মাত্র আড়াই সেকেন্ডে বাঁচানো যেতো আবেকে!

গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যাওয়া জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবেকে নিরাপত্তারক্ষীরা বাঁচাতে পারতেন। হত্যাকাণ্ডের ভিডিওচিত্র পর্যালোচনা করে এমন মতামত দিয়েছেন আটজন নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ। মঙ্গলবার (১৯ জুলাই) বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ খবর জানানো হয়।

নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের দাবি, আবেকে লক্ষ্য করে চালানো প্রথম গুলি লক্ষ্যভেদ করতে ব্যর্থ হয়। দ্বিতীয় দফায় গুলি এসে তার পিঠে লাগে। মাঝখানে আড়াই সেকেন্ড সময়ের ব্যবধান ছিল।

এই সময়ে যদি নিরাপত্তারক্ষীরা আবেকে সেখান থেকে সরিয়ে নিত অথবা ঢাল হয়ে দাঁড়াত তাহলে হয়তো জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে বাঁচানো যেত।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, দ্বিতীয় দফা গুলি থেকে আবেকে রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে নিরাপত্তারক্ষীরা। যা দেশটির ধারাবাহিক নিরাপত্তা ত্রুটির বহিঃপ্রকাশ বলে মনে হচ্ছে।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী ফুমিও কিশিদা ও দেশটির কর্তৃপক্ষ শিনজো আবের নিরাপত্তা ত্রুটির বিষয়টি স্বীকার করেছে। পুলিশ বলছে, বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে তারা।

আটজন নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ ছাড়াও ছয়জন প্রত্যক্ষদর্শীর সঙ্গে কথা বলেছে রয়টার্স। এ ছাড়া শিনজো আবে হত্যার ঘটনায় অনলাইন মাধ্যমে প্রকাশিত একাধিক ভিডিও চিত্র পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখেছে। এসব ভিডিও বিভিন্ন দিক থেকে ধারণ করা। এসবের মাধ্যমে গুলির আগে নিরাপত্তা ব্যবস্থার সব বিষয় এক করেছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন যখন প্রেসিডেন্ট প্রার্থী তখন তার নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিল গ্লোবাল থ্রেট সলিউশন নামের একটি প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান কেনেথ বোমবাস বলেছেন, হামলাকারী প্রধানমন্ত্রীর পেছনের দিকে হাঁটছিলেন। তাঁদের (নিরাপত্তারক্ষীদের) এটা দেখে হামলাকারীকে আটকানো উচিত ছিল।

জাপানের স্থানীয় সংবাদপত্র ইয়োমিউরি বলেছে, হামলাকারী তেতসুইয়া ইয়ামাগামি প্রথম গুলিটি করার আগে আবে যেখানে দাঁড়িয়ে ছিলেন সেখান থেকে প্রায় ৭ মিটার বা ২৩ ফুট দূরত্বের মধ্যে এসেছিলেন। ওই গুলিটি লক্ষ্যভেদে ব্যর্থ হয়। এরপর তিন মিটার দূরে থেকে আবের পিঠে দ্বিতীয় গুলিটি করেন।

সিআইএর সাবেক কর্মকর্তা জন সলটিস বলেছেন, দেহরক্ষীরা আবের চারপাশে এককেন্দ্রিক নিরাপত্তা বলয় তৈরি করে রেখেছিল বলে মনে হয়নি।

প্রসঙ্গত, গত ৮ জুলাই সকালে জাপানের পশ্চিমাঞ্চলীয় নারা শহরে নির্বাচনী পথসভায় বক্তব্য দেওয়ার সময় এক ব্যক্তি হাতে বানানো অস্ত্র দিয়ে পেছন থেকে আবেকে গুলি করেন। এর কয়েক ঘণ্টা পর হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।

সাম্প্রতিক দেশকাল ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad

মন্তব্য করুন

Epaper

সাপ্তাহিক সাম্প্রতিক দেশকাল ই-পেপার পড়তে ক্লিক করুন

Logo

ঠিকানা: ১০/২২ ইকবাল রোড, ব্লক এ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭

© 2022 Shampratik Deshkal All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh

// //