আমি দুর্নীতি করেছি আদালতে প্রমাণ করুন: মাহাথির মোহাম্মদ

মাহাথির মোহাম্মদ দুই দফায় প্রায় ২৪ বছর (প্রথম দফায় ১৯৮১ থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত এবং দ্বিতীয় দফায় ২০২০ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত) মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। তাকে আধুনিক মালয়েশিয়ার জনক বলেও অভিহিত করেন অনেকে। তবে ২০২২ সালে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর  তার বিরুদ্ধে দেশটির বর্তমান সরকার দুর্নীতিরন অভিযোগ তুলে। দেশটির দুর্নীতি দমন কমিশন তার বিরুদ্ধে তদন্ত করছে। তবে শুরু থেকেই এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন তিনি। 

সম্প্রতি সংবাদ সংস্থা আল জাজিরাকে দেয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে আবারো নিজের বিরুদ্ধে আনা দুর্নীতির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মাহাথির। সাক্ষাৎকারে মালয়েশিয়ার সাবেক এ প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি যা আয় করেছেন তার পুরোটাই ছিল বেতনের অংশ এবং এখন সে টাকাও প্রায় শেষ হয়ে গেছে।

প্রতিদ্বন্দ্বীর বিরুদ্ধে প্রায় ৩ কোটি ২০ লাখ টাকার মানহানি মামলার লড়াই চালিয়ে যাওয়া মাহাথির মোহাম্মদ বলেন, দুর্নীতির অভিযোগ শুনে তিনি বিস্মিত। কারণ যে টাকার কথা বলা হচ্ছে তা তিনি কোনোদিন চোখেই দেখেননি। মালয়েশিয়ার বর্তমান প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, আপনি কিভাবে নিশ্চিত হলেন আমি টাকা নিয়েছি। আর যদি নিয়েই থাকি তাহলে সেটা আদালতে প্রমাণ করুন। 

সাবেক এ প্রধানমন্ত্রী বলেন, অর্থ লুকিয়ে রাখতে পারেন এমন ব্যাংকগুলোর সন্ধান করতে তিনি প্রধানমন্ত্রী আনোয়ারের সঙ্গে সুইজারল্যান্ডে যেতে ইচ্ছুক। যদি কিছু পাওয়া যায় তবে তার শতভাগ টাকাই তিনি মালয়েশিয়াকে দিয়ে দেবেন। 

তার দুই ছেলে মিরজান মাহাথির ও মোখজানি মাহাথিরকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলেও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন মাহাথির মোহাম্মদ। 

জানুয়ারিতে মালয়েশিয়ার দুর্নীতি দমন কমিশন মিরজান মাহাথির এবং মোখজানি মাহাথিরকে প্যান্ডোরা এবং পানামা পেপারস ফাঁসের তদন্তের জন্য জিজ্ঞাসাবাদের অংশ হিসেবে তাদের সম্পদ ঘোষণার নির্দেশ দেয়। এপ্রিল মাসে দুর্নীতি দমন সংস্থা নিশ্চিত করেছে যে তারা তদন্তের অংশ হিসেবে তারা মাহাথির মোহাম্মদকেও তদন্তের অংশ হিসেবে বিবেচনা করছে। 

ছেলেদের ব্যবসায়িক কার্যক্রম থেকে লাভবান হন না জানিয়ে তিনি বলেন, তারা তাদের ব্যবসা থেকে আমাকে টাকা দেয় না। 

আল জাজিরাকে মাহাথির মোহাম্মদ বলেন, তিনি স্বজনপ্রীতির অভিযোগে অভিযুক্ত হতে চান না বলেই দায়িত্বে থাকাকালীন তার ছেলেদের দেশে ব্যবসা করতে নিষেধ করেছিলেন। তিনি পদত্যাগ করার পরই ছেলে মোখজানি ব্যবসায় সফল হয়েছিল। 

নিজস্ব সম্পদের উৎস সম্বন্ধে মাহাথির বলেন, তিনি যখন প্রথম প্রধানমন্ত্রী হন তখন তিনি ১ হাজার ৭০০ ডলার মাসিক বেতন পেতেন। আর ২০২০ সালে পদত্যাগ করার সময় তা বেড়ে ৪ হাজার ২৪০ ডলার হয়। তার জন্য এ টাকাই অনেক বেশি ছিল বলেও দাবি করেন মাহাথির। এছাড়া তাকে একটি বাড়ি এবং একটি গাড়িসহ নানা সুবিধাও দেয়া হয়েছিল। গাড়ি ও ড্রাইভারের সুবিধার পাশাপাশি তার বিদ্যুৎ, পানির বিলও সরকার পরিশোধ করেছে। তিনি বলেন, একজন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে কাজ করার ক্ষেত্রে যা প্রয়োজন ছিল তা সবই সরকার এবং তিনি যে বেতন পেয়েছেন তা থেকে সরবরাহ করা হয়েছে। ২০১৮ সালে মাহাথির মোহাম্মদ ৭৯ লাখ ডলার মূল্যের সম্পদ ঘোষণা করেছিলেন।

মাহাথির মোহাম্মদ দুই দফায় প্রায় ২৪ বছর (প্রথম দফায় ১৯৮১ থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত এবং দ্বিতীয় দফায় ২০২০ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত) মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে এক সময়ে তার ঘনিষ্ঠতা থাকলেও পরে তাদের মধ্যে তীব্র বৈরিতা দেখা দেয়। আনোয়ার ইব্রাহিম মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী হন ২০২২ সালে। 

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই এবং দেশটির অর্থনৈতিক উন্নয়নে মনোযোগ দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তিনি। তবে তার নেতৃত্বাধীন ক্ষমতাসীন জোটের নেতাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা প্রত্যাহারের কারণে তার সংস্কার প্রতিশ্রুতি নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে কিছু বিতর্ক দেখা দিয়েছে। যদিও আনোয়ার ইব্রাহিমের দাবি, তিনি কখনই আদালতের রায়ের বিষয়ে কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করেন না।

সাম্প্রতিক দেশকাল ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

Epaper

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

Logo

ঠিকানা: ১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

© 2024 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh

// //