব রেডিও শোনা হতো, পার্টিকুলার কারো শো শুনতাম না। তখন প্রিয় বলতে প্রায় সবাই। ঘটনাচক্রে একটা  রেডিওতে অতিথি হবার সুযোগ মিলে। সেদিন শো ছিলো একসময়কার জনপ্রিয় আরজে ও একালের সংবাদ পাঠিকাদের মাঝে চেনা মুখ রুমানা আফরোজের সাথে। গলা খুব ভারী হবার কারণে ফোনে কথায় আমার বয়সটা ধরতে পারেনি, আর সেখানে একটা সংগঠনের সহ-সভাপতি হিসেবে আমার আমন্ত্রণ ছিলো।  আমাকে দেখেই রুমানা বলেছিলো, আরে এতো পিচ্চি ছেলে, উত্তরে আমি বলেছিলাম হিরোশিমায় এনোলাগে যে বোমটা  ফেলেছিলো, তার নাম ছিলো লিটল বয়। রুমানা যাকে আমরা ডাকি মুমু, এরপর থেকে সবসময় আপন বড় বোনের মতোই আদর আর গাইডেন্স দিয়ে  গেছেন। সেদিন তার শোতেই প্রায় ২/৩ হাজার এসএমএস এ রিকোয়েস্ট এসেছিলো যেন আমাকে আরজে হিসেবে নেয়া হয়, ব্যস তখনই মাথায় চেপে বসে আরজে হবো। তারপর ২০০৭-০৮ সাল থেকে আরজে নীরব একদম বলা চলে চড়-থাপ্পর দিয়েই এই আরজে শানকে বানিয়েছেন। তিনি আমার আপন বড় ভাই না হলেও, আপন করেই এখন পর্যন্ত আমার মাথার উপর ছায়া হয়েই আছে। একপ্রকার তার সাথে থেকেই আমার চলায় পরিপূর্ণতা পেয়েছি।


আপনি সামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে নিজেকে সম্পৃক্ত রেখেছেন, এ প্রসঙ্গে জানতে চাই?  

নিজের একটা ফাউন্ডেশন আছে বঙ মুভার্স নামে। করোনাকলে যথাসাধ্য  চেষ্টা করেছি নিজ উদ্যোগে যা করা যায়। ২০২০ সালে নিজ খরচে প্রায় ২৫০ পরিবারকে সহায়তা করেছি নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য আর দুই সপ্তাহের খাবার দিয়ে। এটা নিয়ে ভিডিও করে সোশ্যাল মিডিয়াতে ছাড়াটা প্রয়োজন মনে করিনি। কারণ তার বেশিরভাগই ছিলো আমার  শ্রোত। অনেক মধ্যবিত্ত পরিবার মুখ ফুটে আপনাকে কখনো বলবে না তার ঘরে চাল-ডাল নেই। কিংবা  নেই বাচ্চার জন্য দুধ কেনার টাকা। কারও ছবি তুলতে ইচ্ছে করেনি। কোভিড পরিস্থিতি ঠিক হয়ে গেলে, নিজ উদ্যোগে দুটি প্রজেক্ট হাতে নিচ্ছি। একটি হলো সারা বাংলাদেশে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে সবার জন্য স্পোকেন ইংলিশ আর রাইটিংয়ের কোর্স শুরু করা আর একটি হলো সারাদেশে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে মেয়েদের সেলফ ডিফেন্স প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা। এতে শত শত ইংরেজি শিক্ষক ও দেশসেরা সেলফ ডিফেন্স প্রশিক্ষকেরও সাহায্য পেয়েছি। কোভিডের কারণেই সব আটকে আছে।

আপনি তো অভিনয়ও করেন?

অভিনয়ের পরিপূর্ণ অভিষেক ঘটলো তারিক আনাম স্যারের হাত ধরে। অভিনয় করেছি তার পরিচালনায় মেগা সিরিজ গুলশান অ্যাভিনিউতে। এর আগে যদিও অমিতাভ রেজার রিকশা গার্ল সিনেমায় ছোট্ট একটি দৃশ্যে কাজ করেছি। সেটি মুক্তির অপেক্ষায় আছে। অভিনয়টাকে সিরিয়াসলি নেবার ইচ্ছে বেড়েছে।

মন্তব্য করুন

Epaper

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

Logo

ঠিকানা: ১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

© 2021 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh

// //