সুদানে চরমপন্থীদের হামলায় নিহত ৮৩

ছবি: ডয়চে ভেলে

ছবি: ডয়চে ভেলে

সুদানের দারফুরে চরমপন্থীদের হামলায় অন্তত ৮৩ জন নিহত ও ১৬০ জনের বেশি আহত হয়েছে। এর মধ্যে অসংখ্য নারী ও শিশু আছে। 

গত শনিবার (১৬ জানুয়ারি) পশ্চিম দারফুরের আল জেনেইনা নগরীতে এই হামলার ঘটনা ঘটে। স্থানীয় ডক্টরস ইউনিয়নের বরাত দিয়ে একথা জানিয়েছে সুদানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা এসইউএনএ।

জাতিগত বিরোধ থেকেই এই ঘটনা ঘটেছে বলে মনে করা হচ্ছে। সম্প্রতি জাতিসংঘ সুদান থেকে নিরাপত্তা বাহিনী সরিয়ে নেয়ার কথা জানিয়েছিল। তারপরেই এই ঘটনা ঘটায় উদ্বেগে সাধারণ মানুষ।

সুদানের বিভিন্ন অঞ্চলে একাধিক শরণার্থী শিবির আছে। জাতিগত দাঙ্গায় বিধ্বস্ত সাধার মানুষ আশ্রয় হারিয়ে এই ক্যাম্পগুলিতে এসে থাকেন। প্রশাসন জানিয়েছে, শনিবার তেমনই একটি ক্যাম্পে দুই ব্যক্তির মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়। তাদের জাতিগত পরিচয় আলাদা ছিল। সাময়িক হাতাহাতির পর সংঘর্ষ আরো বাড়ে এবং এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়। তারপরেই বিষয়টি নিয়ে চরম উত্তেজনা শুরু হয়। মৃত ব্যক্তির পরিবার প্রথমে ভিন্ন জাতির গ্রামে আক্রমণ চালায়। তার সুযোগ নেয় চরমপন্থীরাও। গ্রামের পর গ্রামে আক্রমণ চালাতে শুরু করে তারা। নারী, শিশু কাউকে ছাড় দেয়া হয়নি।

ঘটনার কথা প্রচার পেতেই আরো বেশ কিছু ক্যাম্পেও সংঘর্ষ শুরু হয়। প্রশাসনে জানিয়েছে, গতকাল রবিবার (১৭ জানুয়ারি) মৃত্যু হয়েছে ৮৩ জনের। আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি ১৬০ জন। আজ সোমবার (১৮ জানুয়ারি) আহতের সংখ্যা আরো বেড়েছে। মৃত ও আহতদের মধ্যে বেশ কিছু নারী ও শিশু আছে।

এদিকে কিছুদিন আগেই সুদানে একনায়ক সরকারের পতন হয়েছে। নতুন সরকারকে গণতান্ত্রিক বলে চিহ্নিত করেছে জাতিসংঘ। তাদের নেতৃত্বে সুদানে ১৩ বছরের জাতিদাঙ্গা বন্ধ হবে বলে জানানো হয়েছিল। বস্তুত নতুন সরকার নির্বাচিত হওয়ার পরেই সুদান থেকে নিরাপত্তরক্ষী সরিয়ে নেয়ার ঘোষণা দেয় জাতিসংঘ। তারপরেই এই ঘটনা।

সুদানের সাধারণ মানুষের একটি বড় অংশের বক্তব্য, নিরাপত্তা বাহিনী চলে গেলে চরমপন্থীদের তাণ্ডব আরো বাড়বে। এমনিতেই বহু মানুষ সব হারিয়ে শরণার্থী শিবিরে থাকেন। সেখানেও চরমপন্থীরা হামলা চালাতে শুরু করেছে। ফলে পরিস্থিতির কোনোই উন্নতি হয়নি। -ডয়চে ভেলে

মন্তব্য করুন

Epaper

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

Logo

© 2021 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh