Logo
×

Follow Us

আন্তর্জাতিক

এবার ট্রাম্প-পুতিন-জেলেনস্কির বৈঠকের অপেক্ষা

Icon

মো. ইমরানুর রহমান

প্রকাশ: ২৪ আগস্ট ২০২৫, ১২:০৪

এবার ট্রাম্প-পুতিন-জেলেনস্কির বৈঠকের অপেক্ষা

ডোনাল্ড ট্রাম্প- ভ্লাদিমির পুতিন- ভলোদেমিরজেলেনস্কির

আলাস্কায় প্রায় তিন ঘণ্টার রুদ্ধদ্বার বৈঠক শেষেও ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে পারেননি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তবে বহুল প্রত্যাশিত এই শীর্ষ সম্মেলনের পর উভয় নেতাই আলোচনাকে ‘গঠনমূলক’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। এই বৈঠকের পর ১৮ আগস্ট ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে হোয়াইট হাউসে আলোচনায় বসেন ট্রাম্প। সঙ্গে ছিলেন ইউরোপের বেশ কয়েকজন নেতাও। বৈঠকে ইউক্রেনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টিই বারবার সামনে আনেন ইউরোপের নেতারা। এদিকে ট্রাম্প বসতে চান পুতিন আর জেলেনস্কিকে সঙ্গে নিয়ে। তবে সেই বৈঠক কবে হবে, কোথায় হবে, তা এখনো ঠিক হয়নি।

আলাস্কা বৈঠকের আগে ট্রাম্পের লক্ষ্য ছিল ইউরোপের গত ৮০ বছরের সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী এই সংঘাত থামাতে একটি যুদ্ধবিরতির পথ বের করা। তবে বৈঠকে তেমন কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি। যদিও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে মুখোমুখি বসাটাই পুতিনের জন্য একটি বড় কূটনৈতিক সাফল্য। কারণ ২০২২ সালে ইউক্রেনে পূর্ণ মাত্রার আগ্রাসন শুরুর পর থেকে পশ্চিমা নেতারা তাকে এড়িয়ে চলছিলেন।

বৈঠকের পর এক সংক্ষিপ্ত সংবাদ সম্মেলনে তারা কিছু অগ্রগতির কথা বললেও বিস্তারিত কিছু জানাননি। এমনকি সাংবাদিকদের কোনো প্রশ্নও নেননি। সাধারণত বিভিন্ন মন্তব্যের জন্য পরিচিত ট্রাম্প এবার সাংবাদিকদের এড়িয়ে যান। ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা কিছুটা অগ্রগতি করেছি।’ এ সময় তার পেছনের ব্যানারে ‘শান্তির অন্বেষণ’ লেখা ছিল। তিনি যোগ করেন, ‘কোনো চুক্তি হয়নি মানে চুক্তি হয়নি।’

অন্যদিকে পুতিন সাংবাদিকদের সামনে জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠকের কোনো কথা বলেননি। তিনি বলেন, ইউক্রেন ও তার ইউরোপীয় মিত্রদের উচিত যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার আলোচনার ফলাফলকে ইতিবাচকভাবে নেওয়া এবং এই অগ্রগতিকে ‘বাধাগ্রস্ত’ না করা। তিনি মস্কোর পুরোনো অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, সংঘাতের ‘মূল কারণগুলো’ সমাধান না হওয়া পর্যন্ত দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। এর মাধ্যমে তিনি সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে তার অনাগ্রহের কথাই প্রকাশ করেন।

বৈঠকের পর ফক্স নিউজের শন হ্যানিটিকে সাক্ষাৎকার দেন ট্রাম্প। জেলেনস্কিকে কী পরামর্শ দেবেন-হ্যানিটি জানতে চাইলে ট্রাম্প বলেন, ‘চুক্তি করতে হবে। দেখুন, রাশিয়া খুব বড় শক্তি, আর তারা (ইউক্রেন) তা নয়।’ তবে ইউক্রেনের বিরোধীদলীয় আইন প্রণেতা ওলেক্সি হনচারেঙ্কো টেলিগ্রামে লিখেছেন, ‘মনে হচ্ছে পুতিন আরো কিছুটা সময় কিনে নিলেন। কোনো যুদ্ধবিরতি বা উত্তেজনা কমানোর বিষয়ে চুক্তি হয়নি।’

বৈঠকের শেষটা সাদামাটা হলেও এর সূচনা ছিল বেশ জাঁকজমকপূর্ণ। আলাস্কার একটি বিমানবাহিনীর ঘাঁটিতে পুতিন পৌঁছালে ট্রাম্প তাকে লাল গালিচা সংবর্ধনা দেন। এ সময় মার্কিন সামরিক বিমানগুলো মহড়া দিচ্ছিল। তবে বৈঠক চলার সময়েও যুদ্ধ অব্যাহত ছিল। ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলের বেশির ভাগ এলাকায় বিমান হামলার সতর্কতা জারি করা হয়। রাশিয়ার রোস্তভ ও ব্রায়ানস্ক অঞ্চলের গভর্নররা জানিয়েছেন, তাদের কিছু এলাকা ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলার শিকার হয়েছে।

উল্লেখ্য, ইউক্রেন থেকে শত শত শিশু অপহরণের অভিযোগে পুতিনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে। রাশিয়া এই অভিযোগ অস্বীকার করে পরোয়ানাটিকে ‘অকার্যকর’ বলে আসছে। যুক্তরাষ্ট্র বা রাশিয়া কেউই এই আদালতের সদস্য নয়। এ ছাড়া বৈঠকের আগের দিন পুতিন একটি নতুন পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তির ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, কারণ বিদ্যমান চুক্তির মেয়াদ আগামী ফেব্রুয়ারিতে শেষ হতে চলেছে। আলাস্কায় বৈঠকে বিষয়টি আলোচিত হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট নয়।

জেলেনস্কি ও তার ইউরোপীয় মিত্রদের আশঙ্কা ছিল, ট্রাম্প হয়তো যুদ্ধ থামিয়ে দিয়ে ইউক্রেনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ ভূখণ্ড রাশিয়ার দখলে থাকার বিষয়টিকে কার্যত মেনে নেবেন। তবে ট্রাম্প বৈঠকের আগে আশ্বস্ত করার চেষ্টা করে বলেন, ইউক্রেনের সম্ভাব্য ভূখণ্ড ছাড়ের বিষয়ে তিনি কোনো সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেবেন না। তিনি বলেন, ‘আমি ইউক্রেনের হয়ে আলোচনায় আসিনি, আমি শুধু তাদের আলোচনার টেবিলে বসাতে চাই।’ তবে ট্রাম্প ১৭ আগস্ট বলেছেন, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট রাশিয়ার যুদ্ধ বন্ধ করতে পারেন ‘যদি তিনি চান’; কিন্তু সে জন্য শান্তিচুক্তির অংশ হিসেবে ইউক্রেনের ন্যাটোতে যোগ দেওয়ার চেষ্টা বাদ দিতে হবে।

এদিকে ইউক্রেনের সঙ্গে শান্তিচুক্তির ক্ষেত্রে দেশটির দোনেৎস্ক ও লুহানস্ক অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ রাশিয়ার হাতে ছেড়ে দেওয়াসহ কিছু শর্ত দিয়েছেন পুতিন। বিনিময়ে ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় কিছু এলাকার নিয়ন্ত্রণ ছেড়ে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি। ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনার সময় পুতিন এসব শর্ত দিয়েছেন।

এত কিছুর পরও অবশ্য ১৮ আগস্টের বৈঠককে ‘গঠনমূলক’ বলেন জেলেনস্কি। পুতিনের সঙ্গে ত্রিপক্ষীয় বৈঠকের ব্যাপারে প্রস্তুত থাকার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, “আমাদের যুদ্ধবিরতির প্রয়োজন নেই, আমাদের প্রয়োজন সত্যিকারের শান্তি। পুতিনের সঙ্গে যেকোনো ‘ফরম্যাটে’ আলোচনার জন্য ইউক্রেন প্রস্তুত আছে।” তবে রাশিয়া ও ইউক্রেনের পূর্বশর্ত ছাড়াই আলোচনায় বসা উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।

Logo

সম্পাদক ও প্রকাশক: ইলিয়াস উদ্দিন পলাশ

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ফেয়ার দিয়া ১১/৮/ই, ফ্রি স্কুল স্ট্রিট (লেভেল-৮), বক্স কালভার্ট রোড, পান্থপথ, ঢাকা ১২০৫