চৈত্রশেষের অষ্টকগান: নিম্নবর্গের মানুষের হৃদস্পন্দন

রাজধানী ঢাকা থেকে দক্ষিণের জেলা যশোর। এই জেলার কেন্দ্র থেকে পূর্বে ১৫ কি.মি দূরের গ্রাম বলরামপুর। গ্রামের প্রয়াত চিত্তরঞ্জন বিশ্বাসের উঠোনে কথা হচ্ছিল দুই অষ্টকগানের শিল্পীর সাথে। দিনটা ছিল শনিবার ২৭ চৈত্র, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ (১০ এপ্রিল, ২০২১)। চিত্তরঞ্জন নিজেও একসময় এ গানের শিল্পী ছিলেন। 

তার একমাত্র ছেলে উজ্জ্বল বিশ্বাস। স্থানীয় একটি পত্রিকার সাংবাদিক। প্রতিবেশি দুই ঠাকুরমা গীতারাণী বিশ্বাস ও পুস্পরাণী বিশ্বাস। উজ্জ্বলকে সাথে করেই কথা শুরু করলাম।সহোদরা দুজন প্রাণোচ্ছ্বল-প্রাণবন্ত।

অষ্টকগানের শিল্পী ছিলেন গীতা রাণী। তার বয়স এখন সত্তর। তার দুই ছেলেও এই গান করত। বড় ছেলে, মেঝ ছেলে। গ্রামের বহু, ছেলে মেয়ে এ গানে যুক্ত ছিল। এই গান নিম্নবর্গের মানুষের হৃদস্পন্দন। তাদের সাথে কথা বলে এটাই জানা গেল। হিন্দু-মুসলিমের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় অষ্টকগানের দল গঠন করা হতো।

গীতারাণী বলেন, আমি ছিলাম অষ্টকগানের শিল্পী। আমার আরো দুই বোন তারাও এ গান গেয়েছে। বহু বছর আগে এ গান এখান থেকে হারিয়ে গেছে।গীতার সহোদরা পুষ্পরাণী বিশ্বাস। গীতা পরিচয় করিয়ে দিলেন, তাদের সাথে এই বোনও গান করতেন। পুষ্পও কথা শুরু করলেন। মূলত গীতার চেয়ে পুষ্প চটপটে বেশি। তার কথা-বার্তায় তেমনই মনে হলো। পুষ্প গান ধরলেন, তার সাথে গীতাও তাল মেলাতে থাকলেন। গাইতে গাইতে নাচতে শুরু করলেন। পুষ্প বলেন, এটা গানের অংশ। এটা না করলে পালায় প্রাণ পাবে না।

বইয়ের ভাষায় অষ্টকগান
গীতা ও পুষ্প তারা দুজন শিল্পী, এটাই ওদের পরিচয়।বিদ্যায়তনিক শিক্ষা বলতে তেমন তাদের কিছু নেই। লোকশিক্ষায় তারা শিক্ষিত।তাই অষ্টকগানের বিস্তারিত জানতে বইয়ের দ্বারস্থ হই।

বাংলাদেশের বিশিষ্ট লোকসংস্কৃতির গবেষক, ওয়াকিল আহমদ। তিনি “বাংলার লোক-সংস্কৃতি”-বইতে লিখেছেন, “অষ্টক গান বা অষ্টক নাচ পশ্চিমবঙ্গের ও বাংলাদেশের প্রাচীন লোকজসংস্কৃতির একটি অন্যতম প্রধানধারা। এটি সাধারণত 'বাঙালি হিন্দু' সমাজে চৈত্র সংক্রান্তির নানাবিধ আচার-অনুষ্ঠানের সময় পরিবেশিত হয়ে থাকে। 

সাধারণভাবে, চৈত্র মাসের শেষ-তিন দিন “গাজন উৎসব”-এর আনুষঙ্গিক “নীলের বা শিবের গাজন” উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন স্থানে, বিশেষত দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে সংগঠিত লোকজ মেলায় বিভিন্ন ধরনের গান ও আচার-অনুষ্ঠানাদিতে অন্যতম প্রধান আনুষঙ্গিক পরিবেশনা হিসেবে আয়োজন করা হয় অষ্টক গান ও নাচ। 

কোলে আয় প্রাণরাম, ক্ষুদিরাম
অষ্টকগানের ভাষা আটপৌরে ও অতি সাধারণ হলেও এর আবেগ ও ভাবের প্রকাশ খুব হৃদয়গ্রাহী ও মনোমুগ্ধকর। এ কথার প্রমাণ পাওয়া গেল গীতা ও পুষ্পরাণীর কণ্ঠেও। তারা অনুরুদ্ধ হয়ে ফিরে গেলেন অতীত দিনে। শুরু করলেন গান-“কোলে আয় প্রাণরাম, ও ক্ষুদিরাম, দুখিনীর সন্তান,/ ও জীবনে আর পাবোনা তো, আয় ভাই জন্মের মতো/ও... ও..., ও তোর বুকে নিয়ে জুড়ায় এ জীবন/ ও... ও..., ও...” দুবোন গাইছেন, আর চোখের জলে ভাসাচ্ছেন বুক।

বোঝা যায় শুধু পৌরাণিকতা নয়, সাম্প্রতিক বিষয়ও গানে উঠে এসেছে।

গ্রামের মানুষেরা আহ্বান জানাত, ‘আস, তোমরা আমাদের বাড়ি গাও।’ গেয়ে গেয়ে টাকা পেতেন তারা। মানুষ তাদের খুব কদর করত। তাদের সাথে “পাট” থাকত। পাট মাটিতে নামিয়ে শুরু করত গান।পাট নৌকার সম্মুখের অংশের মত।গীতা বলেন, এটাকে স্নান করিয়ে মন্ত্রপাঠ করে, তেল মাখালে আবার তাজা হয়ে ওঠে। উৎসব শেষ হলে এই বস্তুটাকে গোয়াল ঘরে বেধে রেখে দেওয়া হয়। 

এ গান হারিয়ে যাওয়ার বেদনা তাদের চোখে মুখে পরিদৃশ্য হলো।এই বয়সেও এখনো আফসোস, যদি কেউ অষ্টকগানের আয়োজন করে ডাকত, আবার একটু গাইতে পারতেন। তারা জানান, এখন আর অষ্টক গান হয় না ঠিকই, কিন্তু নাম যজ্ঞ থেমে নেই। পার্বণ ধর্মের চাকায় আটকে গেছে। 

এটা দক্ষিণ পশ্চিম থেকে হারিয়ে গেছে কবে বলে মনে হয়? এ প্রশ্নের উত্তর দিলেন উজ্জ্বল বিশ্বাস। তিনি বলেন, তা বছর বিশেক হবে।বিশ বছর আগেও আমরা দেখেছি এ গান।আমার বাবাও এর সাথে জড়িত ছিলেন।

অষ্টকগান দক্ষিণ-পশ্চিমের গ্রামকে গ্রাম গাওয়া হত। ঝিনাইদহ, মাগুরা, যশোর, ফরিদপুর, সাতক্ষীরা, খুলনাঞ্চলে সাধারণত এ গানের প্রচলন ছিল। 

গানের আয়োজনের নেপথ্যে মুসলমানরাও থাকতেন। গীতা আমাদেরকে জানালেন, তাদের সময়ে গ্রামে জলিল নামে একজন ছিলেন।এখন বুড়ো হয়ে গেছেন। তাদের শাড়ি পরিয়ে দিতেন, মেকআপ করে দিতেন।সিদ্দিক মোল্যা দলের টাকার ব্যবস্থা করতেন। সারা ফাল্গুনজুড়ে চলত রিহার্সেল।গ্রামের গরীব-ধনী সবাই মিলে চাঁদা তুলে শিল্পীদের বাঁচিয়ে রাখতেন।যিনি তাদেরকে রিহার্সেল দিতেন তাদের মাস্টার বলা হত। এই মাস্টারদের চুক্তিভিত্তিক টাকা দিয়ে আনা লাগত।

পাশ থেকে অমলা মাসি সায় দিলেন, স্মৃতি হাতড়াতে সাহায্য করলেন। কারণ তার স্বামীও একদিন এই অষ্টকদলে থেকে গান করেছেন।তাদের সাথে কথা বলে এই অঞ্চলের কিছু সুখ্যাত শিল্পীর নাম জানা যায়। এরা হলেন, ঝিনাইদহ জেলার স্বরূপ চন্দ্র বিশ্বাস, নিরাপদ বিশ্বাস, রঞ্জিত কুমার বিশ্বাস ও বিষ্ণুপদ মণ্ডল। নড়াইল জেলার স্বভাবকবি বিপিন সরকার,  সুবোধ বিশ্বাস, হাতিয়ারার নিখিল গোস্বামী,কুষ্টিয়া জেলার হোসেন আলী।

অষ্টক নিয়ে আরও কথা
চড়কের একটি অন্যতম অঙ্গ হলো অষ্টক গান। অষ্টক হলো রাধা কৃষ্ণের প্রেমকাহিনী নির্ভর গান। আর চড়ক হলো শিব পুজোর অনুষ্ঠান। কিন্তু কী কারণে এবং কখন থেকে শিব পুজোর এই অনুষ্ঠানের সঙ্গে রাধা-কৃষ্ণের প্রেমের গানের সংযোগ ঘটেছে তা নির্দিষ্ট করে বলা যায় না। তবে দক্ষিণ-পশ্চিমের চড়কের সঙ্গে অষ্টকগান অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িয়ে আছে। বাংলাদেশের যশোর, খুলনা, সাতক্ষীরা, নড়াইল, বাগেরহাট, মাগুরা, ঝিনাইদহ, কুষ্টিয়া, বরিশাল, ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ ইত্যাদি জেলার চড়ক পুজোয় অষ্টক গান পরিবেশিত হতে দেখা যেত।

আমরা জানি বাংলার লোকজ উৎসবের অন্যতম প্রধান ধারা “গাজন”-এর শাখা “নীলের বা শিবের গাজন” অনুষ্ঠিত হয়। এ উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন স্থানে, বিশেষত দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে জমে ওঠে এক-ধরনের লোকজ মেলার, যা চৈত্রের শেষ-তিন দিন বিভিন্ন ধরনের গান ও আচার-অনুষ্ঠানাদি। এর মাধ্যমে শেষ হয় চৈত্র। আসে বৈশাখ। মূলত এ অঞ্চলের কৃষিজীবী মানুষ তাদের চলমান ঐতিহ্য অনুসারে পরিবেশন করে থাকে অষ্টকগান। এটা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান অবতার ভগবান শ্রীকৃষ্ণ ও তার প্রেয়সী শ্রীরাধিকা দেবীর প্রণয়-লীলার পটভূমিতে রচিত। 

পরিবেশনার ধরন
অষ্টক গান পরিবেশনার দুটি ধরন রয়েছে;  এক.পাট নাচানির সময় পালা গানের সহায়ক হিসেবে; যেখানে গ্রামের ছোট ছেলে-মেয়েরা রাধা-কৃষ্ণ এবং সখী সেজে প্রেমের গান গায় এবং দুই. “চৈত্র-সংক্রান্তি”-এর দিন রাত্রে যাত্রা-পালার মাধ্যমে; যেখানে অভিনয়ের মাধ্যমে সংলাপ ও গানে কৃষ্ণ ও রাধার প্রেম-লীলার আখ্যান পরিবেশিত হয়। 

গানের ভাষা ও ভাব
অষ্টক গানের ভাষা আটপৌরে ও অতি সাধারণ হলেও এর আবেগ ও ভাবের প্রকাশ খুব হৃদয়গ্রাহী ও মনোমুগ্ধকর। এই গান সাধারণত খেয়ালের ঢঙে গাওয়া হয় এবং গানে স্থায়ী ও অন্তরা নামে দুটি স্তবক থাকে; যাতে অন্তরাগুলি ভগ্ন ত্রিপদীর আঙ্গিকে রচিত। শিব ও অন্যান্য অবতারদের সম্পর্কে গাওয়া গানগুলোতে হালকা রসের মাধ্যমে শিব-পার্বতীর দাম্পত্য জীবনের দ্বন্দ্ব ও ভালাবাসার প্রকাশ এবং সংশ্লিষ্ট অবতারের মহিমা ও যাপিত জীবনালেখ্য দেখানো হয়; আর কৃষ্ণ-রাধার সম্পর্কিত গানগুলোতে অণুরাগ-অভিমানের প্রাধান্য থাকে। 

পরিবেশকগোষ্ঠী
১০ থেকে ১২ জন শিল্পী নিয়ে অষ্টকগানের দল বা গোষ্ঠী গঠিত হয়; আর তারা দুটি দলে বিভক্ত হয়ে গান ও নাচ পরিবেশন করে থাকে। এতে একজন প্রধান গায়েন (যিনি সূত্রধর বা “সরকার” নামে পরিচিত), একজন করে কৃষ্ণবেশি বালক ও রাধাবেশি বালক (ক্ষেত্র বিশেষে বালিকা) থাকে; এ ছাড়াও একজন পরিচালক বা পরিবেশক এবং আরও তিন বা ততোধিক পরিবেশনকারী থাকেন। সূত্রধর বা “সরকার” গানের শুরু ও গতি-প্রকৃতি নিয়ন্ত্রণ করেন এবং তার নির্দেশ অনুসারেই অন্যান্য কুশীলব রীতিনীতি ও প্রয়োজনীয় তাল-লয় ও ধাপসমূহ রক্ষা করে পরিবেশনা সচল রাখে; আর এতে কখনো জোরালো ও চটুল-আবার কখনো ধীরলয়ে গাইতে থাকা গানের মধ্যে মধ্যে চলতে থাকে নাচের প্রদর্শন। 

ব্যবহৃত বাদ্যযন্ত্র
অষ্টকগান পরিবেশনে বাঁশি, ঢোল, হারমোনিয়াম, মন্দিরা ও খোল বা মৃদঙ্গ, করতাল, ঘুঙুর ইত্যাদি বাদ্যযন্ত্র ব্যবহৃত হয়। এই সব বাদ্যযন্ত্রীদেরকে বিভিন্ন নামে সম্বোধন করা হয়, যেমন-খুলি, হারমোনিয়াম মাস্টার ইত্যাদি। 

পরিবেশনার পদ্ধিত
অষ্টক গান সূচনার পূর্বে উঠোন বা মঞ্চের মাঝখানে দাঁড়িয়ে বাদ্যযন্ত্রীরা প্রথমে জনপ্রিয় কোনো-একটি দেশাত্মবোধক গানের সুরে সম্মিলিত বাদ্য বাদন শুরু করেন এবং এর সঙ্গে সঙ্গে উঠোনের একপাশ থেকে কৃষ্ণ, রাধা ও তার অষ্টসখী দুই বাহু তুলে বাদ্যের তালে তালে নাচতে নাচতে বাদ্যযন্ত্রীদের সামনের অভিনয়স্থলে এসে বৃত্তাকারে কয়েকবার প্রদক্ষিণ করেন।এরপর বাদন শেষে কৃষ্ণ এবং রাধাসহ সখীরা দুই দলে বিভক্ত হয়ে মুখোমুখি দাঁড়িয়ে বন্দনা পর্বের সূচনা করে; এক্ষেত্রে শ্রীকৃষ্ণ-রূপী অভিনেতার মুখোমুখি শ্রীরাধিকা ও সখী-রূপী অভিনেতারা জোড়হাতে বসে বন্দনার সূচনা করেন এবং বন্দনার একটি অন্তরা শেষে তারা বসা অবস্থা থেকে জোড়হাতে দেহের উপরের অংশ ঘোরাতে ঘোরাতে উঠে দাঁড়ায়, কিন্তু পরবর্তী অন্তরা শুরুর আগেই বসে যায় ও নতুন অন্তরা শুরু করে। বন্দনায় সাধারণত দেবী সরস্বতী স্তুতি করা হলেও কখনো কখনো পিতা-মাতা, শিক্ষাগুরু প্রমুখেরও স্তুতি করা হয়। বন্দনার পর শুরু হয় মূল পালা যেখানে “সরকার”, যিনি কৃষ্ণ চরিত্রেও অভিনয় করেন, বর্ণনা করেন এবং এর প্রত্যুত্তরে থাকে রাধার কথকতা। 

পরিবেশনার মঞ্চ
অষ্টক গান শিল্পী ও বাদ্যকরেরা সবক্ষেত্রেই দাঁড়িয়ে থেকেই এর পরিবেশনা প্রদর্শন করে থাকে। রাত্রিকালীন অষ্টকগান পরিবেশনার জন্য কোনো কোনো ক্ষেত্রে মঞ্চ ব্যবহার করা হয় যার সুনির্দিষ্ট কোনো আকৃতি নেই; সাধারণ যাত্রা-পালার মঞ্চেই এটি পরিবেশিত হয়। আর দিনের বেলায় পরিবেশনার ক্ষেত্রে কুশীলবরা বাড়ির উঠোনে তাদের সুবিধামতো স্থানে অবস্থান নিয়ে অষ্টকগান পরিবেশনা করে এবং দর্শকগণ উঠোনের চারপাশে ও ঘরের বারান্দায় বসে বা দাঁড়ায়ে তা উপভোগ করে। 

কলাকুশলীদের সাজ-সজ্জা
অষ্টকগান পরিবেশনার সাথে যুক্ত শিল্পীরা সাজ-সজ্জায় বিভিন্ন ধরনের রং ও প্রসাধনী সামগ্রী ব্যবহার করে থাকেন; যেমন-স্নো, পাউডার, কাজল, আলতা, কিছু রাসায়নিক দ্রব্য প্রভৃতি।কুশীলবদের পোশাক সব-সময় বর্ণিল ধরনের হয়ে থাকে, যেমন-কৃষ্ণ চরিত্রে রূপদানকারী শিল্পী জরির কাজ করা আঁটসাঁট একটি কটি-বস্ত্র ও ধুতি পরে, আবার রাধা ও তার সখী চরিত্রে রূপদানকারীরা উজ্জ্বল রংয়ের শাড়ি পরিধান করেন। আর পরিবেশনার সাথে যুক্ত অন্যান্য কুশীলব সাধারণত তাদের প্রাত্যহিক জীবনে ব্যবহার্য পোষাকই পরিধান করে।এই সাজ-সজ্জা বাড়ির উঠোনের এক কোণে ঘেরা-টোপ দিয়ে তৈরি আচ্ছাদনস্থলে গ্রহণ করা হয়। 

শ্রোতাদের শ্রেণি
অষ্টক গান সাধারণত নিম্নবর্ণের সনাতন ধর্মাবলম্বী ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠী, যেমন-দাস, নমশুদ্র, ঘরামি, জেলে, জোলা ও রাজবংশীরা পালন ও উপভোগ করে থাকে। এটি সাধারণত বাড়ি বাড়ি ঘুরে ঘুরে পরিবেশন করা হয় বলে সকল বয়সের ব্যক্তিই এর দর্শক-শ্রোতা। 

শেষ হইয়াও হইলো না শেষ
যে যেভাবেই বলুক না কেন, এটা অনস্বীকার্য অষ্টকগান লোকসংগীতের অন্যতম একটি অধ্যায়। অকৃত্রিম অভিনয়, আর ভক্তিময়তায় ভাস্বর এ সংগীত।লোকসংস্কৃতির যেমন উপদান এটি, তেমনি নিম্নবর্গের মানুষের আকুল ভালোবাসায় বেধে রেখেছে বিনিসুতোর মালায়।আমাদের সংস্কৃতির বিচিত্ররূপ নিয়ে যেমন আমরা গর্ব করতে পারি, তেমনি তার এই ভাববস্তুও আমাদের গৌরবের বিষয়। এ গানের ঐতিহ্যকে রাষ্ট্রের পৃষ্ঠপোষকতায় ফিরিয়ে আনা দরকার।রবীন্দ্রনাথ বলেছেন,-“দেশের লোকসংস্কৃতির মধ্যে অতীতযুগের সংস্কৃতির এমন বহু নিদর্শনাদি সংগুপ্ত আছে যেগুলো আমাদের জাতির পূর্ণাঙ্গ ইতিহাস রচনার মূল্যবান উপকরণ হতে পারে।”

বিষয় : বৈশাখ

মন্তব্য করুন

Epaper

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

Logo

ঠিকানা: ১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

© 2021 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh