অমর একুশে বইমেলা অগ্নিঝরা মার্চে

গতকাল রবিবার অমর একুশে গ্রন্থমেলায় ক্রেতা-দর্শনার্থীর ভিড় ছিল কম।  -স্টার মেইল

গতকাল রবিবার অমর একুশে গ্রন্থমেলায় ক্রেতা-দর্শনার্থীর ভিড় ছিল কম। -স্টার মেইল

অমর একুশে বইমেলা দেরিতে হলেও শুরু হয়েছে। এবার মেলাটি মার্চের ১৮ তারিখ থেকে শুরু হয়ে চলবে ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত। এক বছর আগে বইমেলা শেষ হওয়ার পরপরই শুরু হয় মহামারি করোনাভাইরাস সংক্রমণ। সেই সংক্রমণ কাটাতে পৃথিবীজুড়ে দেশে দেশে চলেছে লকডাউনসহ নানা কভিড প্রতিরোধী পদক্ষেপ। 

এই পরিস্থিতিতে পৃথিবীর কোথাও মেলার উদ্যোগ নেয়া হয়নি। তবে বাংলাদেশ সরকার এই বইমেলার আয়োজন একটু দেরিতে করে হলেও, সৃজনশীল মানুষের মনে ঠাঁই করে নিয়েছে নতুন করে। 

দেশে অগ্নিঝরা মার্চ মাস এখন। স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তি। একইসাথে জাতির পিতার জন্মশতবর্ষও উদযাপিত হলো। দেশ একদিকে আনন্দে উদ্বেলিত, অন্যদিকে মহামারি করোনাভাইরাসের কারণে মানুষ অসহায়। এ অবস্থায় বইমেলায় আসতে পারবেন কত জন পাঠক-ক্রেতা, সে নিয়ে প্রকাশকদের মনে রয়েছে প্রশ্ন। একদিকে করোনার কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ, অন্যদিকে নতুন করে সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় প্রকাশকদের মনে প্রশ্নটি আরো দানা বেঁধেছে। সেই বইমেলা প্রাঙ্গণ এখন প্রায় জনশূন্য। গত কয়েকদিনে নতুন বই প্রকাশ হয়েছে পাঁচ শতাধিক; কিন্তু ক্রেতার ভিড় খুব কম। 


মেলার উদ্বোধন: মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি হাবিবুল্লাহ সিরাজী বলেন, ‘এবার অকালে বইমেলা হচ্ছে। আমরা ফেব্রুয়ারি মাসে না শীত, না গ্রীষ্ম এরকম পরিস্থিতিতে বইমেলা করতাম। এবার মার্চ থেকে এপ্রিলে বইমেলা। ঝড়-বৃষ্টির দাপট, পাশাপাশি করোনাভাইরাস মহামারি। এর ভেতর দিয়ে আমাদের সন্তান, বয়োবৃদ্ধ ও তরুণরা, যারা বইমেলায় অংশগ্রহণ করবে, স্বাস্থ্যবিধি মেনে ধৈর্যের সঙ্গে বইমেলায় আসবে, এটাই আমাদের কাম্য।’ 

স্টল সংখ্যা: ২০২১ বইমেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণ ও ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের প্রায় ১৫ লাখ বর্গফুট জায়গায়। একাডেমি প্রাঙ্গণে ১০৭টি প্রতিষ্ঠানকে ১৫৪টি ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ৪৩৩টি প্রতিষ্ঠানকে ৬৮০টি স্টল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে এবারের বইমেলায় মোট ৫৪০টি প্রতিষ্ঠানকে ৮৩৪টি স্টল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। মেলায় মোট ৩৩টি প্যাভিলিয়ন থাকছে।

গত বছরের মতো লিটল ম্যাগাজিন চত্বর স্থানান্তর করা হয়েছে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের মূল মেলাপ্রাঙ্গণে। সেখানে ১৩৫টি লিটলম্যাগকে স্টল বরাদ্দের পাশাপাশি পাঁচটি উন্মুক্ত স্টলসহ ১৪০টি স্টল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। তবে মেলার দ্বিতীয় দিন থেকে লিটল ম্যাগাজিন সম্পাদকরা বরাদ্দকৃত স্থানে মেলা করতে আগ্রহী না- এই দাবি জানিয়ে স্থান বদলের জন্য ধর্মঘট ডাকেন ও তাদের স্টল বন্ধ রাখেন। দ্বিতীয় দিন শেষে বাংলা একাডেমি কর্তৃপক্ষ এসে স্থান বরাদ্দের দাবি মেনে নেয়। পরবর্তীতে গত বছরের স্থানেই লিটলম্যাগ চত্বর স্থানান্তরের কাজ শুরু হয়। মেলায় প্রতি বছর যেভাবে প্রচার-প্রচারণা দেখা যায় লেখক-প্রকাশকদের মধ্যে, সে বিষয়ে এবারে ঘাটতি দেখা গিয়েছে। মেলায় আসা এমন পাঠক-ক্রেতাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, বইমেলা যে হচ্ছে সেই খবরটিও তারা জানেন না। 


মেলার বাইরের টিএসসির গেট যেভাবে দর্শক-ক্রেতাদের জন্য খুলে দেয়া হয়েছে তাতে করোনাকালে চলাচলে সুবিধা হওয়ারই কথা। মেলায় ঘুরে ঘুরে যারা বই কেনেন অবশেষে ক্লান্ত হন, ক্ষুধার্ত হয়ে পড়েন তাদের জন্য রয়েছে ফুডকোর্ট। তবে মেলার মাঠের অব্যবস্থাপনা বিশেষত বালি উড়তে থাকে হালকা হাওয়ায়। স্টলের কাজ এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত বহাল ছিল কয়েকটিতে। ফলে ময়লার স্তূপ, আবর্জনাও চোখে পড়েছে। আমরা আশা করি, মেলায় এত সমস্যা থাকার পরেও শেষাবধি জমে উঠবে প্রিয় বইমেলা। 

অমর একুশে বইমেলা ছুটির দিন ব্যতীত প্রতিদিন বিকেল ৩টা থেকে শুরু হয়ে রাত ৯টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। ছুটির দিন বেলা ১১টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত চলবে মেলা।

মন্তব্য করুন

Epaper

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

Logo

ঠিকানা: ১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

© 2021 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh