সিঙ্গাপুরে করোনায় প্রবাসীদের ‘বন্দি জীবন’

সিঙ্গাপুরের বিভিন্ন ডর্মে বসবাস করেন তিন লাখের মতো অভিবাসী কর্মী, যাদের অনেকেই এসেছেন বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশ থেকে। তারা সাধারণত এক রুমে অনেকে মিলে আলাদা আলাদা বাঙ্ক বিছানায় থাকেন।

করোনাভাইরাস মহামারির শুরুর দিকেই এসব ডর্মে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়লে সেগুলোতে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। তখন কার্যত পুরো সিঙ্গাপুরেই করোনারোধে নানা নিয়মকানুন কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হয়। 

সাম্প্রতিক সময়ে অবশ্য সেসব বিধিনিষেধ অনেকটা তুলে নেয়া হয়েছে। বিশেষ করে সিঙ্গাপুরের নাগরিকদের মধ্যে যারা করোনা টিকা নিয়েছেন, তারা কেনাকাটা করাসহ রেস্তোরাঁয় এমনকি চুল কাটার দোকানেও যেতে পারছেন।

তবে এখানে একটি বৈষম্য পরিষ্কার, নিম্নআয়ের অভিবাসী শ্রমিকদের উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তেমন একটা তোলা হয়নি। অধিকাংশ সময় তাদের শুধু বাসা থেকে কাজে যাওয়ার আর সেখান থেকে ফেরার সুযোগ দেয়া হচ্ছে।

‘এক বেদনাদায়ক জীবন পার করছি... অনেকটা জেলের মতো’ বলেন মো. শরীফ উদ্দিন নামে এক অভিবাসী কর্মী। করোনার আগে ছুটির দিনগুলোতে বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরে বেড়াতে পারতেন তিনি। কফির কাপে চুমুক দিয়ে কবিতা আবৃত্তি আর নানা গল্পে কেটে যেতো সময়।

তিনি বলেন, ‘আমাদেরকে এখন শুধু কাজে যেতে ও বাসায় ফিরতে অনুমতি দেয়া হয়েছে। অন্য কোথাও যাওয়ার সুযোগ নেই। এটা অনেকটা হাউজ এরেস্টে থাকার মতো ব্যাপার।’ 

৪৩ বছর বয়সি এই বাংলাদেশি অভিবাসী কর্মী ১৩ বছর ধরে সিঙ্গাপুরে বসবাস করছেন তিনি। প্রবাস জীবন নিয়ে ইতিমধ্যে দুইটি বইও লিখেছেন তিনি।

অভিবাসী শ্রমিকরা কাজে যাওয়ার বাইরে মাঝেমাঝে বিশেষভাবে নির্মিত ‘বিনোদনকেন্দ্রে’ যেতে পারেন যেগুলো কোনও একটি চত্বরে দোকান ও খেলাধুলার ব্যবস্থা করে তৈরি করা হয়। সিঙ্গাপুরে বহুতল ভবন গড়া থেকে শুরু করে শহরটি পরিষ্কার রাখা ও গণপরিবহনের দেখভাল করার দায়িত্ব মূলত অভিবাসী শ্রমিকরা পালন করলেও তাদের জীবনমানের উন্নয়নে দেশটির উদাসীনতা রয়েছে। এই নিয়ে নানা সময় অভিযোগ তুলেছে বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা।

সরকার অভিবাসী শ্রমিকদের আবাসস্থলের আধুনিকায়ন ও তাদের জন্য আরো বেশি জায়গা বরাদ্দের কথা বলছে। কিন্তু বাস্তবে নানা নিষেধাজ্ঞার মধ্যেই থাকতে হচ্ছে এই কর্মীদের। বিশ্বের অন্যতম ব্যয়বহুল দেশটিতে এসব মানুষের মাসিক গড় আয় ৩৭০ থেকে ৭৪০ মার্কিন ডলার। 

অভিবাসীদের অধিকার বিষয়ক গোষ্ঠী ‘ট্রানসিয়েন্ট ওয়ার্কার্স কাউন্ট টু’ এর ভাইস প্রেসিডেন্ট এলেক্স আউ বলেন, আমাদের সরকার অভিবাসী শ্রমিকদের পুরোপুরি মানুষ হিসেবে বিবেচনা করে না। সিঙ্গাপুর কর্তৃপক্ষ অভিবাসীদের ‘একটি অর্থনৈতিক পণ্য’ হিসেবে দেখে এবং দেশটির নাগরিকদের মতো সমান অধিকার বা স্বাধীনতা দেয় না।

সিঙ্গাপুর সরকার তীব্র সমালোচনার মুখে অভিবাসীদের বিনোদনের জন্য কিছু উদ্যোগ নিলেও জানিয়েছে, বাংলাদেশ, ভারত ও চীনের মতো দেশগুলো থেকে আসা শ্রমিকদের উপর নিষেধাজ্ঞা বজায় থাকবে। কারণ তারা যেখানে, যেভাবে বসবাস করেন, তাতে করোনা ছড়ানোর ঝুঁকি বেশি। -ডয়চে ভেলে

মন্তব্য করুন

Epaper

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

Logo

ঠিকানা: ১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

© 2021 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh

// //