অ্যালেক্সি নাভালনির স্মৃতিকথা

রাশিয়ার বিরোধীদলীয় নেতা অ্যালেক্সি নাভালনি। জীবনের শেষ দিনগুলো কারাবাসেই কেটেছিল তার, কারাগারে বন্দি থাকতেই মৃত্যু হয়েছে। তবে মৃত্যুর আগে কারাবাস ও রাশিয়ার রাজনীতি নিয়ে স্মৃতিকথা লিখেছিলেন কট্টর পুতিনবিরোধী এই নেতা। এ বছরের অক্টোবরে সেই স্মৃতিকথা বই আকারে প্রকাশ হবে বলে বিবিসি জানিয়েছে। বইটি প্রকাশ করবে ভিনটেজ। প্রকাশক ভিনটেজ বিবিসিকে জানিয়েছে, ‘অ্যালেক্সি নাভালনি পুরো স্মৃতিকথা নিজেই লিখেছেন।’

রাশিয়ার এই বিরোধী নেতাকে ২০২০ সালে নার্ভ এজেন্ট প্রয়োগ করা হয়েছিল। সেবার বিষক্রিয়া থেকে সেরে ওঠার পর বইটি লেখা শুরু করেন। ভিনটেজ বলেছে, ‘এই স্মৃতিকথা হবে নাভালনির জীবনের পুরো কাহিনি। সেখানে থাকবে তরুণ বয়সের কার্যক্রম, রাজনৈতিক সক্রিয়তা, বিয়ে ও পরিবারের কথা। আরও থাকবে রাশিয়ার গণতন্ত্র ও স্বাধীনতার প্রতি তার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ মনোভাব ও লড়াইয়ের দীর্ঘ গল্প, যে জন্য বারবার তার কণ্ঠ রোধ করা হয়েছিল।’ এই প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান আরও বলেছে, ‘নাভালনি বিশ্বাস করতেন, পরিবর্তন একদিন আসবেই, সারাজীবন মানুষকে দমিয়ে রাখা যাবে না।’ ভিনটেজের মতে, এই বইটিতে কিছু গোপন নথি ও চিত্র থাকবে। যেমন-রাশিয়ার কারাগারের যে কথা কেউ কখনো জানতে পারেনি, কিছু চিঠিপত্র। নাভালনি তার লেখায় রাজনৈতিক ক্যারিয়ার, তার ওপর বারবার হামলার চেষ্টা এবং একনায়কতান্ত্রিক শাসনের বিরুদ্ধে তিনি ও তার কাছের লোক এবং রাজনৈতিক দলের প্রচারণার বর্ণনা করেছেন।

নাভালনির স্ত্রী ইউলিয়া বলেন, ‘এ বইটি শুধু নাভালনির বায়োগ্রাফি নয়, বরং স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে তার লড়াই ও অবিচল অঙ্গীকারের সাক্ষ্য। যে লড়াইয়ের কারণে তাকে জীবন পর্যন্ত দিতে হয়েছে। তবু তিনি অন্যায়ের সঙ্গে আপস করেননি। এর পাতায় পাতায় পাঠকরা জানতে পারবেন, নাভালনির সততা ও অদম্য সাহসের কথা।’

ইউলিয়া মনে করেন, এ বইটি অন্যদের অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে অনুপ্রাণিত করবে। বইটি প্রকাশিত হলে তার মূল্যবোধগুলো আর হারিয়ে যাবে না। ২০২০ সালে অ্যালেক্সি নাভালনি নার্ভ এজেন্ট প্রয়োগে অসুস্থ হয়ে পড়লে জার্মানিতে চিকিৎসা দেওয়া হয়। এর পর সুস্থ হয়ে ২০২১ সালে রাশিয়ায় ফেরার পর কারাগারে পাঠানো হয়। মৃত্যুর কিছুদিন আগে তাকে রাশিয়ার সবচেয়ে ভয়ঙ্কর একটি কারাগারে স্থানান্তর করা হয়েছিল। তার মৃত্যুর কারণ নিয়েও ধোঁয়াশা রয়েছে। অবশ্য কারা বিভাগের মতে, তিনি হাঁটতে গিয়ে জ্ঞান হারান, তারপর তার মৃত্যু হয়। কিন্তু নাভালনির ঘনিষ্ঠ মিত্র ইভান ঝদানভের অভিযোগ, ‘নাভালনিকে হত্যা করা হয়েছে।’ ভিনটেজ প্রাথমিকভাবে বইটির নাম ঠিক করেছে “নাভালনি’স ফাইনাল লেটার টু দ্য ওয়ার্ল্ড”। তারা বইটিকে ‘পৃথিবীর সবচেয়ে নৃশংস কারাগারে কাটানো শেষ জীবনের বিবরণ’ হিসেবে অভিহিত করেছে।

সাম্প্রতিক দেশকাল ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

Epaper

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

Logo

ঠিকানা: ১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

© 2024 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh

// //