নাইজেরিয়ায় প্রায় ২০০ শিক্ষার্থীকে অপহরণ

গত ডিসেম্বর থেকে নাইজেরিয়ায় শিক্ষার্থী অপহরণের কমপক্ষে ছয়টি ঘটনা ঘটেছে। ছবি : আল জাজিরা

গত ডিসেম্বর থেকে নাইজেরিয়ায় শিক্ষার্থী অপহরণের কমপক্ষে ছয়টি ঘটনা ঘটেছে। ছবি : আল জাজিরা

নাইজেরিয়ার নিজার প্রদেশের একটি মাদ্রাসা থেকে প্রায় ২০০ শিশুকে অপহরণ করেছে বন্দুকধারীরা। স্থানীয় সময় গতকাল রবিবার (৩০ মে) এ ঘটনা ঘটে। সম্প্রতি দেশটিতে স্কুলে হওয়া হামলাগুলোর মধ্যে এটা সর্বশেষ ঘটনা।

নাইজার প্রদেশের কর্তৃপক্ষ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছে, রবিবার তেজিনা শহরের একটি মাদ্রাসা থেকে বেশ কিছু শিক্ষার্থীকে অপহরণ করেছে বন্দুকধারীরা। এক শিক্ষক জানিয়েছেন, কমপক্ষে ১৫০ জন শিক্ষার্থী নিখোঁজ রয়েছে। তবে অন্য প্রতিবেদনগুলোতে এই সংখ্যা প্রায় ২০০ বলে উল্লেখ করা হচ্ছে।

মুক্তিপন আদায়ের জন্য অপহরণের ঘটনা ওই এলাকায় ক্রমাগত বেড়েই চলেছে। গত ফেব্রুয়ারিতে জামফারা স্টেটের জাঙ্গেবে এলাকার একটি আবাসিক স্কুল থেকে প্রায় ৩০০ ছাত্রীকে অপহরণ করেছিল অস্ত্রধারীরা। তাদের বেশিরভাগকেই অবশ্য পরে মুক্তি দেয়া হয়েছিল।

সবশেষ ঘটে যাওয়া ঘটনায় প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে দিস ডে নামে একটি খবরের ওয়েবসাইটে জানানো হয়, অস্ত্রধারীরা মোটরসাইকেলে করে পুরো শহর চষে বেড়ায় ও এলোপাতাড়ি গুলি করতে থাকে। মানুষজন তাদের হাত থেকে বাঁচতে পালিয়ে যাওয়ার পর তারা স্কুলে ঢুকে শিক্ষার্থীদের অপহরণ করে। স্কুলটিতে ছয় বছর থেকে শুরু করে ১৮ বছর বয়সী মেয়ে ও ছেলে শিশুরা এক সাথে পড়তো।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হামলায় দুই ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ হয়েছে এবং এতে একজন মারা গেছে। এছাড়া গাড়িতে করে ঘুরছিলেন এমন বেশ কিছু মানুষকেও অপহরণ করা হয়েছে।

নাইজার পুলিশের মুখপাত্র ওয়াসিউ আবিওদুন বলেছেন, তেজিনা শহরে হামলাকারীরা মোটরসাইকেলে এসে পৌঁছায়। সালিহু টাঙ্কো ইসলামিক স্কুলে তারা গুলিবর্ষণ করে। সেখানকার একজন বাসিন্দা নিহত হন ও আরো একজন আহত হন। এরপর বন্দুকধারীরা শিশুদের অপহরণ করে নিয়ে যায়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্কুলের এক কর্মকর্তা জানান, হামলাকারীরা প্রথমে শতাধিক শিশুকে অপহরণ করেছে। পরে বয়সে বেশি ছোট হওয়ায় কয়েকটি শিশুকে আবার ফেরত দিয়ে যায়। তাদের বয়স ৪ থেকে ১২ বছরের মধ্যে।

তেজিনায় এই হামলা এমন দিনে ঘটলো যার আগের দিন প্রতিবেশী কাদুনা প্রদেশের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৪ জনকে মুক্তি দেয়া হয়। তেজিনা কাগারা শহর থেকে খুব বেশি দূরে নয়। সেখানেও গত ফেব্রুয়ারিতে ২৭ জনকে অপহরণ করা হয়েছিল।

গত ডিসেম্বর থেকে নাইজেরিয়ার উত্তর-পশ্চিম ও মধ্যাঞ্চলে শিক্ষার্থী অপহরণের কমপক্ষে ছয়টি ঘটনা ঘটেছে। এতে আট শতাধিক শিক্ষার্থী ও কর্মীদের অপহরণ করা হয়।

২০১৪ সালে উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় চিবক শহরে ইসলামি জঙ্গি গোষ্ঠী বোকো হারাম ২৭৬ জন ছাত্রীকে অপহরণের ঘটনা ঘটার পর বিশ্বজুড়ে প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়।। তবে সাম্প্রতিক হামলাগুলো সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রগুলোর কাজ বলে ধারণা রয়েছে। -বিবিসি

মন্তব্য করুন

Epaper

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

Logo

ঠিকানা: ১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

© 2021 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh