ICT Division

যে কারণে পদত্যাগ করলেন লিজ ট্রাস

প্রধানমন্ত্রী হওয়ার মাত্র ৪৫ দিনে মাথায় পদত্যাগ করেছেন লিজ ট্রাস। গত কিছুদিন ধরেই তার সরকারের অর্থনৈতিক নীতি ও কর্মসূচি নিয়ে তার প্রশাসন ও কনজারভেটিভ পার্টির মধ্যে নজিরবিহীন তোলপাড় চলছিল। গতকাল বৃহস্পতিবার (২০ অক্টোবর) লন্ডনে ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে দাঁড়িয়ে পদত্যাগের কথা জানান লিজ ট্রাস।

যুক্তরাজ্যের রাজনৈতিক ইতিহাসে লিজ ট্রাস হচ্ছেন সবচেয়ে স্বল্পস্থায়ী প্রধানমন্ত্রী।

কনজারভেটিভ পার্টিতে তার উত্তরসূরি নির্বাচনের জন্য আবার ভোটাভুটি হবে। ক্ষমতাসীন দলের এমপিদের একটি বিশেষ কমিটির প্রধান জানিয়েছেন আজ শুক্রবারেই (২১ অক্টোবর) নতুন নেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়ার ফল জানা যাবে।

কেন পদত্যাগ করতে হলো লিজ ট্রাসকে

কারণ প্রধানত দুটি। প্রথমত, লিজ ট্রাসের ঘোষিত অর্থনৈতিক কর্মসূচির ব্যর্থতা এবং দ্বিতীয়ত, তার নিজ দলের এমপির মধ্যে আস্থা ও সমর্থন হারানো।

প্রধানমন্ত্রী হবার সময়ই লিজ ট্রাস বলেছিলেন, তিনি নিম্ন কর হার এবং উচ্চ প্রবৃদ্ধির ব্রিটেন গড়ে তুলবেন। তার প্রথম অর্থমন্ত্রী কোয়াজি কোয়ার্টেংকে যে মিনি বাজেট দেন তাতে ব্যাপক কর ছাঁটাইয়ের কথা ছিল। কিন্তু এর জন্য অর্থসংস্থান করতে সরকারকে হাজার হাজার কোটি পাউন্ড ঋণ নিতে হতো। এ বাজেট ঘোষিত হবার পরপরই তা অর্থখাতে নজিরবিহীন সংকট সৃষ্টি করে।

ব্রিটিশ মুদ্রা পাউন্ডের দর পড়ে যায়, তার সাথে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সুদের হার বৃদ্ধি, ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতি, জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়া - এসব যুক্ত হয়ে ব্রিটেনের অর্থনীতির সংকট মাত্র অল্প কয়েকদিনের মধ্যে এক গুরুতর চেহারা নেয়।

এরপর কয়েকদিনের মধ্যেই মি. কোয়ার্টেং পদত্যাগ করেন। নতুন অর্থমন্ত্রী জেরেমি হান্ট এসে সেই পরিকল্পনার অধিকাংশই বাতিল করে নতুন পরিকল্পনা হাজির করেন। এতে অর্থনীতিতে কিছুটা স্বস্তি ফিরে আসে। তবে কনজারভেটিভদের মধ্যে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে থাকে যে লিজ ট্রাসের অর্থনৈতিক পরিকল্পনা ব্যর্থ এবং পরিত্যক্ত হবার পর তিনি নিজে ক্ষমতায় থাকেন কি করে।

এরপর থেকেই কনজারভেটিভ এমপিরা একজন দুজন করে লিজ ট্রাসের প্রতি অনাস্থা প্রকাশ করতে থাকেন, উঠতে থাকে তার পদত্যাগের দাবি।

লিজ ট্রাস প্রশাসন, দল এবং পার্লামেন্ট- সর্বত্রই তৈরি হয় বিশৃঙ্খলা। গতকাল তার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুয়েলা ব্রাভারম্যানও পদত্যাগ করেন। এর মধ্যে পার্লামেন্টে তেল অনুসন্ধানের জন্য ফ্র্যাকিংয়ের অনুমোদন দেয়া সংক্রান্ত একটি প্রস্তাবের ওপর ভোটাভুটি নিয়ে সরকারি দলের এমপিদের মধ্যে ঝগড়া-বিবাদ থেকে প্রায় ধস্তাধস্তির উপক্রম হয়।

বৃহস্পতিবার অন্তত ১৩ জন রক্ষণশীল এমপি প্রকাশ্যে অনাস্থা প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেন। বিশ্লেষকরা বলছিলেন, এতেই স্পষ্ট হয়ে যায় যে লিজ ট্রাস ক্ষমতায় থাকতে পারবেন না।

সাম্প্রতিক দেশকাল ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad

মন্তব্য করুন

Epaper

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

Logo

ঠিকানা: ১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

© 2022 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh

// //