
ছবি : সংগৃহীত
গত কয়েকদিনে
প্রবল বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যায় সিলেট ও সুনামগঞ্জে পানিবন্দি প্রায় ৫০
লাখ মানুষ। সহায়তা পেতে মরিয়া এই বানভাসিরা। তাই সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে অনেকেই
যাচ্ছেন সিলেটের বন্যার্তদের কাছে। কিন্তু মাত্রাতিরিক্ত ভাড়ার কারণে তাদের উদ্ধারে
স্বজনরাও নৌকা নিয়ে তাদের কাছে পৌঁছাতে পারছেন না। স্থানীয় নৌকার মাঝিরা প্রতি ঘণ্টার
জন্য ভাড়া চাচ্ছেন কখনও ৩০ হাজার, আবার কখনও ৫০ হাজার। এই ভাড়া কখনো কখনো ঠেকেছে এক
লাখেও।
সিলেটের গোয়াইনঘাট
উপজেলার সালুটিকর থেকে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার তেলিখালের দূরত্ব প্রায় ১০ কিলোমিটার।
এই ১০ কিলোমিটার দূরত্বে যাওয়ার জন্য নৌকা ভাড়া ৫০ হাজার টাকা দাবি করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন
যাত্রীরা। অথচ, স্বাভাবিক সময়ে এই পথটুকু নৌকায় যেতে ৮’শ
থেকে ১ হাজার টাকা খরচ হয়।
গ্রামে অন্তঃসত্ত্বা
পানিবন্দি স্ত্রীকে উদ্ধার করতে সিলেট থেকে গিয়েছেন চাকরিজীবী মারুফ। কিন্তু নৌকা খুঁজে
পাচ্ছিলেন না। তিনি জানান, স্ত্রীকে আনার জন্য একটি নৌকা ভাড়া করতে এসেছিলাম, কিন্তু
৫০ হাজার টাকার নিচে কোনো নৌকা যেতে চাচ্ছে না। আমি ৪০ হাজার পর্যন্ত বলেছি। কেউ যায়নি।
এদিকে বন্যায়
আটকে পড়াদের জন্য ত্রাণ সহায়তা নিয়ে সিলেট শহর থেকে অসংখ্য মানুষ সালুটিকর ঘাটে গেলেও
অতিরিক্ত নৌকা ভাড়ার কারণে তারা পিছিয়ে আসতে বাধ্য হচ্ছেন।
সিলেটে বন্যার্তদের
জন্য সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন কণ্ঠশিল্পী তাসরিফ খান। ছুটে গেছেন সিলেটে। সেখানকার
ঘটনার বর্ণনা দিয়ে ফেসবুক পেজে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে নৌকা ভাড়ার নৈরাজ্যের কথা জানান
তিনি।
স্ট্যাটাসে
তাসরিফ লিখেন, ‘আজ (শুক্রবার) সিলেটের কোম্পানিগঞ্জ গিয়েছিলাম একজন অন্তঃসত্ত্বা মহিলাকে
উদ্ধার করার জন্যে। জানেন? এখানে কোনো কোনো নৌকা এক ঘণ্টার জন্যে ৫০ হাজার, এক লাখ
টাকাও চাইছে। ওরাই বা কি করবে ওদের তো সব গেছে।’
শুক্রবার সিলেট
শহর থেকে কিছু মাদ্রাসা শিক্ষার্থী লেগুনায় করে ত্রাণ নিয়ে সালুটিকর ঘাটে গিয়েছিলেন।
কিন্তু তাদের কাছে ৪০ হাজার টাকা ভাড়া চাওয়া হয়। পরে পিছিয়ে আসে তারা।
এব্যাপারে মাদ্রাসার
এক শিক্ষার্থী জানান, ব্যক্তিগত উদ্যোগে ত্রাণ নিয়ে যেতে চাচ্ছিলাম। কিন্তু অতিরিক্ত
ভাড়ার কারণে নৌকা নিতে পারছি না।
এদিকে ত্রাণ
কার্যক্রম ও উদ্ধার তৎপরতার জন্য অতিরিক্ত ভাড়া দিতে রাজি হলেও কেউ কেউ নৌকা পাচ্ছেন
না বলেও জানান।
এই ভোগান্তির
শিকার হয়েছেন সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. মজিবর রহমানও। তিনি জানান, অতিরিক্ত ভাড়া দিয়েও
উদ্ধার কাজের জন্য প্রয়োজনীয়সংখ্যক নৌকা তারাও পায়নি। এসময় বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয়
ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।